Saturday, March 20, 2021

ছত্রাকনাশক নিজের হাতেই বানিয়ে ফেলুন - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

অঙ্গন আমার প্রকৃতি:
চাষিভাইদের উদ্দেশ্যে জানানো যাচ্ছে যে নিজের  বাড়িতেই বানিয়ে ফেলুন রাসায়নিক ছত্রাকনাশক। বোর্দো মিশ্রন।
ইহা জমিতে বিভিন্ন প্রকার ছত্রাকজনিত রোগ যেমন - ধসা (Blight)
ঝলসা (Blast) 
নাবি ধ্বসা (Late blight)
ডাউনি মিলডিউ এবং
মরীচা (Rust) ইত্যাদি নিরাময়ে সাহায্য করে। ইহা একটি উত্তম  Contact Fungicide  রুপে কাজ করে, মানে বাইরে থেকে রোগের বিরুদ্ধেও প্রোটেকশান দেয়।  রোগের লক্ষ্মন প্রকাশের প্রাথমিক অবস্থায় এসব ওষুধ ব্যবহার করলে দোকান থেকে বেশি দাম দিয়ে  ছত্রাকনাশক আর বেশি কিনতে লাগে না আবার একদম নাও কিনতে লাগতে পারে।
  তাই অনন্ত একবার পরীক্ষামূলক ভাবে জমির কিছু অংশে প্রয়োগ করে দেখুন,  লাভবান হতে পারেন। 

আজকের আলোচনা মূলত বোর্দো মিশ্রন/Bordeaux Mixture  নিয়ে। 

বোর্দো মিশ্রন তৈরী: - তুঁতে/কপার সালফেট,  চুন/ক্যালসিয়াম কার্বোনেট বা লাইমও বলে একে আর দরকার জল। 

1. প্রথমে আলাদা দুটো পাত্রে চুন আর তুঁতে
মিহি করে গুড়া করে নিতে হবে।

2.  2 টি ছোট মাটির বা প্লাসটিকের পাত্রে আলাদা আলাদা 5 লিটার 5 লিটার  করে মোট ১০ লিটার জল নিতে হবে। (মাটির পাত্র নিলে রাসায়নিক বিক্রিয়ার সম্ভাবনা কম থাকে)। 

3. একটি মাটির পাত্রে 100 গ্রাম মিহি করা তুঁতে ও অন্য পাত্রে 100 গ্রাম মিহি করা চুন ঢেলে দিতে হবে। 

4. বাঁশের কাঠি দিয়ে দুই পাত্রের তুঁতে ও চুন ভালভাবে ঘেটে নিতে হবে। এরপর ৮-১০ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখ হবে।

5. এরপর  তুঁতের জলীয় দ্রবনটিকে   চুনের জলীয় দ্রবনের  পাত্রে ধীরে ধীরে  ঢেলে ভালভাবে ঘেটে নিতে হবে। উল্টোটা যাতে না হয়। এটাই হল #বোর্দো মিক্সার। 

তাহলে চুন থাকছে মোট 100 গ্রাম,  তুৃঁতে থাকছে 100 গ্রাম আর জল থাকছে মোট 10 লিটার।  তাহলে চুন,  তুঁতে ও জলের অনুপাত - 1:1:100
এটা হল 1% সলিউশান।  এটাই সঠিক মাত্রা।  
তার মানে এটাও বলা যায় যে,   চুন যদি 1 কেজি(1000 গ্রাম), তুঁতে যদি 1 কেজি নেওয়া হয় তাহলে জল নিতে হবে 100  লিটার।   সুতরাং এখানে চুন, তুঁতে ও পানির অনুপাত হবে
 1:1:100 (কারন- 1 গ্রাম কোনোকিছু  1 লিটার জলের সমতূল্য )। মিশ্রনটি প্রশম থেকে সামান্য ক্ষারীয় হবে,  কিন্তু কখনই যেন আম্লিক না হয়,  হলে বুঝতে হবে অনুপাতে ভুল হয়েছে। 

#মিক্সারটি সঠিক মাত্রায় হয়েছে কিনা তা বাইরে কিভাবে বুঝব:-

 সেই মিশ্রনে স্টিলের চাকুর অগ্রভাগ ডুবিয়ে দেখে নিন লালচে দাগ পড়ে কিনা। যদি চাকুতে লাল দাগ না পড়ে তবে বুঝতে হবে মিশ্রণ মাত্রা সঠিক হয়েছে আর যদি লালচে দাগ পড়ে তো বুঝবেন মিশ্রনটি আম্লিক হয়ে গেছে। তখন আবার প্রয়োজন মত জল বা চুন বা তুঁতে মিশিয়ে অনুপাতটি ঠিক করতে হবে যাতে ওভারঅল অনুপাত 1:1:100 ই থাকে।  

সাবধানতা: -  
1. এই অনুপাতটি একদম কাটায় কাটায়  সঠিক  হওয়া মাস্ট,  তা নাহলে গাছের উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া পড়তে পারে। তাই ওজন মেপে মেপে সব কিছু দিতে হবে। 

2. ধাতুর কোনো পাত্র নেবেন না।  কারন তাতে রাসায়নিক বিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। 

3. মিশ্রনটিকে কাঠি দিয়ে ভালো করে নাড়িয়ে নাড়িয়ে তৈরী করতে হবে। 

4. চুনের দ্রবনটিকে কখনও তুঁতের দ্রবনে ঢালবেন না।  সর্বদাই,, তুঁতের দ্রবনটাকেই  চুনের দ্রবনের মধ্যে ঢালবেন। 

5. গরম জল ব্যবহার করা যাবে না। 

6. ইহাকে তৈরী করার পরে ওই দিনই 2-3 ঘনটার মধ্যে  স্প্র করে দিতে হবে গাছে।  সংরক্ষন করে রাখা যায় না।

7. এর সাথে অন্য কোনো রাসায়নিক অ্যাড করা যাবে না

8.  ধান, গম ইত্যাদি ঘাস জাতীয় ফসলে কম ব্যবহার করাটাই  শ্রেয়,  ইহা মূলত ফলগাছ,  সবজী, বিভিন্ন Plantation crops যেমন - সুপারি,  কফি,  বিভিন্ন বাদাম প্রভৃতি শক্ত ফসলের জন্য।  জন্য।  তবুও পরীক্ষামূলক ভাবে গমে দিয়ে দেখতে পারেন যদি ছত্রাক জনিত রোগ (যেমন- মরীচা )লাগে তো।

9. টমেটো তে , আপেলে, পীচ ফলে,   ভুট্টার কিছু জাতে আর ধানের কিছু ছোটো জাতে  দেবেন না , পাতায়  বিষক্রিয়া হতে পারে । 

ব্যবহার ও গুরুত্ব -  এটাকে তৈরী করে ডাইরেক্ট গাছে স্প্রে করুন। 

আলুর নাবি ধসা,  আলুর জলদি ধসা,  আঙুরের ডাউনি মিলডিও , লাউ, কুমড়ো, ঝিঙ্গা, পটল এসবের ডাউনি মিলডিউ , আপেলের স্ক্যাব,  বাদামের টিক্কার রোগ,  লেবুর ক্যাঙ্কার, লেবুর স্ক্যাব, বিভিন্ন মরীচা রোগ,  আমের অ্যানথ্রাকনোজ, ধানের ভূষো রোগ বা লক্ষ্মীর গু (false smut of rice ) , গমের মরীচা,  গমের  Smut,  Bunt রোগ,  বিভিন্ন ফসলের পাতায় বাদামি দাগ,  গোল গোল #রিংয়ের  মতো দাগ(Alterneria infection) ,  অাদার বিভিন্ন রোগ ইত্যাদির বিরুদ্ধে ভালো কাজ করে।  
 (ফসলের বিভিন্ন রোগের লক্ষ্মণ ও ছবি দেখে রোগকে  চিহ্নিত করতে Google  এ রোগের নাম লিখে সার্চ করুন। )

বোর্দো মিশ্রণ ব্যাকটেরিয়া জনিত রোগের বিরুদ্ধেও ভালো কাজ করে। 

[বোর্দো মিশ্রন বিশেষভাবে Oomycota  জাতীয় ছত্রাকের বিরুদ্ধে ফলপ্রদ। ]

সজনে ডাঁটার উপকারিতা - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

অঙ্গন আমার প্রকৃতি: সজনে ডাঁটা অনেকেরই বেশ পছন্দের একটি সবজি। সজনে ডাঁটা কেবল খেতেই যে সুস্বাদু তা নয় বরং এটি স্বাস্থ্য সুরক্ষার কাজেও বেশ প্রয়োজনীয়। বসন্তের শেষের দিকে সজনে ডাঁটা বাজারে ওঠে। সজনের তরকারি এবং সজনের ডাল অনেকের কাছেই বেশ প্রিয় একটি খাদ্য.

সজনের উপকারিতা এবং পুষ্টিগুণ
১. ঠাণ্ডা জর, কাশি উপশম করে,
২. উচ্চ রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণ করে,
৩. পেটের হজম সমস্যা সমাধান,
৪. ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে,
৫. হাড় শক্ত ও মজবুত করে
কারন সজনে ডাটায় প্রচুর পরিমাণে আয়রণ, ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন থাকে। 
৬. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় শরীরকে শক্তিশালী করে তোলে,
৭. মুখে রুচি বাড়ে,
৮. শ্বাসকষ্ট কমায়

অন্যান্য উপকারিতা:
এছাড়াও সজনে ডাটা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে, লিভার ও কিডনি সুরক্ষিত রাখে। শরীরের বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই সজনের এই ভরা মৌসুমে আপনার খাদ্য তালিকায় সজনের তরকারি বা সজনের ডাল রাখতেই পারেন।

Monday, March 8, 2021

লিচু গাছে মুকুল ও ফল ঝরে যাচ্ছে? কি করবেন জেনে নিন

অঙ্গন আমার প্রকৃতি: লিচু গাছে মুকুল আসার আগ থেকে ফল আসা পর্যন্ত প্রায় ৩ মাস সঠিক পরিচর্যা করা অত্যন্ত জরুরি।

গাছের যথাযথ বৃদ্ধি ও ভালো ফলনের জন্য সঠিক নিয়মে ও পরিমাণমতো সার প্রয়োগ করা জরুরি। নিম্নে সারের পরিমাণ উল্লেখ করা হলো-

এক থেকে তিন বছর বয়সী গাছের জন্য গাছপ্রতি জৈবসার ১০ কেজি, ইউরিয়া ১৫০ গ্রাম, টিএসপি ৬০০ গ্রাম, এমওপি ২০০ গ্রাম।

চার-ছয় বছর বয়সী গাছের জন্য গাছপ্রতি জৈবসার ১০-১৫ কেজি, ইউরিয়া ৩০০ গ্রাম, টিএসপি ৬০০ গ্রাম, এমওপি ২৫০-৩০০ গ্রাম।

৭-১০ বছর বয়সী গাছের জন্য গাছপ্রতি জৈবসার ১৫-২০ কেজি, ইউরিয়া ৬০০ গ্রাম, টিএসপি ৭০০ গ্রাম, এমওপি ৫০০ গ্রাম।

১০ বছরের বেশি বয়সী গাছের জন্য গাছপ্রতি জৈবসার ২০-২৫ কেজি, ইউরিয়া ১০০০ গ্রাম, টিএসপি ৭৫০ গ্রাম, এমওপি ৬০০ গ্রাম।

গাছে যদি জিঙ্কের অভাব দেখা দেয় অর্থাৎ পাতা যদি তামাটে রঙ ধারণ করে তবে প্রতি বছর ৫০০ লিটার পানির সাথে ২ কেজি চুন ও ৪ কেজি জিঙ্ক সালফেট গুলে বসন্তকালে গাছে ছিটাতে হবে। ফল ঝরা কমাতে এটা সাহায্য করবে। ফল ফেটে যাওয়া কমাতে প্রতি ১০ লিটার পানিতে ১০ গ্রাম বোরিক পাউডার গুলে ফলে স্প্রে করা যেতে পারে।

উল্লিখিত সার বছরে ৩ কিস্তিতে ৩ ভাগ করে লিচু গাছে প্রয়োগ করতে হবে। ১ম কিস্তি বর্ষার শুরুতে ( ফল আহরণের পর ), ২য় কিস্তি বর্ষার শেষে ( আশ্বিন- কার্তিক মাসে ) এবং শেষ কিস্তি গাছে ফুল আসার পর প্রয়োগ করতে হবে। দুপুর বেলা গাছের ছায়া যতটুকু স্থানে পড়ে সেটুকু স্থানে মাটি কুপিয়ে আলগা করে সার প্রয়োগ করতে হবে।

#নিয়মিত সেচ প্রদান করতে হবে। মাটির ধরণ অনুসারে খরার সময় ১০-১৫ দিন পর পর সেচ দিতে হবে।

#গাছে মুকুল আসার আগে ১ বার, গাছে যখন ফল মটরদানার সমান হবে তখন ১ বার এবং মার্বেল আকার ধারণ করলে ১ বার প্লানোফিক্স ( ১ মিলি/৪.৫ লিটার পানি)/মিরাকুলান (১ মিলি/ লিটার পানি)/ফ্লোরা ( ২ মিলি/লিটার পানিতে ) মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে।

#লিচু গাছে মুকুল আসার পর কিন্তু ফুল ফোটার আগে 
ল্যামডা সাইহ্যালোথ্রিন জাতীয় কোনো কীটনাশক ( ফাইটার/ ফাইটার প্লাস/ রীভা ২.৫ ইসি) ১ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। এছাড়া কার্বেন্ডাজিম জাতীয় একটি ছত্রাকনাশক (করজিম/আটোস্টিন/নোইন/বেনডাজিম ২ গ্রাম/লিটার পানিতে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। একই সময় ফ্লোরা ২ মিলি/লিটার পানিতে মিশিয়ে গাছে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে। লিচু গুটি বা মটরদানার সমান হলে একইভাবে উল্লিখিত কীটনাশক, ছত্রাকনাশক এবং পিজিআর ( PGR ) আরেক বার গাছে ভালোভাবে স্প্রে করতে হবে।

#ফল বৃদ্ধির সময় জিংক সালফেট ২ গ্রাম/ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৩ সপ্তাহ পর পর গাছে স্প্রে করলে গাছে ফল ফাটা ও ফল ঝরা সমস্যা দূর হওয়াসহ এবং ফলের আকৃতিও বড় হয়।

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ ছবিতে দেখা যাচ্ছে পেয়ারার ফলের ভেতরের অংশ কালো হয়ে পচে গেছে এবং...