Wednesday, October 20, 2021

আলোচনা হোক ধানের লক্ষ্মীর গু রোগ নিয়ে - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

∆ ধানের লক্ষ্মীর গু রোগ :

• রোগের লক্ষণ :
              রোগ আক্রমণের শুরুর দিকে পুষ্পমঞ্জরী এবং পরে দানা আক্রান্ত হয়। শীষের প্রতিটি দানায় ১ সেমি. ব্যাসযুক্ত কমলা, মখমলের মতো ডিম্বাকৃতি পিণ্ড দেখা যায়। ক্রমশঃ এগুলো হলুদাভ-সবুজ বা সবুজাভ-কালো বর্ণ ধারণ করে। একেকটি শীষে গুটিকয়েক জীবাণু বল তৈরি হয়। গাছের অন্যান্য অংশ আক্রান্ত হয় না। সব ক্ষেত্রেই দানার ওজন এবং অঙ্কুরোদ্গম হার কম হয়।

• রোগ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ :
              ভিল্লোসিক্লাভা ভাইরেন্স জীবাণু দ্বারা এ উপসর্গের সৃষ্টি হয়, যা ধানের বৃদ্ধির সকল পর্যায়ে হতে পারে, তবে ফুল আসার পরবর্তীতে ধানে দুধ আসার পর এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বেশি আপেক্ষিক আর্দ্রতা (> ৯০ শতাংশ), ঘন ঘন বৃষ্টি এবং ২৫-৩৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। মাটিতে অধিক নাইট্রোজেনের উপস্থিতিও এ রোগের প্রকোপ বাড়ায়। আগাম ধান চাষ করা জমিতে নামলা চাষ করা ক্ষেতের চেয়ে এ রোগ কিছুটা কম হয়। আক্রমণ মারাত্মক আকার ধারন করলে, ২৫% -এর বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভারতে ৭৫ % ক্ষতির রেকর্ড আছে।

• জৈবিক নিয়ন্ত্রণ :
             ৫২° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০ মিনিট ধরে বীজ শোধন করলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। শীষ ধরার কালে কপার সমন্বিত উপাদান (২.৫ গ্রাম/লি. জল) স্প্রে করলে ফলাফল ভাল হয়। কপার সমন্বিত উপাদান রোগ দেখার সাথে সাথে স্প্রে করলে রোগও কমে ফলনও কিছুটা বাড়ে।

• রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ :
            সম্ভবমত সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বদা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করে তেমন ফলাফল আসে না। ধান গাছে ফুল আসার পূর্বে (৫০-১০০%) অ্যাজোক্সিস্ট্রবিন, প্রপিকোন্যাজোল, ক্লোরোথ্যানোনিল, অ্যাজোক্সিস্ট্রবিন + প্রপিকোন্যাজোল, ট্রাইফ্লোক্সিস্ট্রবিন + প্রপিকোন্যাজোল, ট্রাইফ্লোক্সিস্ট্রবিন + টেবুকোন্যাজোল প্রয়োগ করলে রোগ দমনের পাশাপাশি ফলনও কিছুটা বাড়ে। ভারতে এ রোগ দমনের জন্য অরিওফাঞ্জিন, কাপটান এবং ম্যানকোজেব প্রয়োগ করেও উল্লেখযোগ্য ফলাফল পাওয়া গেছে।

• প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা : 
          ১) প্রত্যয়িত উৎস থেকে সুস্থ বীজ সংগ্রহ করে ব্যবহার করুন।
          ২) রোগ প্রতিরোধী সহনশীল ধানের জাত চাষ করুন।
          ৩) যদি সম্ভব হয় রোগ থেকে মারাত্মক ক্ষতি হওয়া এড়িয়ে যেতে আগেভাগেই চাষ করুন।
          ৪) লজমি সর্বদা প্লাবিত অবস্থায় না রেখে পর্যায়ক্রমে শুকনো ও প্লাবিত অবস্থা বজায় রাখুন।
          ৫) জমিতে পরিমিত হারে নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করুন এবং তা কয়েক ধাপে প্রয়োগ করুন।
          ৬) রোগের লক্ষণ দেখা যায় কিনা তা মাঠে তদারকি করুন।
          ৭) মাঠের আল ও সেচের নালা পরিষ্কার রাখুন।
          ৮) ধানের শীষ, বীজ, জমি আগাছা মুক্ত রাখুন এবং ধান কাটার পরে জমি থেকে সব আক্রান্ত অবশিষ্টাংশ নাড়া সরিয়ে ফেলুন।
          ৯) গভীর ভাবে চাষ করে এবং সূর্যের তাপে জমি শুকিয়ে এ রোগ পরের বছর অনেক কমানো যায়।
          ১০) যদি সম্ভব হয়, নিয়ন্ত্রিতভাবে জমি চাষ করুন এবং ক্রমাগত ধানের চাষ করুন।
          ১১) ২-৩ বছর পর পর অনাবাসী ফসল দ্বারা ফসল-চক্রের পরিকল্পনা করুন।

Saturday, October 9, 2021

ছত্রাক ও ভাইরাস নাশক ঔষধ তৈরির পদ্ধতি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি


ছত্রাকনাশক এবং ভাইরাস নাশক দ্রবণ 

আমরা চাষ করতে গিয়ে যেকোন সবজি তে একটি বড় সমস্যার সন্মুখীন হই সেটি হল ছত্রাক এবং ভাইরাস এর জন্যে এবং জৈব উপায়ে কিভাবে তা দমন করব তা নিয়ে চিন্তিত থাকি , যে জৈব ভাবে সর কিটবিতারক তো ব্যাবহার করছি কিন্তু ফসলে ছত্রাকনাশক এবং ভাইরাস দূর করব কি করে তা আজকে আমরা জানব –

একটি হিসেব বলছি এক একর বা ৩ বিঘা জমির জন্যে আপনার আপনাদের প্রয়োজন অনুসারে আনুপাতিক হার মিলিয়ে করে নিবেন,

উপকরন

জল ২০০ লিটার
টক দই ৫ লিটার (৪-৫) দিনের পুরোনো 

প্রস্তুতি ও ব্যাবহার

উপরক্ত দুটি জিনিসকে এক সঙ্গে ভাল করে মিশয়ে নিয়ে এক একর বা ৩ বিঘা জমিতে স্প্রে করা যেতে পারে

উপকারিতা

যে কোন ফসলের ছত্রাক এবং ভাইরাস দমনের জন্যে এই মিশ্রণ ব্যাবহার করতে পারেন , এটি পেপে গাছের একটি বড় সমস্যা লিফকার্ল এবং মোজাইক ভাইরাস আক্রমণের কারণে প্রায় ৭০% জমি নষ্ট হয়ে যায় এবং রাসায়নিক ভাবে কন্ট্রোল করা সমস্যা কন্ট্রোল করা যায় না কিন্তু নিমস্তর / অগ্নি অস্ত্র প্রয়োগ এবং পরে ঐ দ্রবণ ৭ দিন পর পর প্রয়োগ করলে ৩ বার দিলেই পেপের এই রোগ দমন করা সম্ভব হয়।

আপনার প্রয়োগ করে দেখুন ভাল ফলাফল পাবেন , পোস্ট টি লাইক শেয়ার করতে ভুলবেন না , আমরা আরও মানুষের কাছে পৌছতে চাই এবং তাদের সমস্যা সমাধান করতে চাই।

বীজ শোধনের ঘরোয়া পদ্ধতি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি


বিজামৃত যা জৈব পদ্ধতিতে বীজ শোধনের সবচেয়ে উত্তম উপকরন

আজ আপনাদের বিভিন্ন জৈব সার এবং কীটবিতারক প্রস্তুতি কিভাবে করতে হয় সে তথ্য দেবার চেষ্টা করেছি,
আজকে আমরা জনবো কি করে জৈব উপায়ে বীজ শোধন করতে হয়, বীজ শোধন করাটা খুব জরুরী বিষয় কারণ বীজ যদি জীবাণু মুক্ত না হয় তাহলে সেখান থেকে রোগ জমিতে গিয়ে বড় আকার ধরণ করে এবং অসানুরূপ ফলন হয় না চাষের ক্ষতি হয় এবং তা নিয়ন্ত্রণের জন্যে বিভিন্ন ভাবে টাকা খরচ হয়, আসুন তাহলে জেনে নেই এর পদ্ধতি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

১০০ কেজি বীজ শোধনের হিসেবে যা যা লাগবে তা আপনাদের আমরা জানাচ্ছি, কিন্তু আপনাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আপনারা অনুপাত ঠিক করে নেবেন,
১. জল ২০ লিটার 
২. দেশী গোমুত্র ৫ লিটার 
৩. দেশী গোবর ৫ কেজি 
৪. চুন ৫০ গ্রাম 
৫. বট পাকুর গাছের গোড়ার মাটি ৫০ গ্রাম 

মিশ্রণ তৈরি

উপরোক্ত সব কিছুকে এক সঙ্গে মিশিয়ে নিন, নিয়ে ড্রামে ঢেলে ভাল করে গুলে নিয়ে একটি ছায়া জায়গায় ২৪ ঘণ্টা রেখে দিন এবং এই ২৪ ঘণ্টায় দুবার ১ মিনিট করে মিশ্রণটিকে একটি লাঠি দিয়ে নাড়িয়ে দিতে হবে, ২৪ ঘণ্টা পর মিশ্রণটি ব্যাবহার করার যোগ্য হয়ে যাবে।

ব্যাবহার 

বীজ লাগানোর ২৪ ঘণ্টা আগে বিজামৃত দিয়ে দিয়ে ভিজিয়ে রেখে শোধন করতে হবে

উপকারিতা

শোধনের ফলে বীজে থাকা রোগ জীবাণু নষ্ট হবে যেমন তেমনি বীজএর অঙ্কুরোদগমও ভাল হবে। সেই সঙ্গে চারা লাগানোর  পূর্বে  চারার গোড়া ৫ মিনিট ভিজিয়ে শোধন করে লাগলেও উপকার পাওয়া যায়।

Saturday, October 2, 2021

মাটির পিএইচ বলতে আমরা কি বুঝি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি


মাটির পিএইচ (pH) বলতে কী বুঝি? চাষের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কী? 
সহজভাবে বললে, পি.এইচ, হল অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের মাপ। অম্লত্ব কী? সহজ বাংলায় বলতে গেলে, ‘টোকো’ ভাব। ক্ষারত্ব কী? চুন সোডা সাবান, জাতীয় জিনিসের যে চরিত্র থাকে, সেই চরিত্র বা ভাব। কোনো কিছুর পি.এইচ. বলতে বোঝায় সেই বস্তুর অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের মাত্রা। এই মাপটি করা হয় ০ থেকে ১৪ সংখ্যা ব্যবহার করে। সংখ্যা ৭-এর কম হলে বস্তুর অম্লত্ব নির্দেশ করে (অর্থাৎ বস্তুটিতে ‘টোকো’ ভাব বেশি আছে), আর সংখ্যা ৭-এর বেশি হলে বস্তুর ক্ষারত্ব নির্দেশ করে। অর্থাৎ অম্লত্ব যত বাড়বে, সংখ্যা ৭এর তত কম হবে। আর ক্ষারত্ব যত বাড়বে, সংখ্যা ৭-এর তত বেশি হবে। ঠিক ৭ হলে বুঝতে হবে তা অনুও নয়, কারও নয়। বিশুদ্ধ জলের পি.এইচ. ৭। তবে প্রকৃতিতে জল একদম বিশুদ্ধ পাওয়া যায় না, তাই ভালো জলের-ও পি.এইচ.-ও ৭-এর অল্প একটু এদিক ওদিক হতে পারে।
যে কোনাে চাষের ক্ষেত্রেই, অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের গুরুত্ব রয়েছে। মাটি বেশি অম্ল বা বেশি ক্ষার হয়ে গেলে চাষ ভালো হবে না। দেখা গেছে যে প্রায় সব উদ্ভিদের ক্ষেত্রেই মাটির পি.এইচ, ৫.৫ থেকে ৮-এর মধ্যে থাকতে হবে। তবে এক একটি উদ্ভিদের ক্ষেত্রে সংখ্যাগুলা এক এক রকম হবে। যেমন ধানের ক্ষেত্রে পি.এইচ. ৫.৫ থেকে ৬.৫-এর মধ্যে থাকলে ভাল, গমের ক্ষেত্রেও তাই। বাঁধাকপির ক্ষেত্রে ৫.৬ থেকে ৬.৬ থাকলে ভাল হয়, আর ফুলকপির ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৭। তবে দেশীয় প্রজাতি বা হাইব্রিড প্রজাতির ক্ষেত্রে অল্প তারতম্য হতে পারে। পি.এইচ. মিটার দিয়ে মাপা যেতে পারে।
মাটির ক্ষেত্রে যা সত্যি, জলের ক্ষেত্রেও তাই। মাছ চাষের জন্যেও জলের পি.এইচ. মাপা দরকার। সাধারণভাবে মাছ চাষের জন্য জলের পি.এইচ. ৭.৫ থেকে ৮.৫-এর মধ্যে থাকলে ভাল হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পি.এইচ. কমে যাওয়ার (মানে অম্লত্ব বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা হয়। তখন চুন দিয়ে অম্লত্ব কমানাের (অর্থাৎ পি.এইচ. বাড়ানর দরকার হয় )
এখন সব জেলাতে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র গুলোতে এবং জেলা মাটি পরিখ্যা কেন্দ্রে বিনা মূল্যে মাটি পরীক্ষা হচ্ছে আপনাদের ধান ফসল উঠে যাওয়ার পর কিছু চাষের পূর্বে কি চাষ করবেন তা নির্ধারণ করে মাটি পরীক্ষা করিয়ে আনবেন।

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ ছবিতে দেখা যাচ্ছে পেয়ারার ফলের ভেতরের অংশ কালো হয়ে পচে গেছে এবং...