🚫🚫ভূট্টার বিধ্বংসী পোকা ফল আর্মি ওয়ার্ম:🐛🐛
ফল আর্মিওয়ার্ম হলো Lepidoptera order এর একটি ক্ষতিকর কাটুই পোকা যার বৈজ্ঞানিক নাম Spodoptera frugiperda.
ফল আর্মিওয়ার্ম বা সাধারন কাটুই পোকা পৃথিবীব্যাপী একটি মারাত্মক ক্ষতিকারক ও বিধ্বংসী পোকা হিসেবে পরিচিত।
এটি মূলত আমেরিকা মহাদেশের পোকা হলেও ২০১৬ সালে আফ্রিকা মহাদেশে এদের আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়।
২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশ বিশেষত; ভারত এবং শ্রীলংকায় এদের আক্রমণ পরিলক্ষিত হয়।
২০১৮ সালের নভেম্বর মাসের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট কর্তৃক দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের জেলাসমূহে এদের আক্রমণ রেকর্ড করা হয়েছে।
🔘 পোকা চেনার উপায়ঃ
দেহের উপরিভাগে দুই পাশে লম্বালম্বিভাবে গাঢ় রঙের দাগ রয়েছে।
মাথায় উল্টা Y অক্ষরের মধ্যে জালের মতো দাগ রয়েছে।
পোকাটির পৃষ্ঠ দেশের ৮ম খণ্ডে ৪ টি কালো দাগ রয়েছে।
🔘 ফল আর্মিওয়ার্মের জীবনচক্রঃ
🔸 ডিম, কীড়া, পুত্তলি এবং পূর্নাঙ্গ পোকা এই ৪ টি ধাপে পোকাটি জীবনচক্র সম্পন্ন করে থাকে।
🔸 এই পোকাটি শীতকালে ৭০-৮০ দিনে এবং গ্রীষ্মকালে ৩০-৩৫ দিনে জীবনচক্র সম্পন্ন করে থাকে।
জীবনচক্রের মধ্যে ডিম ( ৩-৫ ), কীড়া (১৪-২৮ ), পুত্তলি (৭-১৪ ) এবং পূর্নাঙ্গ অবস্থায় (১১-১৪) দিন অতিবাহিত করে থাকে।
🔸 স্ত্রী পোকা সাধারণত পাতার নিচে ডিম পাড়ে। পরবর্তীতে ডিম ফুটে কীড়া বের হয়ে পাতা বা ফল খাওয়া শুরু করে।
🔘 ক্ষতির ধরণঃ
পোকাটি কীড়া অবস্থায় গাছের পাতা ও ফল খেয়ে থাকে।
পূর্নাঙ্গ পোকা ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করে থাকে।
🔘 ক্ষতির ব্যপ্তিঃ
কীড়া অবস্থায় পোকাটির খাদ্য চাহিদা কম থাকে এবং এসময় তারা গাছের পাতা ও ফল খেয়ে থাকে। তবে জীবনচক্রের শেষ ধাপসমূহে এর খাদ্য চাহিদা ৫০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। পূর্নাঙ্গ পোকা ভুট্টা, আলু বা অন্যান্য ফসলের ক্ষেতে প্রায় ২০-১০০% পর্যন্ত ক্ষতি সাধন করে থাকে। তবে ভুট্টা ফসলে এর সর্বাধিক ক্ষতি পরিলক্ষিত হয়।
🔘 অনুকূল পরিবেশ:
গ্রীষ্ম মৌসুমে এটি সারাদেশে বিশেষত; ভুট্টা আবাদকৃত অঞ্চলসমুহে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
🔘 জৈবিক ও যান্ত্রিক পদ্ধতিতে দমনঃ
✅ সার্বক্ষণিক ফসলের মাঠ পরিদর্শন করা এবং লক্ষণ অনুসারে পোকাটি সনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া।
✅ ফেরোমন ফাঁদ-ফল আর্মি ওয়ার্ম/স্পোডো লিউর (বিঘা প্রতি ৫টি) ব্যবহার করতে হবে।
✅ আক্রমন পরিলক্ষিত হলে জৈব বালাইনাশক ফউলিজেন ৫মিলি/১৬ লিটার হারে পানিতে মিশিয়ে সন্ধ্যাকালীন সময়ে গাছ পুরোপুরি ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।
✅ আক্রান্ত গাছ হতে ডিম বা দলাবদ্ধ কীড়া চিহ্নিত করে পিষে মেরে ফেলতে হবে বা মাটির নীচে কমপক্ষে একফুট পরিমান গর্ত করে পুঁতে ফেলতে হবে।
✅ একই জমিতে অবশ্যই ভুট্টা পরবর্তী ফসল হিসেবে ভুট্টা বা এই পোকাটির অন্য পোষক ফসল চাষ না করে ধান চাষ করলে ‘ফল আর্মিওয়ার্ম’ এর আক্রমণ কমে যায়।
✅ এছাড়াও ফসলের জমিতে পোকাটি সনাক্ত করা মাত্র নিকটস্থ উপজেলা কৃষি অফিস বা উপসহকারী কৃষি অফিসারের সাথে যোগাযোগ করতে হবে।
🔘রাসায়নিক পদ্ধতিতে দমনঃ
✅ ভুট্টার জন্য নিউরন/ফুলটাইম/লরেন্ট ৫০ ডব্লিউ ডি জি'
৮ গ্রাম প্রতি ১৬ লিটার জলে মিশিয়ে সন্ধ্যাকালীন সময়ে গাছ পুরোপুরি ভিজিয়ে স্প্রে করতে হবে।