Monday, November 11, 2024

ছাদ কৃষির জন্য ১২ টি টিপস - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

🔷🔷 ছাদকৃষির জন্য এক ডজন টিপস 🌿☘️

ছাদ বাগানীদের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। টবে, ড্রামে গাছ লাগানো হয়। কেউ ফল, কেউবা সবজির গাছ লাগান। কেউ সফল হন। কেউ সফল হন না। ছোট ছোট কিছু ভুল বাগানীরা করে থাকেন। সে কারণে যত্ন নিলেও ফল আসে না। এখানে ছাদ বাগানীদের জন্য কিছু টিপস দেয়া হলো, যা মানলে সফলতা পাওয়া সহজ হতে পারে।

প্রথমেই মনে রাখতে হবে, টবে বা ড্রামে গাছ লাগালে তাকে খাবার দিতে হবে। প্রকৃতিতে বিদ্যমান গাছের মতো সে খাবার সংগ্রহ করতে পারে না। রোগ-বালাই হলো কিনা সেটাও বুঝে ব্যবস্থা নিতে হবে। ধৈর্য্য ধারণ করতে হবে।

১. মাটির সাথে অবশ্যই কিছু কোকোপিট মেশাবেন। গাছের গোড়া স্যাতস্যাতে হতে দিবেন না। স্যাতস্যাতে হলে অসংখ্য রোগ হবে। মাটি ভেজা থাকবে তবে স্যাতস্যাতে না। কেকোপিট মেশালে জল কম দিলেও হবে। কোকোপিট (নারকেলের ছোবলার গুড়া) জল ধরে রাখে। অতি বৃষ্টি হলে গোড়ায় জল জমতে দেয় না। হালকা হওয়ায় ছাদে ওজনের চাপ পড়ে না। এছাড়া কোকোপিটে কিছু পুষ্টি উপাদান আছে। যা গাছের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। কোকোপিটে চারা দ্রুত গজায়, বড় হয়। মাটির চেয়ে কোকোপিটে চারা ভালো হয়।

২. গাছের জন্য বিরিয়ানি হলো সরিষার খৈল-পচা জল। মাটির হাড়িতে খৈল পচাতে হবে। কমপক্ষে ৫ দিন। ৭ দিন কিংবা বা ১৫ দিন হলে উত্তম। অল্প পানিতে পচিয়ে তার সাথে আরো পানি মিশিয়ে দিতে হবে। এটি গাছের জন্য অত্যন্ত উপকারী। একটু গন্ধ হয়, তাই অল্প একটু গুড় দিতে পারেন। ছাদে হাড়িতে পচালে বাসায় গন্ধ আসবে না। বৃষ্টির সময় খৈল-পচা পানি দেবেন না। পুকুরের নিচে থাকা পাক কাদা গাছের জন্য খুব উপকারী।

৩. আমরা জানি, মাটিতে অসংখ্য ক্ষতিকর ছত্রাক থাকে। যা গাছকে মেরে ফেলার জন্য যথেস্ট। তাই মাটি রেডি করার সময় কিছুটা বায়োডামা সলিট দিবেন। এটি উপকারী ছত্রাক। মাটিতে ক্ষতিকারক উপাদানগুলো মেরে ফেলে। আবার জৈব সারের কাজও করে। গাছের জন্য মাটি হবে ঝুরঝুরে, হালকা।

৪. যাই লাগান না কেন, ভালো জাতের বীজ কিনা নিশ্চিত হয়ে নেবেন। ভালো বীজে ভালো ফসল হবে। নতুবা যতই যত্ন নেন না কেন, সব পরিশ্রম বেলাশেষে জলে যাবে। বীজ থেকে নিজে চারা করা উত্তম। কারণ বাজার থেকে যে চারা কিনবেন সেটার জাত ভালো হবে সে নিশ্চয়তা কোথায়? ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করে নেয়া উত্তম। পদ্ধতি হলো- ছত্রাকনাশক দেয়া পানিতে কিছুটা সময় বীজ ভিজিয়ে রাখতে হবে। ম্যানসার, মেটারিল দুটি ছত্রাকনাশক।

৫. গাছ বেশি তো ফলন বেশি- এটি ভুল ধারণা। অল্প জায়গায় বেশি গাছ লাগানো যাবে না। গাছ পাতলা করে লাগাতে হবে। বেশি লাগালে গাছ প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাবে না। একটি ফলের ক্রেটে মাত্র দুটি গাছ। একটি টবে একটি গাছ। ক্রেট বা টবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে।

৬. ছাদে মাচা দেয়া সমস্যা। কারণ ঘুঁটি থাকে না। এ জন্য ফলের ক্রেটের চারপাশে লাঠি বেঁধে সহজে মাচা দেয়া যায়। লতাপাতা জাতীয় গাছ লাগানোর পাত্র একটু গভীর হলে উত্তম। গাছের জন্য সবচেয়ে বেশি ভালো জৈব সার হলো পাতা-পচা সার, তারপর ভার্মি কম্পোস্ট, তারপর গোবর সার। পাতা-পচা সার সহজলভ্য নয়। দাম বেশি। কিন্তু ভার্মি কম্পোস্ট সহজলভ্য। মাটির সঙ্গে মিনিমাম ৪০% জৈব সার দেয়া উত্তম।

৭. নিম কীটনাশককে ক্ষতিকারক পোকা-মাকড় খুব অপছন্দ করে। এটি দিলে তারা বিরক্ত বোধ করে। গাছে বাসা বাঁধতে পারে না। প্রতি সাত দিনে একবার সব গাছের পাতায় নিম কীটনাশক স্প্রে করতে হবে। মাসে একবার ইপসম সল্ট স্প্রে করে দেয়া উত্তম। একইভাবে মাসে একবার পানির সঙ্গে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড মিশিয়ে স্প্রে করা ভালো।

৮. ডাটা, পুইশাক, লালশাক, ধনেপাতা এসব লাগাতে পারেন। মাত্র ২৫ দিনে খেতে পারবেন। লালশাক লাগালে নেট দিয়ে ঘিরে দেবেন। শাকপাতা লাগালে দ্রুত আউটপুট পাবেন। যা আপনাকে প্রেরণা দেবে। পুইশাক গাছের পাতায় দাগ হলে পাতা কেটে দিন। অথবা ছত্রাকনাশক স্প্রে করেন। অথবা গাছ উঠিয়ে আবার লাগান। ইউরিয়া সার দিলে পুইশাক দ্রুত বাড়বে। শশা গাছের বৃদ্বির জন্য ডিএপি সার দিলে ভালো হবে। শশা গাছে ছাড়া ছাড়া ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হয়। খুব রোদ, গাছের গোড়ায় মালচিং করে দিয়ে উত্তম ফল মিলবে। মালচিং হলো গাছের গোড়ায় বিশেষ পলিথিন কিংবা শুকনো পাতা, খড় দিয়ে ঢেকে দেয়া।

৯. ফুল আসার পরে প্রানোফিক্স অথবা মিরাকুরান গাছের পাতায় শেষ বিকালে স্প্রে করবেন। বাসায় দুইটি গ্রুপের ছত্রাকনাশক রাখা ভালো। যেমন- ম্যানসার, মেটারিল। ১৫ দিনে একবার স্প্রে করবেন।  এগরোমিন্ড গোল্ড অনুখাদ্য বা অন্য কোনো অনুখাদ্য বাসায় রাখতে হবে। মাসে কমপক্ষে একবার স্প্রে করবেন। অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টি, খাদ্যের অভাব, গাছ রোগাক্রান্ত, আবহাওয়া দ্রুত আপডাউন করা ইত্যাদি কারণে ফুল ঝরে পড়তে পারে। আবার পরাগায়ন না হলে ঝরে পড়তে পারে। এ জন্য হাতের মাধ্যমে পরাগায়ন করতে হবে। পুরুষ ফুলের পরাগদণ্ড নারী ফুলে গর্ভে ঘষে দিতে হবে।

১০. ছাদ বাগানে গাছ মারা যাওয়ার অন্যতম কারণ পানি বেশি বা কম দেয়া। যতটুকু লাগে ঠিক ততটুকু পানি দিতে হবে। কোন গাছের কি চাহিদা, রোগ একটু স্টাডি করলে সহজে সফল হতে পারবেন।

১১. গাছের পাতার নিচে খেয়াল করবেন। বেগুন গাছের পোকা মারার জন্য সেক্স ফোরেমান ফাঁদ লাগাবেন। ডগা ছিদ্র বা ফল ছিদ্র হলে সাইপারমেত্রিন গ্রুপের কীটনাশক দিতে হবে। একটি বেগুন গাছ অনেক দিন ফল দেয়। ঢেড়স গাছ বেশি রোদ পড়ে এমন জায়গায় লাগাবেন। বেগুন, ঢেড়স, লালশাক, পুইশাক, ধনেপাতা, ডাটা শাক- এসব গাছের খুব যত্ন করতে হয় না।

১২. রসুন আর লবঙ্গ বেটে সেই পানি গাছে স্প্রে করলে পোকা কম আসবে। মরিচ গাছে নেপথলিন বেঁধে দিন, পোকা কম আসবে। পাতা কোকড়ালে ভার্মিটেক কিংবা এবোম কীটনাশক দিন। কোকড়ানো পাতা ফেলে দিন। মরিচ গাছে দশ দিন পর পর ডায়মেথট গ্রুপের (যেমন টাফগর) কীটনাশক দিলে উপকার হবে। সবকিছু করছেন, তারপরও কাজ হচ্ছে না। এক্ষেত্রে গাছের জায়গা বদল করেন, উঠিয়ে অন্যত্র লাগান।


Saturday, November 9, 2024

আলু চাষে সার এবং সেচ গুরুত্বপূর্ণ কি কি করবেন দেখুন - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

আলু চাষে সার এবং সেচ ব্যবস্থাপনা:

আলু চাষের উপযুক্ত সময় কার্তিক-অগ্রহায়ণ মাস অর্থাৎ হেমন্তকাল। হালকা বেলে-দোআঁশ মাটি আলু চাষের জন্য উপযুক্ত। ভালো জাত ও বীজ আলু চাষের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আলু চাষ করার উপযুক্ত সময় এখনই। আলুর এক বিঘা জমিতে অর্থাৎ ৩৩ শতক জমিতে কখন কী পরিমাণ সার প্রয়োগ করলে ফলন বেশি পাওয়া যায়? আলুর জমিতে কখন কী সার কতটুকু প্রয়োগ করা দরকার, উচ্চ ফলন পেতে হলে কী করণীয়; সে সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরা হল এই প্রতিবেদনে।

আলুর ভালো ফলন পেতে হলে অবশ্যই সঠিক সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণে সার প্রয়োগ করা অতি গুরুত্বপূর্ণ। কেননা সঠিক পরিমাণে সার প্রয়োগ না করলে ভালো ফলন পাবেন না। এ ছাড়া সময়মতো সেচ দেওয়া বেশি ফলন পাওয়ার জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ। আলুর জমিতে সাধারণত দুই থেকে তিন ধাপে সার প্রয়োগ করা হয়।

প্রথম ধাপ: আলু রোপণের আগে, জমি চাষের সময় মাটির সাথে সারগুলো মেশাতে হয়। তারপর আলু রোপণ করতে হয়।

দ্বিতীয় ধাপ: আলু রোপণের ২৪ থেকে ২৫ দিনের সময় অর্থাৎ আলুর গাছ যখন মাটি দিয়ে পুনরায় বেঁধে (কেইল) দেওয়া হয়, তখন দেওয়া হয়।

এ দুটি ধাপে কখন কী পরিমাণ সার দেওয়া প্রয়োজন, তা বিস্তারিত নিচে দেওয়া হল:

যেসব কৃষক বাণিজ্যিকভাবে আলু চাষ করে থাকেন, তাদের জন্য আলু রোপণের আগে, চাষের সময় মাটির সাথে যে পরিমাণ সার মেশাতে হবে; তা তুলে ধরা হলো। আলু চাষে প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমির জন্য ইউরিয়া ২৫ কেজি, পটাশ ৭৫ কেজি, টিএসপি ৭৫ কেজি, জিপসাম ৩০ কেজি, দস্তা ১ কেজি এবং বোরন ১ কেজি, ম্যাগনেসিয়াম সালফেট ৮ থেকে ১০ কেজি। এ ছাড়া মাটির পোকামাকড় এবং রোগজীবাণু ধ্বংসের জন্য তরল কীটনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া বাঞ্ছনীয়। এসব সার একত্রে মিশিয়ে জমিতে ছড়াতে পারেন।

আলু রোপণের পর সাধারণত মাটির জোর অনুযায়ী দুটি সেচের পর আলু গাছ মাটি দিয়ে বেঁধে দিতে হয়। অর্থাৎ আলু রোপণের ২৪ থেকে ২৫ দিনের ভেতর আলু গাছের দুপাশের মাটি কেটে, আগাছা পরিষ্কার করে ফেলতে হবে।

আলুর জমিতে দ্বিতীয় পর্যায়ের যে পরিমাণ সার প্রয়োগ করতে হবে, তা হলো: 
আলু চাষে প্রতি বিঘা (৩৩ শতক) জমির জন্য ইউরিয়া ২৫ কেজি, পটাশ ২৫ কেজি, টিএসপি ২৫ কেজি, থিউভিট ১ কেজি, বোরন ১ কেজি এবং দস্তা ১ কেজি। এর সাথে তরল কীটনাশক প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে স্থানীয় কৃষি বিভাগের পরামর্শ নেওয়া অবশ্যই বাঞ্ছনীয়।

এসব সার একত্রে মিশিয়ে জমিতে ছড়িয়ে নিতে পারেন। সার ছিটানোর পর দুপাশের মাটি দিয়ে আলু গাছকে বেঁধে (কেইল) দিতে হবে। আলু গাছকে মাটি দিয়ে বেঁধে দেওয়ার কাজটি নির্দিষ্ট মাপের কোদাল দিয়ে করা হয়। এ সময় একটি বিষয় খুব সতর্কতার সাথে লক্ষ্য রাখতে হবে, আলু গাছকে মাটি দিয়ে বেঁধে দেওয়া শেষ হলে, আলু ক্ষেতে দ্রুত সেচ দিতে হবে। চাষিদের মনে রাখতে হবে, আলুর ভালো ফলন পেতে হলে সময়মতো সেচ দেওয়া খুবই জরুরি।

Tuesday, November 5, 2024

জমিতে ডলোমাইট চুন প্রয়োগের উপকারিতা - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

জমিতে ডলোমাইট চুন প্রয়োগের উপকারিতা:


ডলোচুন:

ডলোচুন হলো এক ধরনের সাদা পাউডার জাতীয় দ্রব্য। এটিকে ডলোচুন, ডলোঅক্সিচুন বা ডলোমাইট পাউডারও বলা হয়। ফসল উৎপাদনে হাজারো সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো মাটির তীব্র অম্লতা বা এসিডিটি সমস্যা। 

প্রতিনিয়ত অপরিকল্পিতভাবে রাসায়নিক সার ব্যবহারের মাধ্যমে দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে মাটির অম্লত্ব বা এসিডিটি। এই সমস্যায় থেকে উত্তরণের উপায় হলো জমিতে সুপারিশকৃত মাত্রা অনুসারে ডলোচুনের ব্যবহার।

ডলোচুন কেন ব্যবহার করা হয়:

মাটির অম্লত্বের তীব্রতা নির্ধারণ করা হয় মাটির অম্লমান বা পিএইচ দ্বারা। মাটির অম্লমান সর্বাধিক ১৪ পর্যন্ত হতে পারে। মাটির অম্লমান ৭-এর নিচে বা কম হলে তা অম্লীয় মাটি। আর ৭-এর উপরে বা বেশি হলে তা ক্ষারীয় মাটি। 

অম্লমান-৭ থেকে যত কমতে  বা নামতে থাকবে মাটি তত বেশি অম্লীয় হবে। আর মাটির অম্লমান ৫.৫ বা এর কম হলে তা তীব্র অম্লীয় মাটির পর্যায়ে পড়ে। ফলে সুপারিশকৃত মাত্রায় ডলোচুন ব্যবহার করলে তীব্র অম্লীয় মাটিকে সংশোধন করা যায়। ডলোচুনে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম থাকে, যা তীব্র অম্লীয় মাটির অম্লত্ব হ্রাস করতে সহায়তা করে।

ডলোচুনের সুপারিশকৃত মাত্রা:

অধিক অম্লীয় মাটিতে সুপারিশকৃত মাত্রা হলো শতকে ৪ কেজি বা একরে ৪০০ কেজি বা হেক্টরে ১০০০ কেজি। কোনোভাবেই এর মাত্রা কম বেশি করা যাবে না। কোনো জমিতে একবার ডলোচুন প্রয়োগ করলে পরে তিন বছর আর ডলোচুন প্রয়োগ করার প্রয়োজন হয় না।

ডলোচুন ছিটানোর নিয়ম:

কোনো জমিতে ডলোচুন প্রয়োগের আগে সুপারিশকৃত মাত্রা অনুসারে মোট ডলোচুনকে সমান দুইভাগে ভাগ করে নিতে হবে। জমির মাটিতে জো থাকা অবস্থায় উত্তর-দক্ষিণ বরাবরে অর্ধেক পরিমাণ ডলোচুন ছিটিয়ে দিতে হবে। 

বাকি অর্ধেক পরিমাণ ডলোচুন পূর্ব-পশ্চিম বরাবর বা আড়াআড়িভাবে ছিটিয়ে দিতে হবে। ডলোচুন প্রয়োগের সাথে সাথে আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে দিতে হবে। এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। কমপক্ষে ১২-১৪ দিন পর জমিতে প্রয়োজনীয় চাষ ও মই দিয়ে ফসল বুনতে বা গাছ রোপণ করতে পারবেন। 

ডলোচুন প্রয়োগের সঙ্গে সঙ্গে বীজ বপন করলে বীজের অঙ্কুরোদগমের হার কমে যেতে পারে বা অঙ্কুরিত গাছের মূল ও কাণ্ডের বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে। জমি যদি শুকনা হয় বা রস কম থাকে তাহলে ডলোচুন ব্যবহারের নিয়ম হলো ফাঁকা জমিতে প্রয়োজন মতো ডলোচুন আড়াআড়িভাবে প্রয়োগ করতে হবে। এরপর চাষ দিতে হবে। মই দিয়ে সমান করতে হবে। সাথে হালকা সেচ দিতে হবে। অতঃপর কমপক্ষে ৭ দিন পর জমিতে প্রয়োজনীয় চাষ ও মই দিয়ে ফসল বুনতে বা গাছ রোপণ করতে হবে।

ডলোচুন ছিটানোর উপযুক্ত জমি:

সাধারণত বছরের যে কোনো সময় ডলোচুন প্রয়োগ করা যেতে পারে। তবে আমন ধান কাটার পরে ফাঁকা জমিতে বা রবি মৌসুমে ডলোচুন প্রয়োগের উত্তম সময়। ডলোচুন যেহেতু মাটির এসিডিটি বা অম্লতা সংশোধন করে মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করে, ফসল উৎপাদন উপযোগী করে তোলে তাই সব ধরনের ফসল গম, ভুট্টা, আলু, সরিষা, পাট, ডালজাতীয় ফসল, তেলজাতীয় ফসল, মসলাজাতীয় ফসল এবং শাকসবজি জাতীয় ফসলের ফলন বৃদ্ধি ও গুণগতমানের ফসল পাওয়ার জন্য অম্লীয় মাটিতে ডলোচুন ব্যবহার করা যেতে পারে।

ডলোচুন ব্যবহারের সুবিধাসমুহ:

ডলোচুন প্রয়োগ করা সহজ, খরচ কম এবং বাজারে সহজলভ্য।
গম, ভুট্টা, আলু, সরিষা, ডাল, মসলা ও সবজি জাতীয় ফসলের ফলন শতকরা ১০-৫০% বৃদ্ধি পায়।

* ডলোচুন একবার প্রয়োগ করলে পরবর্তী ৩ বছর প্রয়োগ করতে হয় না।

* ডলোচুন একবার প্রয়োগ করলে ম্যাগনেসিয়াম সারের প্রয়োজন পড়ে না।

* ফসলের গুণগতমান বৃদ্ধি পায় যেমন আলুর স্কেব রোগ কম হয়, সবজি ফসলের রঙ উজ্জ্বল হয়, পাটের কালো পট্টি রোগ কম হয়।
জমিতে সমানভাবে ফসলের বৃদ্ধি হয়ে থাকে।

ডলোচুন ব্যবহারে সাবধানতাঃ

* সুপারিশকৃত মাত্রার অধিক পরিমাণ ডলোচুন প্রয়োগ করা যাবে না।

* ডলোচুন প্রয়োগের সাথে সাথে চাষ ও মই দিয়ে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।

* মাঠে ফসল আছে এমন অবস্থায় ডলোচুন প্রয়োগ করা যাবে না।

* বেশি বাতাসের সময় ডলোচুন মাটিতে ছিটানো যাবে না।

* জমির দাঁড়ানো পানিতে বা কাদা অবস্থায় ডলোচুন প্রয়োগ করা যাবে না।

* মাটির অম্লীয় সমস্যা সংশোধনের জন্য সঠিকভাবে সুপারিশকৃত মাত্রা ও পদ্ধতিতে ডলোচুনের ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

* ধান ছাড়া অন্যান্য ফসলের ক্ষেত্রে ডলোমাইট তিন বছরে একবার জমিতে ব্যবহার করতে হবে। চারা রোপন বা বীজ বপনের কমপক্ষে ১৫ দিন আগে ডলোমাইট প্রয়োগ করতে হবে।
জমিতে পরিমানমত ডলোমাইট ব্যবহার করা হলে আগামী ৩ বছরের মধ্যে আলাদাভাবে ম্যাগনেশিয়াম সালফেট সার ব্যবহারের প্রয়োজন নেই।

রবি ফসলের ক্ষেত্রে (গম, আলু, ভুট্টা, সরিষা, পিঁয়াজ, সবজি ইত্যাদি) জমি প্রস্তুতির চূড়ান্ত পর্যায়ে প্রতি শতাংশে ১২ থেকে ১৬ কেজি জৈব সার (গোবর, কম্পোস্ট সার ইত্যাদি) মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে।

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ ছবিতে দেখা যাচ্ছে পেয়ারার ফলের ভেতরের অংশ কালো হয়ে পচে গেছে এবং...