Friday, September 17, 2021

কমলার চাষ করুন সহজেই - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

কমলার চাষ

যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয় এমন আর্দ্র ও উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে কমলার চাষ ভালো হয়। উঁচু, উর্বর, গভীর সুনিষ্কাশিত এবং মৃদু অম্লভাবাপন্ন বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো হয়। প্রখর সূর্যকিরণ ও উচ্চ তাপমাত্রায় গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। বছরে দেড়শ থেকে আড়াইশ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা এবং আংশিক ছায়াযুক্ত স্থান এর জন্য উপযোগী। মাটির অম্ল-ক্ষারত্বের মান ৫.৫ থেকে ৬.০।

জাত
খাসিয়া ও বারি-১

বংশবিস্তার
বীজ থেকে জাইগোটিক চারা দুর্বল, মাতৃগাছের গুণাগুণ বজায় থাকে না, ফল ধরতে ৪-৫ বছর লাগে। বহু ভ্রণিতা (বীজ) নিউসেলার কোষ থেকে এক বা একাধিক চারা হয়। চারাগুলো সবল ও মাতৃগাছের গুণাগুণ বজায় থাকে। ভাইরাস মুক্ত হয়। ফল ধরতে ৪-৫ বছর লাগে।

অঙ্গজ
ভিনিয়ার/ক্লেফট গ্রাফটিং এবং টি-বাডিং চারা থেকে ২-৩ বছরের মধ্যেই ফল আসে।

চারা রোপণের সময়
বর্ষার শুরুতে অর্থাৎ মে-জুন মাসে চারা রোপণ করতে হয়। তবে সেচের সুবিধা থাকলে যে কোনো সময় চারা রোপণ করা যায়।

মাদা তৈরি ও রোপণ
সমতল জমিতে বর্গাকার, আয়তকার এবং পাহাড়ি জমিতে কন্টুর পদ্ধতিতে মাদা তৈরি করে চারা রোপণ করতে হবে। ৪ মিটার × ৪ মিটার দূরত্বে রোপণ করা যায়। মাদার গর্তের আকার ৬০×৬০×৬০ সেন্টিমিটার। প্রতি মাদায় ১০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম করে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি এবং ৫০০ গ্রাম চুন দিতে হবে। চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে সার প্রয়োগ করতে হবে।

সেচ
খরা মৌসুমে বয়স্ক গাছে ২ থেকে ৩টি সেচ দিতে হবে। ফল পরিপক্ব হওয়ার সময় সেচ দিলে আকারে বড় ও রসযুক্ত হয়। গাছের গোড়ায় জল জমলে মাটিবাহিত রোগ হতে পারে।

 পরিচর্যা
আগাছা গাছের বেশ ক্ষতি করে। এছাড়া গাছের শিকড়গুলো মাটির উপরিস্তরে থাকে সেজন্য গভীরভাবে নিড়ানি না দেয়া ভালো। গাছ লাগানোর পর ফল ধরার আগ পর্যন্ত ধীরে ধীরে ডাল ছেঁটে গাছকে নির্দিষ্ট আকারে রাখতে হবে। ডাল ছাঁটাইয়ের পর কাটা অংশে বর্দোপেস্ট দিতে হবে। দুটি পাত্রে ৭০ গ্রাম তুঁতে ও ১৪০ গ্রাম চুন আলাদাভাবে মিশ্রণ করে এক লিটার জলের সঙ্গে মিশিয়ে বুর্দোপেস্ট তৈরি করতে হবে।

ফল সংগ্রহ ও ফলন
কমলা পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রঙ বদলাতে শুরু করে। ভালোভাবে পাকার পর ফল সংগ্রহ করলে মিষ্টি হয়। পূর্ণ বয়স্ক কমলাগাছ প্রতি বছর গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টি ফল দেয়। বেশি বয়স্ক গাছ এক হাজার থেকে দেড় হাজার ফল দিতে পারে। একটি গাছ সাধারণত ৫০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে।

Friday, September 10, 2021

গ্লাডিওলাস চাষের খুঁটিনাটি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি


ডালিয়া একটি সর্বজন প্রিয় ফুল।
এর বৈজ্ঞানিক নাম Dahlia Variailis
ডালিয়া কম্পোজিটি পরিবারভুক্ত।
সুইডেনের উদ্ভিদতত্ত্ববিদ আন্দ্রিয়াস গুস্তাভ ডাল নিজের নামের অনুকরণে ফুলের নাম রাখেন ডালিয়া।

শ্রেণিবিভাগ ও জাত:
ডালিয়ার ১১টি শ্রেণীর আওতায় এর প্রচুর জাত রয়েছে।

ডালিয়ার উন্নত জাতের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গল, 
, কলারেট, ফরমাল ডেকোরেটিভ, ইন ফরমাল ডেকোরেটিভ, ডবল শো ফ্যান্সি, পম্পন, ক্যাকটাস, ভ্যারাইটি গার্ল প্রভৃতি।

ভিডিওটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন 👇

মাটি ও জলবায়ু:
সুনিষ্কাশিত উর্বর দোআঁশ মাটি বা বেলে দোআঁশ প্রকৃতির মাটি ডালিয়া চাষের জন্য উত্তম। ছায়াযুক্ত স্থানে গাছ দুর্বল ও লম্বা হয়, ফুল কম ও ছোট হয় এবং রঙের ঔজ্জ্বল্য হ্রাস পায়। ফলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় এমন জমিতে ডালিয়ার চাষ করতে হবে। ডালিয়া চাষে আবহাওয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। যে দিন বৃষ্টি হবে সে দিন থেকে যত দিন পর্যন্ত মাটি স্যাঁতসেঁতে থাকবে তত দিন জল দেয়ার দরকার নেই। আবার গরমের সময়ে মাটি যখন শুকনো হয়ে ওঠে তখন জলর পরিমাণ বাড়িয়ে মাটি আর্দ্র করে তুলতে হবে। বৃষ্টির সময়ে গাছের ওপর ছাউনি দিতে পারলে ভালো কিংবা কোনো ছাউনির নিচে রাখলে গাছ নিরাপদে থাকবে। টবের গাছের ক্ষেত্রে প্রতিদিন নিয়ম করে জল দিয়ে মাটিকে আর্দ্র রাখা উচিত।

বংশ বিস্তার:
ডালিয়া বীজ, মূলজ কন্দ, ডাল কলম এর সাহায্যে বংশ বিস্তার করা হয়। ডালিয়াগাছের গোড়ায় জন্মানো মূলজ কন্দ পরবর্তী বছর চারা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে ফুল শেষে গাছ নিস্তেজ হয়ে পাতা ও ডাঁটা শুকিয়ে আসলে কন্দ পরিপক্ব ও সংগ্রহের উপযোগী হয়। মাটির নিচ থেকে কন্দ তুলে দু-এক দিন বাতাসে শুকিয়ে আলুর মতো কন্দকে শুষ্ক বালুতে সংরণ করতে হয়। অতঃপর ভাদ্র-আশ্বিন মাসে কন্দগুলোকে অর্ধেক মাটি ও অর্ধেক বালু মিশ্রিত বীজতলা বা টবে রোপণ করে সামান্য জল সিঞ্চন করলে কয়েক দিনের মধ্যে কন্দের চোখ থেকে নতুন চারা বের হয়। চারা দুই থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার লম্বা হলে মূলজ কন্দটিকে চারাসহ কেটে টুকরো করে নির্ধারিত জমিতে বা টবে রোপণ করা যায়। অপর দিকে আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ মাসে ডালিয়ার ডাল কলম করা যায়। এ সময়ে মূলজ কন্দে জন্মানো কচি চারা বা ডাল থেকে গিটসহ কেটে বা ভেঙে নিতে হয়। তা ছাড়া পুষ্ট কন্দ বা কাণ্ডের পাশে জন্মানো ১৫-২০ সেন্টিমিটার লম্বা পুষ্ট ডাল ও গিট গুলোকে সংগ্রহ করা হয়।

ভিডিওটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন 👇

সার প্রয়োগ:
পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশে আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত সময়ে জমিতে কিংবা টবে ডালিয়ার চারা রোপণ করা যায়। ডালিয়ার মাটি গভীরভাবে নরম ও ঝুরঝুরে  করে তৈরি করতে হয়। প্রতি ১০০ বর্গ মিটার জমিতে ২০০ কেজি গোবর, তিন কেজি কাঠের ছাই ও দুই কেজি আরেকটি ফসফেট সার টিএসপি মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হয়। ভারী মাটিতে গোবরের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া উত্তম। টবে ডালিয়া চাষের জন্য ২ ভাগ দোআঁশ মাটি, ২ ভাগ বালি, ২ ভাগ কাঠের ছাই, ১ ভাগ পাতা পচা সার, ১ ভাগ গোবর, ১ ভাগ খৈল ও ১ ভাগ টি এস পি সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে।

প্রধান শুধু নাইট্রোজেনযুক্ত সার হলো এমোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3)। ... প্রধান ফসফেট সার হলো সুপারফসফেট। এসএসপি ১৪-১৮% P2O5 বহন করে। আরেকটি ফসফেট সার হলো টিএসপি যা প্রায় ৪৪-৪৮% P2O5 বহন করে।

চারা রোপণ ও পরিচর্যা:
ডালিয়া চাষের জমিতে জাত ভেদে ৬০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার দূরত্বে সারিবদ্ধভাবে আর প্রতি টবে একটি চারা রোপণ করতে হয়। টবের আকার ২৫ সেন্টিমিটার হলে ভালো হয়। চারা লাগানোর পর থেকে গাছে এমনভাবে সেচ দিতে হয় যাতে কখনো জলর ঘাটতি না পড়ে ও জলাবদ্ধতা দেখা না দেয়। ডালিয়া গাছে সাধারণ রেড স্পাইডার ও রেড মাইভ ধরনের পোকা হয়। এই পোকা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় হলো প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে ক্যালিথিন বা নোবাকন নামে ওষুধের ২০ ফোঁটা এক লিটার জলে ভালো করে গুলিয়ে সেই মিশ্রণটি ঝারির সাহায্যে গাছগুলোকে ভিজিয়ে দিতে হবে, তাহলেই এ ধরনের পোকার আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ ছবিতে দেখা যাচ্ছে পেয়ারার ফলের ভেতরের অংশ কালো হয়ে পচে গেছে এবং...