Thursday, October 3, 2024

কোন সারের কি কাজ জেনেনিন এই প্রতিবেদনে - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

কোন সারের কি কাজ:
আমরা কৃষি জমিতে সবাই বিভিন্ন রকম সার ব্যবহার করি। কিন্তু কোন সার ফসলের জন্য কি কাজ করে তা আমরা অনেকে জানি আবার  জানি না, এমনকি জানার চেষ্টাও করিনা। কিন্তু ভাল ফসল উৎপাদনের জন্য এটা জানা খুবই জরুরী। নিচে কোন প্রকার রাসায়নিক সারের কি কাজ তা সংক্ষেপে তুলে ধরলাম। 

ইউরিয়াঃ 🌿
ইউরিয়া সার গাছের ডালপালা, কান্ড ও পত্রের বৃদ্ধি সাধন করে। এই সার গাছপালাকে গাঢ় সবুজ রং প্রদান করে। এর নাইট্রোজেন পাতার সবুজ কণিকা বা ক্লোরফিলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং উদ্ভিদের প্রোটিন উৎপাদনে সহায়তা করে।

টিএসপিঃ 🌿
টিএসপি, ডিএপি বা ফসফেট জাতীয় সারের ফসফরাস গাছের প্রথম পর্যায়ের বৃদ্ধি ত্বরান্বিত করে। এছাড়া উদ্ভিদের জীবকোষের বিভাজনে অংশগ্রহণ করে এবং গাছের মূল বা শিকড়ের গঠন ও বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তাছাড়া সময় মতো গাছকে ফুল ও ফলে শোভিত করে এবং ফলের পরিপক্কতা ত্বরান্বিত করে। 

পটাশঃ 🌿
এমপি সার বা পটাশ সারের পটাশিয়াম পাতার ক্লোরফিল তৈরির অবিচ্ছেদ্য অংশ যা শর্করা প্রস্তুতিতে সহায়তা এবং সেগুলির দেহাভ্যন্তরে চলাচলের পথ সুগম করে। এই সার নাইট্রোজেনের কার্যকারিতার পরিপূরক এবং পোকামাকড় ও রোগবালাই থেকে গাছকে রক্ষা করে। এই সার গাছের খরা সহিঞ্চুতা বাড়ায়, গাছকে মজবুত করে।

জিপসামঃ 🌿
জিপসাম সারের মধ্যে থাকা সালফার নাইট্রোজেন আত্মকরণে সহায়তা করে। এই সার প্রোটিন প্রস্তুতিতে অংশ গ্রহণ করে, তেল উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং সালফার ভিটামিন ও কো-এনজাইমের উপাদান তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। 

জিংক সালফেটঃ🌿
জিংক সালফেটের জিংক প্রোটিন প্রস্তুতিতে সহায়তা করে এবং হরমোনের কার্যকারিতার জন্য সহায়তা করে।

বোরাক্সঃ 🌿
বোরাক্সের বোরন ফলের বিকৃতি রোধ করে এবং ফুল ফল ধারণে সাহায্য করে।

Wednesday, October 2, 2024

পেঁপে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া ও কুঁকড়ে যাওয়া সমস্যার সমাধান - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

পেঁপে গাছের পাতা হলুদ হয়ে যাওয়া ও কুঁকড়ে যাওয়া সমস্যার সমাধান - অঙ্গন আমার প্রকৃতি
যেসব কারণে পেঁপে গাছের পাতা হলুদ ও কুঁকড়ে যায়:
১. পাতার বয়স হলে এমনিতেই ঝরে পড়ে।
২. নাইট্রোজেন/ইউরিয়ার অভাবে নিচের পাতা হলুদ হয়ে ঝরে পড়ে। 
৩. পানির অভাব বা অতিরিক্ত পানিতে এরকম হয়।
প্রতিকার: ইউরিয়া না দিয়ে থাকলে ফুল ধরার আগ পর্যন্ত প্রতি মাসে গাছের গোড়া থেকে দুই ফুট দূরে চারিদিকে ৫০ গ্রাম ইউরিয়া মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। প্রয়োজনে হালকা সেচ দিতে হবে।

উপরের কারণ না থাকলে বয়সের কারণে হলুদ হয়েছে বুঝতে হবে। তখন মরা পাতাগুলো ছিড়ে ফেলতে হবে। ফুল -ফল ধরার পর গাছ প্রতি ইউরিয়া সারের পরিমাণ বাড়াতে হবে।

কচি পাতা হলুদ হলে বুঝতে হবে সালফারের অভাব হয়েছে। তখন থিওভিট বা মাইক্রোথিওল বা অন্য কোন সালফার সমৃদ্ধ সার দিতে হবে। যদি পাতায় সবুজ আর হলুদ রংয়ের মিশ্রন থাকে ও পাতা কুকড়িয়ে যায় তবে বুঝতে হবে ভাইরাস রোগ হয়েছে।

সাদামাছি, মিলিবাগ, জাবপোকা ভাইরাস রোগ ছড়ায়। তাই রোগ হওয়ার আগেই ইমিটাফ বা টাফগর বা এডমায়ার বা একতারা যেকোন একটি স্প্রে করতে হবে। পেঁপে গাছ লাগানোর আগে বোরণ সার না দিয়ে থাকলে ফুল-ফল ধরার পর গোড়ায় বা স্প্রে করে বোরণ সার দিতে হবে।

প্রতি লিটার পানির সাথে এক মিলি বা এক গ্রাম হারে মিশাতে হবে। এতে করে ফলের আকার আকৃতি ভালো হবে। সাধারণত উপরের পাতায় ভাইরাসের লক্ষণ দেখা যায়।

গাছের উপরে সবুজ পাতা আর নীচে হলুদ পাতা দেখা দিলে মরা পাতাগুলো ফেলে দিয়ে গাছের গোড়া থেকে দেড়-দুই ফুট দূর দিয়ে গাছ প্রতি ৫০ গ্রাম করে ইউরিয়া ও ২৫ গ্রাম পটাশ দিলেই চলবে। পটাশ না দিয়ে থাকলে সেটাও একই হারে দিতে বলবেন।

ফুল ঝরে যাওয়া সমস্যা মনে হলে প্রতি লিটার পানির সাথে হাফ চা চামচ ইউরিয়া ও এক চিমটি থিওভিট মিশিয়ে বিকেলে স্প্রে করতে হবে।

পরামর্শ/দরকারী: বাগানে প্রতি ১০ টি পেঁপে গাছের মধ্যে একটি পুরুষ গাছ থাকা জরুরি। এতে সঠিক পরাগায়ন হবে। ফল টিকবে বেশি।

গাছের গোড়ায় পানি জমতে দেয়া যাবে না। শুকিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় সেচ দিতে হবে। রোগ হয়ে গেলে ভালো করার উপায় নেই। তখন গাছ উঠিয়ে ফেলতে হবে। তাই আগে থেকেই পোকা দেখামাত্র বা প্রতি মাসেই স্প্রে করতে হবে।

লেখক: উপজেলা কৃষি অফিসার প্রেষণে সিনিয়র সহকারি পরিচালক জাতীয় কৃষি প্রশিক্ষণ একাডেমি (নাটা), গাজীপুর ও উদ্ভাবক, কৃষকের ডিজিটাল ঠিকানা মোবাইল এ্যাপস।

আগাম আলু চাষের আগাম সতর্কতা ও করণীয় কি কি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

আগাম_আলু_আবাদে_কৃষক_ভাইদের_জন্য_করণীয় : 
#জলবায়ুঃ
আলু চাষের জন্য উপযোগী তাপমাত্রা ১৫°-২০° ডিগ্রি সে. উপযুক্ত। 

#জমি_নির্বাচনঃ
আলু ফসল যে কোন মাটিতে হতে পারে। তবে আলু চাষের জন্য বেলে দো-আঁশ, দেআশ মাটি সবচেয়ে ভালো। জমি অবশ্যই রৌদ্র উজ্জ্বল হতে হবে। মাঝারি উচু ও উচু হতে হবে। যাতে সেচ ও নিষ্কাশনের ব্যবস্থা থাকে।

#জাত_নির্বাচনঃ

আলুর জনপ্রিয় উচ্চ ফলনশীল জাত সমূহ
#ডায়ামন্ট/#কার্ডিনাল/#গ্রানোলা/#এসটারিক্স/#কারেজ/#এলুয়েট/ভ্যালেনসিয়া

#জমি_তৈরিঃ
আলুর জমি কমপক্ষে আড়াআড়ি ভাবে ৪-৫ (ট্রাকটার) চাষ দিতে হবে। যাতে মাটিতে কোন ঢেলা না থাকে মাটি ঝুরঝুরে ও সমতল করে নিতে হবে।

#বীজ_সংগ্রহ_ও_পরিচর্যাঃ
কোল্ড স্টোরেজ থেকে বীজ আলু বের করার পর ৪৮ প্রি হিটিং রুমে রাখতে হবে বীজ আলু বাড়িতে আনার ২৪ ঘন্টার মধ্যে বস্তা খুলে ছড়িয়ে আবহাওয়ার সাথে খাপ খাওয়ানের জন্য বাতাস চলাচল করে এমন ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে। তা না হলে বস্তায় আলু ঘেমে পঁচে যেতে পারে।

#বীজ_শোধনঃ
যদি সম্ভব হয় আলু বীজকে কার্বেন্ডাজিম বা কার্বক্সিল+থিরাম গ্রুপের ছত্রাকনাশক ম্যাপভেক্স-৭৫ ডাব্লিউপি, ভিটাফ্লো-২০০ এফএফ, এসাভেক্স-৪০ ডাব্লিউপি প্রতি কেজি বীজের ৩.৫ গ্রাম হারে মিশিয়ে শোধন করা যেতে পারে। 
অথবা  
#প্রতি লিটার পানিতে ৩০ গ্রাম বরিক এসিড মিশিয়ে ১০-১৫ মিনিট চুবিয়ে পরে ছায়াতে শুকাতে হবে। অথবা পলিথিন সিটের উপর আলু ছড়িয়ে দিয়ে বরিক এসিড মিশ্রিত পানি স্প্রে করা যেতে পারে।

#বীজের_সাইজ/আকারঃ
আলু ফসলের জন্য ৩০-৪০ গ্রাম ওজনের আস্ত আলু বীজ হিসেবে উত্তম। কেটেও বীজ লাগানো যেতে পারে। আড়াআড়িভাবে না কেটে লম্বালম্বিভাবে কাটতে হবে যাতে কমপক্ষে প্রতিটি অংশে কমপক্ষে দুটি চোখ/কুঁড়ি থাকে। কাটা আলু ২-৩ দিন ছায়াযুক্ত স্থানে রাখতে হবে।

#আলু_আবাদের_উপযুক্ত_সময়/মৌসুমঃ
অক্টোবর মাসেও আলু রোপন করা যায়। তবে নভেম্বর মাস আলু লাগানোর উপযুক্ত সময়। নভেম্বরের পরে আলু রোপন করলে ফলন কমে যায়।

#রোপণ_দূরত্বঃ
আস্ত আলুর সারির দুরত্ব ৬০ সে:মি: বীজের দুরত্ব ২৫ সে. মি. 
কাটা আলুর সারির দুরত্ব ৬০সে:মি: বীজের দুরত্ব১৫ সে: মি: 

#বীজহারঃ
হেক্টরে প্রতি ১.৫ টন। 
বিঘা প্রতি ২০০ কেজি
শতক প্রতি ৬ কেজি

#সারের_পরিমাণঃ (বিঘা প্রতি)
ইউরিয়া ২৫ কেজি
টিএসপি/ডিএপি ২০ কেজি
এমওপি ২৫ কেজি
জিপসাম ২০ কেজি
জিংক/দস্তা ১.৫ কেজি
বোরন ১ কেজি
গোবর ১৩২০ কেজি

#প্রতি শতকে)
ইউরিয়া ৭৬০ গ্রাম 
টিএসপি/ডিএপি ৬০৬ গ্রাম 
এমওপি ৭৬০ গ্রাম
জীপসাম ৬০৬ গ্রাম 
দস্তা ৪৬ গ্রাম 
বোরব ৩০ গ্রাম 
গোবর ৪০ কেজি

#সার_প্রয়োগ_পদ্ধতিঃ
গোবর ও জিংক সালফেট জমি তৈরির সময় মিশিয়ে দিতে হবে। অর্ধেক ইউরিয়া সম্পূর্ণ টিএসপি, এমওপি, জিপসাম ও বোরন সার জমি তৈরির শেষ চাষে প্রয়োগ করতে হবে। বাকি অর্ধেক ইউরিয়া ৩০-৩৫ দিন পর যখন আলুর নালা তৈরি করে মাটি তোলার সময় দিতে হবে।

#গাছের_গোড়ায়_মাটিঃ
আগাছা পরিস্কার করে 
প্রথম ৩০-৩৫ গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া।
দ্বিতীয় দফায় 
৫৫-৬০ দিনের মধ্যে গাছের গোড়ায় মাটি তুলে দেওয়া।

#সেচঃ
জমির ধরন অনুযায়ী দুই-তিন টি সেচ দিতে হবে 
#প্রথম সেচ: বীজ আলু রোপনের ২০-২৫ দিনে
#দ্বিতীয় সেচ: রোপনের ৪০-৪৫ দিনে
#তৃতীয় সেচ: রোপনের ৬০-৬৫ দিনে
আলু উত্তোলনের দুই সপ্তাহ পূর্বে সেচ প্রয়োগ বন্ধ করতে হবে। 
#আলুর দাদ রোগ নিয়ন্ত্রণের জন্য আলুর জমিতে ৩০-৫০ দিনের মধ্যে কোন অবস্থায় সেচ/রসের ঘাটতি হতে দেওয়া যাবে না। 
এবং ৬০-৬৫ দিনের পরে জমিতে রসের আধিক্য হতে দেওয়া যাবে না। 

#আগাছা_দমনঃ
আলু রোপনের ৬০ দিন পর্যন্ত জমিতে আগাছা মুক্ত রাখতে হবে।
#হাম পুলিং: হামপুলিং হল গাছ টেনে উপড়ে ফেলা। হালপুলিং এর ৭-১০ দিন পূর্বে সেচ বন্ধ করতে হবে। 

#কিউরিং: হামপুলিং এর পর মাটি ও আলুর অবস্থার উপর নির্ভর করে ৭-১০ দিন পর্যন্ত মাটির নিচে রেখে আলুর ত্বক শক্ত করে নিতে হবে। 

#রোগ:
আলুর প্রধান রোগ হল
লেট ব্লাইট, আর্লি ব্লাইর ও ঢলে পড়া 

#পোকা: আলুর প্রধান শত্রু পোকা কাটুই পোকা
(ক্লোরোপাইরিফস+সাইপারমেথ্রিন) গ্রুপেট কীটনাশক নাইট্রো৫৫ ইসি/এসিমিক্স ৫৫ ইসি/ক্লোরোসাইরিন ৫৫ ইসি/সেতারা৫৫ ইসি প্রতি লিটার পানিতে ৩ মিলি হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে শেষ বিকেলে 

এছাড়াও আপনার নিকটস্থ উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা অথবা উপজেলা কৃষি অফিস এ যোগাযোগ করে আপডেট পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন।

কপি পোস্ট

বাঁশ সম্পর্কে কিছু তথ্য আপনাদের জন্য - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

🟥বাঁশ সম্পর্কে কিছু তথ্যঃ
 1. দ্রুত বৃদ্ধি: বাঁশ বিশ্বের সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল উদ্ভিদ। এটি 24 ঘন্টায় 47.6 ইঞ্চি বৃদ্ধিতে রেকর্ড করা হয়েছে। কিছু প্রজাতি অনুকূল পরিস্থিতিতে প্রতিদিন এক মিটারেরও বেশি বৃদ্ধি হতেপারে। একটি নতুন বাঁশের অঙ্কুর এক বছরেরও কম সময়ে তার পূর্ণ উচ্চতায় পৌঁছে।

 2. অক্সিজেন রিলিজ: বাঁশের একটি গ্রোভ অন্য যে কোনো গাছের তুলনায় 35% বেশি অক্সিজেন নির্গত করে।

 3. কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ: বাঁশ প্রতি বছর হেক্টর প্রতি 17 টন হারে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করে। এটি একটি মূল্যবান কার্বন সিঙ্ক হিসাবে কাজ করতে পারে।

 4. সারের প্রয়োজন নেই: বাঁশের বৃদ্ধির জন্য সারের প্রয়োজন হয় না। এটি তার পাতা ফেলে দিয়ে স্ব-মালচিং করতে পারে এবং বৃদ্ধির জন্য পুষ্টি ব্যবহার করতে পারে।

5. প্রাকৃতিক এয়ার কন্ডিশনার: গ্রীষ্মে বাঁশ তার চারপাশের বাতাসকে 8 ডিগ্রি পর্যন্ত ঠান্ডা করে।

 6. খরা প্রতিরোধ: বাঁশ খরা-সহনশীল উদ্ভিদ। তারা মরুভূমিতে বেড়ে উঠতে পারে।

 7. কাঠ প্রতিস্থাপন: বেশিরভাগ নরম কাঠের গাছের 20-30 বছরের তুলনায় বাঁশ 2-3 বছরে কাটা যায়।

 8. নির্মাণ সামগ্রী: বাঁশ অবিশ্বাস্যভাবে শক্তিশালী এবং বলিষ্ঠ। এটি কংক্রিটের ভারা, সেতু এবং ঘরবাড়ির কাঠামো হিসাবে ব্যবহৃত হয়।

 9. মাটির স্থিতিশীলতা: বাঁশের ভূগর্ভস্থ শিকড় এবং রাইজোমের বিস্তৃত নেটওয়ার্ক রয়েছে যা মাটির ক্ষয় রোধ করে।

 10. আক্রমণাত্মকতা: কিছু প্রজাতির বাঁশ,তাদের বিস্তৃত রুট সিস্টেমের কারণে আক্রমণাত্মক হতে পারে, যা তাদের দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে দেয়। যাইহোক, সব প্রজাতিই আক্রমণাত্মক নয় এবং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পরিবেশগত প্রভাব কমিয়ে আনা যায়।

Sunday, July 7, 2024

নারিকেল গাছের সার প্রয়োগ ও ব্যবস্থাপনা - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

নারিকেল গাছের সার ব্যবস্থাপনা।

যেকোন বয়সের নারিকেল গাছের জন্যে দুই কিস্তিতে সার প্রয়োগ করতে হবে। প্রথম কিস্তিতে নিচের উল্লেখিত সারের অর্ধেক পরিমাণ বৈশাখ- জৌষ্ঠ মাসে এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে বাকি অর্ধেক সার আশ্বীন মাসে গাছের গোড়া থেকে চতুর্দিকে ১ মিটার বাদ দিয়ে ১.০-২.৫ মিটার দূর পর্যন্ত মাটিতে ২০-৩০ সে.মি গভীরে প্রয়োগ করতে হবে। সার দেয়ার পর মাটি কুপিয়ে দিতে হবে। এ সময় মাটিতে রস কম থাকলে অবশ্যই সেচ দিতে হবে। বেশি শুষ্কতা ও বেশি বৃষ্টিপাতের সময় সার প্রয়োগ করা ঠিক হবেনা।

গাছ লাগানোর পর প্রতিবছর নিম্নলিখিত হারে সার প্রয়োগ করবো:

★ ১-৪ বছর বয়সী নারিকেল গাছের জন্যে

গোবর সারঃ-১০ কেজি
ইউরিয়াঃ-২০০ গ্রাম
টিএসপিঃ-১০০ গ্রাম
এমওপিঃ-৪০০ গ্রাম
জিপসামঃ-১০০ গ্রাম
জিংক সালফেটঃ-৪০গ্রাম
বোরিক এসিডঃ-১০ গ্রাম

★ ৫-৭ বছর বয়সী নারিকেল গাছের জন্যে

গোবর সারঃ-১৫ কেজি
ইউরিয়াঃ-৪০০গ্রাম
টিএসপিঃ-২০০গ্রাম
এমওপিঃ-৮০০গ্রাম
জিপসামঃ-২০০গ্রাম
জিংক সালফেটঃ-৬০গ্রাম
বোরিক এসিডঃ-১৫ গ্রাম

★ ৮-১০ বছর বয়সী নারিকেল গাছের জন্যে

গোবর সারঃ-২০ কেজি
ইউরিয়াঃ-৮০০গ্রাম
টিএসপিঃ-৪০০গ্রাম
এমওপিঃ-১৫০০ গ্রাম
জিপসামঃ-২৫০গ্রাম
জিংক সালফেটঃ-৮০গ্রাম
বোরিক এসিডঃ-২০ গ্রাম

★ ১১-১৫ বছর বয়সী নারিকেল গাছের জন্য

গোবর সারঃ-২৫ কেজি
ইউরিয়াঃ-১০০০গ্রাম
টিএসপিঃ-৫০০ গ্রাম
এমওপিঃ-২০০০গ্রাম
জিপসামঃ-৩৫০গ্রাম
জিংক সালফেটঃ-১০০গ্রাম
বোরিক এসিডঃ-=৩০ গ্রাম

★ ১৬-২০ বছর বয়সী নারিকেল গাছের জন্যে

গোবর সারঃ-৩০ কেজি
ইউরিয়াঃ-১২০০গ্রাম
টিএসপিঃ-৬০০গ্রাম
এমওপিঃ-২৫০০গ্রাম
জিপসামঃ-৪০০গ্রাম
জিংক সালফেটঃ-১৫০গ্রাম
নারিকেল, নারিকেল চাষ, ফল
বোরিক এসিডঃ-৪০গ্রাম

★ ২০ বা তার ঊর্ধ নারিকেল গাছের জন্যে

গোবর সারঃ-৪০ কেজি
ইউরিয়াঃ-১৫০০গ্রাম
টিএসপিঃ-৭৫০গ্রাম
এমওপিঃ-৩০০০গ্রাম
জিপসামঃ-৫০০গ্রাম
জিংক সালফেটঃ-২০০গ্রাম
বোরিক এসিডঃ-৫০ গ্রাম

জেনে রাখা ভালোঃ

একটা সুস্থ নারিকেল গাছের পাতা লম্বায় জাতভেদে ২.৫-৩.৫ মিটার হতে পারে। সুস্থ, সবল একটা গাছের পাতার সংখ্যা ৩২-৪০টা।

 পাতাগুলো যত উপরমুখী হবে এবং সংখ্যায় তা যত বেশি হবে, গাছ সাধারণত তত বেশি ফুল-ফল দানে সক্ষম হবে।

 ভালো যত্ন ও সঠিক ব্যবস্থাপনায় কাণ্ড থেকে প্রতি মাসে একটা করে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে পাতা বের হয় এবং সে পাতার গোড়ালি থেকে বয়স্ক গাছে ফুল-ফলের কাঁদি বের হয়। 

∆ নারিকেল গাছের ডালা কখনোই কাটা যাবে না। এ পাতা হলুদ হয়ে শুকানোর আগ পর্যন্ত কোনো মতেই কেটে ফেলা যাবে না। এ গাছ ঠিক কলা গাছের মতো ‘রুয়ে কলা না কেটো পাত, তাতেই কাপড় তাতেই ভাত’ খনার বচনটা এ গাছের জন্য একেবারে প্রযোজ্য।

 যেহেতু একটা সুস্থ গাছে প্রতি মাসে একটা করে পাতা বের হয় এবং তা প্রায় তিন বছরের মতো বাঁচে সে হিসাব করলে একটা ফলন্ত, সুস্থ, সবল গাছে ৩২-৪০টা পাতা থাকার কথা। গাছে এ সংখ্যা ২৫ টার নিচে থাকলে ধরে নিতে হবে গাছটা খাবার ও যত্নের অভাবে বড় কষ্টে আছে। পাতার সংখ্যা ২০ টার নিচে নেমে গেলে গাছে ফুল ফল ধরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর্যায়ে চলে যাবে।

Saturday, May 25, 2024

ভূট্টার বিধ্বংসী পোকা ফল আর্মি ওয়ার্ম - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

🚫🚫ভূট্টার বিধ্বংসী পোকা ফল আর্মি ওয়ার্ম:🐛🐛

ফল আর্মিওয়ার্ম হলো Lepidoptera order এর একটি ক্ষতিকর কাটুই পোকা যার বৈজ্ঞানিক নাম Spodoptera frugiperda. 

ফল আর্মিওয়ার্ম বা সাধারন কাটুই পোকা পৃথিবীব্যাপী একটি মারাত্মক ক্ষতিকারক ও বিধ্বংসী পোকা হিসেবে পরিচিত।
এটি মূলত আমেরিকা মহাদেশের পোকা হলেও ২০১৬ সালে আফ্রিকা মহাদেশে এদের আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়।
২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বিশেষত; ভারত এবং শ্রীলংকায় এদের আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়।
২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসমূহে এদের  আক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে। 

🔘 পোকা চেনার উপায়ঃ

দেহের উপরিভাগে দুই পাশে লম্বালম্বিভাবে গাঢ় রঙের দাগ রয়েছে।
মাথায় উল্টা Y অক্ষরের মধ্যে জালের মতো দাগ রয়েছে।
পোকাটির পৃষ্ঠ দেশের ৮ম খণ্ডে ৪ টি কালো দাগ রয়েছে।

🔘 ফল আর্মিওয়ার্মের জীবনচক্রঃ

🔸 ডিম, কীড়া, পুত্তলি এবং পূর্নাঙ্গ পোকা এই ৪ টি ধাপে পোকাটি জীবনচক্র সম্পন্ন করে থাকে।
🔸 এই পোকাটি শীতকালে ৭০-৮০ দিনে এবং গ্রীষ্মকালে ৩০-৩৫ দিনে জীবনচক্র সম্পন্ন করে থাকে।
জীবনচক্রের মধ্যে ডিম ( ৩-৫ ), কীড়া (১৪-২৮ ), পুত্তলি (৭-১৪ ) এবং পূর্নাঙ্গ অবস্থায় (১১-১৪) দিন অতিবাহিত করে থাকে।
🔸 স্ত্রী পোকা সাধারণত পাতার নিচে ডিম পাড়ে। পরবর্তীতে ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে পাতা বা ফল খাওয়া শুরু করে।

🔘 ক্ষতির ধরণঃ
পোকাটি কীড়া অবস্থায় গাছের পাতা ও ফল খেয়ে থাকে।
পূর্নাঙ্গ পোকা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে। 

🔘 ক্ষতির ব্যপ্তিঃ

কীড়া অবস্থায় পোকাটির খাদ্য চাহিদা কম থাকে এবং এসময় তারা গাছের পাতা ও ফল খেয়ে থাকে। তবে জীবনচক্রের শেষ ধাপসমূহে এর খাদ্য চাহিদা ৫০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। পূর্নাঙ্গ পোকা ভুট্টা, আলু বা অন্যান্য ফসলের ক্ষেতে প্রায় ২০-১০০% পর্যন্ত ক্ষতি সাধন করে থাকে। তবে ভুট্টা ফসলে এর সর্বাধিক ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়।  

🔘 অনুকূল পরিবেশ:

গ্রীষ্ম মৌসুমে এটি সারাদেশে বিশেষত; ভুট্টা আবাদকৃত অঞ্চলসমুহে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

🔘 জৈবিক ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে দমনঃ

✅ সার্বক্ষণিক ফসলের মাঠ পরিদর্শন করা এবং লক্ষণ অনুসারে পোকাটি সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।
✅ ফেরোমন ফাঁদ-ফল আর্মি ওয়ার্ম/স্পোডো লিউর (বিঘা প্রতি ৫টি) ব্যবহার করতে হবে।
✅ আক্রমন পরিলক্ষিত হলে জৈব বালাইনাশক ফউলিজেন ৫মিলি/১৬ লিটার হারে পানিতে  মিশিয়ে সন্ধ্যাকালীন সময়ে গাছ পুরোপুরি ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
✅ আক্রান্ত গাছ হতে ডিম বা দলাবদ্ধ কীড়া চিহ্নিত করে পিষে মেরে ফেলতে হবে বা মাটির নীচে কমপক্ষে একফুট পরিমান গর্ত করে পুঁতে ফেলতে হবে।
✅ একই জমিতে অবশ্যই ভুট্টা পরবর্তী ফসল হিসেবে ভুট্টা বা এই পোকাটির অন্য পোষক ফসল চাষ না করে ধান চাষ করলে ‘ফল আর্মিওয়ার্ম’ এর আক্রমণ কমে যায়।
✅ এছাড়াও ফসলের জমিতে পোকাটি সনাক্ত করা মাত্র নিকটস্থ উপজেলা কৃষি অফিস বা উপসহকারী কৃষি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।

🔘রাসায়নিক পদ্ধতিতে দমনঃ

✅ ভুট্টার জন্য নিউরন/ফুলটাইম/লরেন্ট ৫০ ডব্লিউ ডি জি' 
৮ গ্রাম প্রতি ১৬ লিটার জলে মিশিয়ে সন্ধ্যাকালীন সময়ে গাছ পুরোপুরি ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।

নানা ধরনের ক্রোটন চাষ, কীভাবে পরিচর্যা করবেন - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

নানা ধরনের ক্রোটন (Croton) – পরিচিতি, লাগানোর পদ্ধতি ও ব্যবহার ক্রোটন (Codiaeum variegatum) একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় শোভাবর্ধক পাতা...