Thursday, December 24, 2020

চায়ের কাপেই আপনার সেন্দর্য, আসুন জেনে নেই ভেষজ চা প্রস্তুতির পদ্ধতি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

ভেষজ চা !
চা এর কাপেই জীবন বদলে দেবে, এটাই প্রমাণিত।  নিজেকে সুন্দর করে তুলতে কে না চায় ? " সুন্দরের " ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব না। তবে ঘরোয়া পদ্ধতিতে চটজলটি ওজন কমিয়ে নিজেকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা এখন সম্ভব। ওজন কমাতে ভেষজ চা অনেকেই খেয়ে থাকেন। তাই এক ভেষজ চা নিয়ে আলোচনা করছি যা  সুস্বাদু  ও সুস্বাস্থ্যের দুয়ের জন্যেই কার্যকরী ।

উপকরণ: 
১.  এক চা চামচ লেমন গ্রাস
২.  চার - পাঁচটি তুলসী পাতা
৩.  এক চা চামচ কাঁচা মৌরি
৪.  দুটো গোলমরিচ
৫.  দুটো এলাচ
৬.  ছোট এক টুকরো দারুচিনি

প্রণালী: 
এক কাপ গরম জলে উপরোক্ত উপকরণগুলি দিয়ে ৫ মিনিট কম আঁচে ফুটিয়ে নিলেই তৈরি সুস্বাদু ভেষজ চা। ভেষজ চা ওজন কমানোর কাজে সাহায্য করে আমরা জানি। এছাড়াও মেটাবলিজম বাড়াতেও উপকারী। ভেষজ চা 'কে সুস্বাদু করে তুলতে যেসব উপকরণ ব্যবহার করা উচিত সেগুলোও ওজন কমাতে সমান উপযোগী। মৌরি, বিপাকে সাহায্য করে। শরীরে মেদ ঝরিয়ে শরীরকে ঠান্ডা রাখে। গোলমরিচ, নতুন ফ্যাটকোশ তৈরিতে বাধা দেয়। এলাচ, মেটাবলিজম ঠিক রাখে, মেদ কমাতে কাজে লাগে এবং দারুচিনি ও মৌরির মতোই বিপাকে সাহায্য করে। তুলসী গলার সব রকম সমস্যা, শ্বাসনালী থেকে শ্লেষ্মাঘটিত সমস্যা দূর করে। 

সকল উপাদানের গুনাগুন জেনে নিলেন। এইবার চটপট বানিয়ে ফেলুন সুস্বাদু  ভেষজ চা  আর নিয়মিত দিনে তিনবেলা খাওয়ার পরে খান। আর অতিরিক্ত মেদ ঝরিয়ে হয়ে উঠুন আরও আকর্ষণীয়।

Wednesday, December 16, 2020

তুঁত ফল (Mulberry) এর উপকারিতা - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

তুঁত ফল (Mulberry), যাকে আমরা রেশম মথের খাদ্য বলে জানি, স্বাস্থ্যকর জীবন যাপনে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সুমিষ্ট স্বাদযুক্ত এই ফলটি খুবই পুষ্টিকর। অনেকেই এই উদ্ভিদের রোপণ করে থাকেন। এই উদ্ভিদ থেকে লাল, কালো ইত্যাদি বিভিন্ন বর্ণের ফল পাওয়া যায়। তবে এর যে স্বাস্থ্য গুণাবলী রয়েছে, তা অনেকেরই অজানা।

তুঁতফলের পুষ্টির তথ্য (Rich in nutrition) -
তুঁত একটি ফ্যাটবিহীন ফল। এতে সোডিয়াম, ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্ক এবং ভিটামিন এ, সি, ই, বি ৬, বি ৩, এবং কে ইত্যাদি খনিজ এবং ৮৮% জল রয়েছে। তুঁত ফলের মধ্যে রয়েছে ১.৪% প্রোটিন, ৯.৫% কার্বোহাইড্রেট এবং ১.৭% ফাইবার। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং ভিটামিন সি সমৃদ্ধ এই ফল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। তুঁত ফলগুলিতে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার থাকায় তা ক্ষুধা হ্রাস করতে সহায়তা করে। এর ডায়েটরি ফাইবার হজম প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে চলতে, হৃদরোগের স্বাস্থ্যের উন্নতিতে এবং কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

তুঁতের উপকারিতা (Incredible Health Benefits Of Mulberry Fruit) -
১) মালবেরি আয়রনে সমৃদ্ধ, তাই এর গ্রহণে শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়, ফলে রক্তাল্পতা রয়েছে, এমন মানুষদের জন্য এই ফলটি অত্যন্ত উপকারী।

২) ভিটামিন এ এবং জিঙ্ক চোখের স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। উভয়ই উপস্থিত মালবেরিতে – সুতরাং, চোখের স্বাস্থ্যের জন্য এই ফলটি খুবই প্রয়োজনীয়।

৩) এতে ক্যালসিয়াম এবং ভিটামিন কে রয়েছে, যা হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল।

৪) এই ফলে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েড এবং ক্যারোটিনয়েডগুলি ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বাড়িয়ে তোলে এবং ত্বকের বলিরেখা ও দাগ দূর করে। তাই ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতেও মালবেরির জুড়ি মেলা ভার।

৫) প্রতিদিন একটি তুঁত ফল খেলে আপনার শরীরে চিরন্তন যৌবনের বজায় থাকবে। এতে থাকা ডায়েটারি ফাইবার শরীর থেকে খারাপ কোলেস্টেরল নির্গত করে।

৬) যারা ওজন কমাতে চান, তাদের জন্যও তুঁত ফল অত্যন্ত কার্যকর।

৭) এতে থাকা ফাইটোনিউট্রিয়েন্টগুলি ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধিতে বাধা প্রদান করে। সুতরাং, ক্যান্সারের মতো রোগ নিরাময়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এই ফল।

৮) রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও তুঁত ফলের ক্ষমতা লক্ষণীয়। ফলে ডায়াবেটিস রোগীরাও নিশ্চিন্তে এই ফলটি খেতে পারেন।


Monday, December 14, 2020

বিভিন্ন ধরনের ঔষধের গুনাগুন ও তার প্রয়োগ - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

কোচবিহার, ১৪ ডিসেম্বর :
১/ অনুখাদ্য গাছে ফুল ফল ঝরা রোদ করে গাছের পুষ্টি জন্য যে ১৩ টি উপাদান প্রয়োজন তা অনায়াসেই পূরণ করতে পারে।
২/ Saaf ছত্রাক নাশক হিসাবে ব্যবহার অরা হয় এছাড়া বীজ শোষধ করার জন্য ব্যবহার করা হয়।
৩/ Actara এটি মিলিবাগ দমনের জন্য বিষেশ কাজ করে।
৪/ Plantomicinc গাছের পাতার নীচে এক প্রকার ব্যাকটেরিয়ার আক্রমন হয়, পাতার নীচে কালো ঝুলের মতো দেখা যায় এটি দমনের জন্য ব্যবহার হয়।
৫/ ইউমিক অ্যাসিড এটি প্রাকৃতিক জৈব পণ্য এটি ফুল ফল বৃদ্ধি করে।
৬/ Seaweed ferlilizer এটিকে অনেকে সমুদ্র শৈবাল বলে, এটি গাছের বহু গুন সম্পন্ন সুষম খাদ্য, এটির মধ্যে সব রকম অনুখাদ্য আছে, এটি একটি জৈব উপাদান।
৭/ ফ্লোরা এটি একটি তরল জাতীয় বহুগুন সম্পন্ন পন্য ফুল ফল বৃদ্ধি করে।
৮/ Tafgor এটি কীটনাশক, গাছ থেকে কীটপতঙ্গ দমন করে।
৯/ ULALA এটি সাদা মাছি দমনে ব্যবহার করা হয়।
১০/ KAKA এটি কীটনাশক এটি নানা রকম পোকা মাকড় দমন করে। গোলাপ, চন্দ্রমল্লিকা ফুলের জন্য খুব ভালো।
১১/ HAMLA এটিও কীটনাশক এটা চোষক পোকা মিলিবাগ মাইড ইত্যাদি পোকা মাকড় দমন করে।
১২/ NPK  এর মধ্যে নাইট্রোজেন ফসফরাস ও পটাশ থাকে এটি গাছে ফুল ফল আসতে সাহায্য করে।
১৩/ Agromin gold এটি অনুখাদ্য গাছে ১৩ টি প্রয়োজনীয় পুষ্টি মেটাতে সাহায্য করে।
১৪/ Merrick এটি গাছের পাতা কুঁকড়ে গেলে ব্যবহার করা হয় ও জাব পোকা আক্রমন হলে ব্যবহার করতে হয়।
১৫/ Validamycin এটি একটি ছত্রাক নাশক ও ব্যাকটেরিয়া নাশক।
১৬/ Mirakulan গাছের ফুল ফল ঝরা রোধ করে।
১৭/ Planofix এটি একটি হরমোন এটি গাছের বৃদ্ধি ভালো করে ফুল ফল ঝরা রোধ করে, এমনকি জবা গাছের কুঁড়ি ঝরা রোধ করে।
১৮/ Ridomigold ছত্রাক নাশক হিসাবে ব্যবহার হয়়।

বিশেষ সতর্কতা: 
কীটনাশক তরল হলে ১ মিলি দিতে হবে প্রতি লিটার জলে,
এবং
পাউডার হলে ১.৫ গ্রাম দিতে হবে প্রতি লিটার জলে।

Friday, December 11, 2020

ড্রাগন ফল চাষ নিয়ে আলোচনা - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

কোচবিহার, ১১ ডিসেম্বর: ব্যপক সম্ভাবনার ড্রাগন ফল চাষ করে যেভাবে বদলে নিতে পারেন ভাগ্য !
ড্রাগন ফল মূলত ক্যাকটাস গোত্রের। এই ফল মুলত আমেরিকার, তবে প্রায় সব দেশেই সামদৃত। ভিয়েতনামে এর সর্বাধিক বাণিজ্যিক চাষ হয়। ভিয়েতনাম ছাড়াও তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, চীন, ইসরাইল, অস্ট্রেলিয়াতেও ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে।
ড্রাগন ফলের দেশ হিসেবে পরিচিত থাইল্যান্ডে একটি গাছ পরিপূর্ণ ফলবান হতে সময় লাগে তিন বছর। কাটিং পদ্ধতিতে চারা উৎপাদন করে বাগান সম্প্রসারণ করা হয়। গাছের প্রতিটি ডালে ৫০-৬০টি ফল ধরে। পাকা ফলগুলোর প্রতিটির ওজন ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম। এপ্রিল-মে মাসে ফুল আসে। ২০-২৫ দিনে ফুল ফলে পরিণত হয়। অক্টোবর-নভেম্বর মাস পর্যন্ত ফুল ফোটা ও ফল ধরা প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। এ দেশের মাটি ও আবহাওয়া যে ড্রাগন ফল চাষের জন্য উপযোগী, এই ফলের অন্য নাম পিটাইয়া।
ড্রাগন ফল চাষের জন্য পাহাড়ের মাটি অত্যন্ত উপযোগী। দক্ষিণ আমেরিকার জঙ্গলে ড্রাগন ফলের জন্ম। প্রায় ১০০ বছর আগে ড্রাগন ফলের বীজ নিয়ে আসা হয় ভিয়েতনামে। এরপর থেকে ধীরে ধীরে শুরু হয় ড্রাগন ফলের চাষ।
প্রতি বিঘা জমিতে ২০০টি ড্রাগন ফলের গাছ রোপণ করা যায়। ড্রাগন ফুল নাইট কুইনের মতোই রাতে ফোটে। ফুলের আকার লম্বাটে এবং রং সাদা ও হলুদ। ফুল স্বপরাগায়িত এবং মৌমাছি ও পোকামাকড় পরাগায়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করে। ফুল থেকে ডিম্বাকৃতি ফল উৎপন্ন হয়। ফল হালকা মিষ্টি ও ক্যালরি কম যুক্ত এবং এতে কালোজিরার মতো অসংখ্য বীজ থাকে। একটি গাছ থেকে বছরে ৬০ থেকে ১০০ কেজি ফল পাওয়া যায়। পোকামাকড় ও রোগবালাইয়ের উপদ্রব কম থাকায় এ ফল চাষে রাসায়নিক সার ও বালাইনাশকের তেমন প্রয়োজন হয় না। গাছগুলো প্রায় শতকরা ৫০ ভাগ খাবার বায়ুমন্ডল থেকেই সংগ্রহ করতে পারে এবং বাকি খাবার সংগ্রহ করে জৈব সার থেকে।
বাউ ড্রাগন ফল-১ (সাদা) ও বাউ ড্রাগন ফল-২ (লাল)। এ দুটি জাত চাষে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। বীজ ও কাটিং পদ্ধতিতে ড্রাগন ফলের চাষ করা যায়। তবে বীজের গাছে মাতৃগাছের মতো ফলের গুণাগুণ না-ও থাকতে পারে। এতে ফল ধরতে বেশি সময় লাগে। ড্রাগন চাষের জন্য কাটিংয়ের চারাই বেশি উপযোগী। কাটিং থেকে উৎপাদিত গাছে ফল ধরতে ১২ থেকে ১৮ মাস সময় লাগে। উপযুক্ত যত্ন নিলে একরপ্রতি ৬ থেকে ৭ টন ফলন পাওয়া যায়। কেজিপ্রতি দাম ২০০ টাকা হলেও, যার বাজর মূল্য ১২ থেকে ১৪ লাখ টাকা। খরচ ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা বাদ দিলেও নিট লাভ হবে ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা। বর্তমানে ভিয়েতনামে এই ফল বেশি চাষ হচ্ছে। ভিয়েতনাম ছাড়াও তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, ফিলিপাইন, শ্রীলঙ্কা, মালয়েশিয়া, চীন, ইসরাইল, অস্ট্রেলিয়াতেও ড্রাগন ফলের চাষ হচ্ছে। ড্রাগন ফল চাষ খুব সহজ। ড্রাগন ফলের চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় হলো জুন-জুলাই মাস। আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে মে মাস থেকে অক্টোবর মাসে ফল সংগ্রহ করা যায়। শীতকালে এই গাছ ফুল দেয়া বন্ধ করে দেয়। ড্রাগন ফল গাছে পাকা অবস্থায় ৫ থেকে ৭ দিন রেখে দেয়া যায়। আর গাছ থেকে ফল সংগ্রহের পর রাখা যায় প্রায় এক মাস।
প্রায় সব ধরনের উঁচু মাটিতেই ড্রাগন ফলের চাষ করা যায়। বর্তমানে কিছু অভিজাত হোটেলে প্রতি কেজি ড্রাগন ফল ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া ইউরোপ ও আমেরিকায় দিন দিন এ ফলের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। আশা করা যায়, দুই/এক শতাব্দীর মধ্যেই ইউরোপ-আমেরিকায় ড্রাগন ফল প্রধান ফল হিসেবে আবির্ভূত হবে। সেইসঙ্গে ভারতবর্ষ প্রসিদ্ধি লাভ করবে ড্রাগন ফল উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে।
ড্রাগন ফলের পুষ্টিমান
ভক্ষণযোগ্য প্রতি ১০০ গ্রামে পাওয়া যায়-
জল – ৮০-৯০ গ্রাম
শর্করা – ৯-১০ গ্রাম
প্রোটিন – ০.১৫-০.৫ গ্রাম
আঁশ – ০.৩৩-০.৯০ গ্রাম
খাদ্যশক্তি – ৩৫-৫০ কিলোক্যালরি
চর্বি – ০.১০-০.৬ গ্রাম
ক্যালসিয়াম – ৬-১০ মি গ্রাম
আয়রন – ০.৩-০.৭ মি.গ্রাম
ফসফরাস – ১৬-৩৫ গ্রাম
ক্যারোটিন – (ভিটামিন - এ থায়ামিন, রিবোফ্লাবিন সামান্য
ভিটামিন – বি-৩ – ০.২ – ০.৪মিগ্রাম ।
ড্রাগন ফলের গুরুত্ব
১. ক্যারোটিন সমৃদ্ধ থাকায় সুস্থ চোখের উন্নয়ন করে।
২. আঁশ বেশি থাকায় হজম শক্তি বৃদ্ধি করে।
৩. আঁশ শরীরের চর্বি কমায়।
৪. এর প্রোটিন শরীরের বিপাকীয় কাজে সহায়তা করে।
৫. ক্যালসিয়াম হাড় শক্ত ও সুস্থ দাঁত তৈরি করে।
৬. ভিটামিন-বি-১ কার্বহাইড্রেট বিপাক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শক্তি উৎপন্ন করে।
৭. ভিটামিন বি-৩ রক্তের কোলেস্টেরল কমায় এবং ত্বক মসৃণ রাখে।
৮. ভিটামিন সি শরীরের কাটা, ভাঙা জোড়া লাগাতে সাহায্য করে।
৯. ভিটামিন বি-২ শরীরে ক্ষুধা তৃষ্ণা, যৌন বাসনা, প্রভৃতি মিটানোর আকাঙক্ষা উন্নয়ন ও পূরণে সাহায্য করে।
১০. ফসফরাস বেশি থাকায় কোষ কলা গঠনে সাহায্য করে।
ঔষধি গুণ
রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
তাইওয়ানে ডায়াবেটিসের রোগীরা ভাতের পরিবর্তে এ ফল প্রধান খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করে।
ফলটিতে ফাইটো অ্যালবুমিন, এন্টি অ্যঙিডেন্ট থাকে যা ক্যান্সারের কারণ ফ্রি রেডিক্যাল তৈরিতে বাধা দেয়।
এ ফল খেলে রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ক্রনিক আন্ত্রিক সমস্যার সমাধান করে।
লিভারের জন্য খুবই উপযোগী।
গবেষণায় জানা গেছে এ ফল নিয়মিত খেলে ওজন কমে এবং সুন্দর শরীর তৈরি হয়।
রোপণ ও সার ব্যবস্থাপনা
জমি ভালোভাবে চাষ করে গাছ থেকে গাছের দূরত্ব ৩ মিটার দিয়ে হেক্সাগোনাল বা ষড়ভোজী পদ্ধতি ব্যবহার করে এ গাছ লাগানো ভালো। তবে অবস্থা ভেদে দূরত্ব কম বা বেশি দেওয়া যেতে পারে। ড্রাগন ফলের চারা রোপণের জন্য ২০-৩০ দিন আগে প্রতি গর্তে ৪০ কেজি পচা গোবর, ৫০ গ্রাম ই্উরিয়া, টিএসপি ও এমওপি ১শ’ গ্রাম করে এবং জিপসাম, বোরাক্স ও জিংকসালফেট ১০ গ্রাম করে দিয়ে, গর্তের মাটি উপরে-নিচে ভালোভাবে মিশিয়ে রেখে দিতে হবে। ক্যাকটাস গোত্রের গাছ বিধায় বছরের যে কানো সময়ই লাগানো যায় তবে এপ্রিল-সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে লাগানো ভালো। কাটিংকৃত কলম প্রতি গর্তে ৪ থেকে ৫টি করে লাগানো হয়। এক্ষেত্রে যদি ভিয়েতনাম পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তাহলে পিলারের চারদিকে কাটিংকৃত কলম চারা লাগিয়ে পিলারের সাথে বেঁধে দেওয়া হয়। কিন্তু যদি থাইল্যান্ড ও ফ্লোরিডা পদ্ধতি অনুসরণ করা হয় তাহলে গর্তে সোজা করে ৪ থেকে ৫টি কলম চারা রোপণ করা হয়। এ গাছ ১.৫-২.৫ মিটার লম্বা হয়। এজন্য এ গাছকে উপরের দিকে ধরে রাখার জন্য সিমেন্টের বা বাঁশের খুটির সাথে উপরের দিকে তুলে দেওয়া হয়। এটি হলো ভিয়েতনাম সিস্টেম। এছাড়া উপরের দিকে ছোট মোটর গাড়ির চাকা বাঁশের চ্যাগারের মধ্যে সেট করে খুব সহজেই এ গাছের শাখাগুলোকে বাড়তে দেওয়া যায় এবং এ সিস্টেমকে বলা হয় শ্রীলংকা সিস্টেম। থাইল্যান্ড ও ফ্লোরিডাতে দুপাশে দুটি খুঁটি পুঁতে মোটা তারের উপরে জাংলার মতো তৈরি করে গাছ জাংলায় তুলে চাষ করা হয়। এ সিস্টেমকে বলা হয় ফ্লোরিডা সিস্টেম।
বংশবিস্তার
এ ফলের বংশবিস্তার খুব সহজ। বীজ দিয়েও বংশ বিস্তার করা যায়। তবে এতে ফল ধরতে একটু বেশি সময় লাগে তবে হবহু মাতৃবৈশিষ্ট্য বজায় থাকে না। সেজন্য কাটিং এর মাধ্যমে বংশ বিস্তার করাই ভালো। কাটিং এর সফলতার হার প্রায় শতভাগ এবং তাড়াতাড়ি ধরে। কাটিং থেকে উৎপাদিত একটি গাছে ফল ধরতে ১২-১৮ মাস সময় লাগে। সাধারণত বয়স্ক এবং শক্ত শাখা ১ থেকে ১.৫ ফুট কেটে হালকা ছায়াতে বেলে দোআঁশ মাটিতে গোড়ার দিকের কাটা অংশ পুতে সহজেই চারা উৎপাদন করা যায়। তারপর ২০ থেকে ৩০দিন পরে কাটিং এর গোড়া থেকে শিকড় বেরিয়ে আসবে। তখন এটা মাঠে লাগানোর উপযুক্ত হবে। তবে উপযুক্ত পরিবেশে ও প্রয়োজন অনুযায়ী কাটিংকৃত কলম সরাসরি মূল জমিতে লাগানো যায়।
প্রুনিং ও ট্রেনিং
ড্রাগন ফল খুব দ্রুত বাড়ে এবং মোটা শাখা তৈরি করে। একটি ১ বছরের গাছ ৩০টি পর্যন্ত শাখা তৈরি করতে পারে এবং ৪ বছরের বয়সী একটি ড্রাগন ফলের গাছ ১শ’ ৩০টি পর্যন্ত প্রশাখা তৈরি করতে পারে। তবে শাখা প্রশাখা উৎপাদন উপযুক্ত ট্রেনিং ও ব্যবস্থাপনার ওপর নির্ভর করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ১২ থেকে ১৮ মাস পর একটি গাছ ফল ধারণ করে। ফল সংগ্রহের ৪০ থেকে ৫০টি প্রধান শাখায় প্রত্যেকটি ১ বা ২টি সেকেন্ডারি শাখা অনুমোদন করা হয়। তবে এ ক্ষেত্রে টারসিয়ারী ও কোয়ার্টারনারী প্রশাখাকে অনুমোদন করা হয় না। ট্রেনিং এবং প্রুনিং এর কার্যক্রম দিনের মধ্যে ভাগে করাই ভালো। ট্রেনিং ও প্রুনিং করার পর অবশ্যই যে কোন ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে। তানা হলে বিভিন্ন প্রকার রোগবালাই আক্রমণ করতে পারে।
সেচ নিকাশ
ড্রাগন ফল চাষে পানি খুব কম লাগে। শুকনো মৌসুমে অবশ্যই সেচ ও বর্ষা মৌসুমে নিকাশের ব্যবস্থা করতে হবে। এক্ষেত্রে দু’লাইনের মাঝখানে ৫০ থেকে ১শ’ সেন্টিমিটার আকারে নালা তৈরি করা যায়। এতে করে নালায় ১ বা ২দিন পানি জমা রেখে গাছের মাটিতে রস সরবরাহ করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে যে, এ গাছ অতিরিক্ত পানি সহ্য করতে পারে না। পানি ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে।
অসময়ে ফল উৎপাদনের কলা কৌশল
বাউ জার্মপ্লাজম সেন্টারে পরীক্ষামূলক চাষে দেখা গেছে যে ফল আসা শুরু হয় জুন মাসে এবং নভেম্বর মাস পর্যন্ত সংগ্রহ করা যায়। ভিয়েতনামে শীতকালে দিবসের দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে প্রতি ৪টি গাছের জন্য একটি করে ৬০ থেকে ১শ’ ওয়াটের বাল্ব সন্ধ্যা থেকে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা জ্বালিয়ে রেখে ফল আনা হচ্ছে। এতে সুবিধা হচ্ছে যে চাহিদা মোতাবেক সময়ে ফল নেওয়া যায়।
রোগ বালাই ও পোকা মাকড়
ফলে রোগ বালাই খুবই একটা চোখে পড়ে না। তাবে কখনো কখনো এ পল গাছে মূলপঁচা, কান্ড ও গোড়া পঁচা রোগ দেখা যায়। মূলপচাঁ: গোড়ায় অতিরিক্ত পানি জমে গেলে মূল পঁচে যায়। এ রোগ হলে মাটির ভিতরে গাছের মূল একটি দুটি করে পঁচতে পঁচতে গাছের সমস্ত মূল পঁচে যায়। গাছকে উপরের দিকে টান দিলে মূল ছাড়া শুধু কান্ড উঠে আসে। তবে এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে উঁচু জমিতে এ ফলের চাষ করা ভালো। এ রোগটি Fusarium sp দ্বারা সংঘটিত হয়। কাণ্ড ও গোড়া পঁচা রোগ: ছত্রাক অথবা ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এ রোগ হতে পারে। এ রোগ হলে গাছের কাণ্ডে প্রথমে হলুদ রং এবং পরে কালো রং ধারণ করে এবং পরবর্তীতে ঐ অংশে পঁচন শুরু হয় এবং পঁচার পরিমাণ বাড়তে থাকে। এ রোগ দমনের জন্য যে কোন ছত্রাকনাশক (বেভিস্টিন, রিডোমিল, থিওভিট ইত্যাদি) ২ গ্রাম প্রতি লিটার পানিতে মিশিয়ে প্রয়োগ করে সহজেই দমন করা যায়।
পোকা মাকড়
ড্রাগন ফলের জন্য ক্ষতিকর পোকা মাকড় খুব একটা চোখে পড়ে না, তবে মাঝে মাঝে এফিড ও মিলি বাগের আক্রমণ দেখা যায়। এফিডের বাচ্চা ও পূর্ণ বয়স্ক পোকা গাছের কচি শাখা ও পাতার রস চুষে খায়, ফলে আক্রান্ত গাছের কচি শাখা ও ডগার রং ফ্যাকাশে হয়ে যায় ও গাছ দূর্বল হয়ে পড়ে। এ পোকা ডগার উপর আঠালো রসের মতো মল ত্যাগ করে ফলে শুটিমোল্ড নামক কালো ছত্রাক রোগের সৃষ্টি হয়। এতে গাছের খাদ্য তৈরি ব্যাহত হয়। এতে ফুল ও ফল ধারণ কমে যায়। এ পোাকা দমনে সুমিথিয়ন/ ডেসিস/ ম্যালাথিয়ন এসব কীটনাশক প্রতি ১০ লিটার পানিতে ২৫ মিলিলিটার বা ৫ কাপ ভালো ভাবে মিশিয়ে স্প্রে করে সহজেই এ রোগ দমন করা যায়।
ফল সংগ্রহ ও ফলন
· ফল যখন সম্পূর্ণ লাল রঙ ধারণ করে তখন সংগ্রহ করতে হবে।
· ফুল আসার ৩০-৫০ দিনের মধ্যে ফল সংগ্রহ করা যায়।
· বছরে ৫-৬টি পর্যায়ে ফল সংগ্রহ করা যায়। প্রথমত জুন-অক্টোবর, দ্বিতীয় ডিসেম্বর-জানুয়ারি।
· প্রতিটি ফলের ওজন ২০০ গ্রাম থেকে ১.২ কেজি পর্যন্ত হয়ে থাকে।
· তিন বছর বয়স্ক একটি বাগান থেকে বছরে ৫-৬ টন/হেক্টর ফলন পাওয়া যায়।
শেষ কথা
অনেকেই দেশে ড্রাগন ফল নতুন হিসেবে উৎসাহের সাথে আবাদ করছেন বা করতে চাচ্ছেন। নতুন ফলের অনেক কিছু যেমন অজানা আছে তেমনি সমস্যাও থাকতে পারে বেশি। তাই পরিকল্পিতভাবে আগ্রহীরা এ উদ্যোগ গ্রহণ করবেন।

Monday, December 7, 2020

আলুর জাব পোকা নিয়ে কিছু তথ্য - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

আলুর জাব পোকা - Aphids of Potato
লহ্মণ
 পূর্ণবয়স্ক ও নিম্ফ উভয় পাতা, কচি কান্ড ও ফুলের রস চুষে খায়।
 গাছ দুর্বল ও হলুদ হয়, পাতা কুঁকড়ে যায়,ফুলের কুড়ি ও কচি ফল ঝরে যায়।
 পোকা ক্রনিক্যাল দ্বারা মধু রস নিঃসরণ করে,তাতে সুটিমোল্ড ছত্রাক জন্মে।
 আক্রান্ত অংশ কালো দেখায়, কচি ডগা মারা যায়।
প্রতিকার
 পরিস্কার পরিচ্ছন্ন চাষাবাদ ও আক্রান্ত অংশ পোকাসহ সংগ্রহ করে পুতে ফেলা।
 সুষম মাত্রায় সার ব্যবহার ও শস্য পর্যায় অবলম্বন করা।
 লাইনে দূরত্ব বজায় রেখে কন্দ/চারা রোপন করা।
 কেরোসিন মিশ্রিত ছাই পাতায় ছিটিয়ে পোকা প্রতিরোধ করা য়ায়।
 ডিটারজেন্ট ৩গ্রাম/ লিটার পানি+নিম/ বিষকাঠাঁলী/ ধুতরা/আতা/পেঁপে/ নিশিন্দা/
জবা/গাদা ফুলের ১ কেজি পাতা থেতিয়ে১২ ঘন্টা ভিজে ১০ লিটার পানি স্প্রে করা।
 ইমিডাক্লোপিড২০এসএল ( ইমিটাফ/এডমায়ার/ টিডো/বাম্পার/ গেইন/ প্রিমিয়ার/ 
অটোমিডা)০.৫মিঃলিঃ/ লিটার পানি স্প্রে করা। 
 এসিফেট ৭৫এসপি (এসাটাফ/ টিডফেট/ফরচুনেট)১.৫ গ্রাম/লিটার পানি স্প্রে।

ছত্রাক নাশক ব্লাইটক্স নিয়ে কিছু কথা - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

BLITOX 50w, ব্লাইটক্স
ব্লাইটক্স (BLITOX) আসলে একটি ব্রান্ডের নাম, এটি হলো কপার অক্সিক্লোরাইড, ব্লাইটক্স টি আমরা বাগানিরা ফাঙ্গিসাইড হিসাবে ব্যবহার করি, গাছে ফাঙ্গাস আক্রমন করলে তখন আমরা ব্লাইটক্স ব্যবহার করে ফাঙ্গাস দমন করি।
তবে এটা কিন্ত সব রকম ফাঙ্গাস দমন করতে পারে না।
এটা লিফ স্পট, এর জন্য খুব ভালো উপকারী এছাড়া মেইনলি, বীজ থেকে গাছ করার সময় ঔ বীজ গুলো এই হাফ চামচ দিয়ে ২ লিটার জলে ৫ মিনিট ভিজিয়ে রাখতে হবে।
এটি কাজ কি ভাবে করে, নির্দিষ্ট পরিমাণে এইটি ব্যবহার করতে হবে, পরিমান কোনো ভাবে বেশি হলে গাছ নষ্ট হয়ে যায়।
এটি ২ বা ৩ গ্ৰাম চার (৪) লিটার জলে ব্যবহার করতে হবে।
প্রয়োজনে এর পরিমান কম করতে পারেন কিন্ত পরিমান কখন বেশি করা যাবে না।
এর গায়ে লেখা থাকে Contact Fungicide ফাঙ্গাস যদি গাছের ছাল এর মধ্যে বা পাতার মধ্যে ঢুকে পড়ে তাহলে এটা স্প্রে করে বিশেষ লাভ হবে না।
☘️ এটি জাস্ট ফাঙ্গাস ইনফেকশন শুরুতে কাজ হবে।একবার ফাঙ্গাস গাছের ভিতর ঢুকে গেলে এটা কাজ হবে না।
এটা একবার ব্যবহার করার পর যদি বৃষ্টি হয় তাহলে ও আর এটা ব্যবহার করা যাবে না কারণ এটা বৃষ্টি জলে ধুয়ে যায় না।
☘️ এটি বার বার ব্যবহার করলে কপার অক্সিক্লোরাইড এর পরিমান বেশি হয়ে গেলে গাছের ক্ষতি হয়।
☘️এটি কেবল মাত্র গাছের পাতা স্প্রে করতে হয় কখন ই গাছের মাটিতে দেওয়া যাবে না।
☘️এটি গাছের ব্যবহারের সময় টবের মাটি খবরের কাগজ দিয়ে ঢেকে দিতে হবে।
☘️ এটি গাছের মাটিতে পড়লে মাটির উপকারী ছত্রাক ,ব্যাকটেরিয়া মারা যাবে।
☘️ এটি গাছে একবার দিলে ১৫ দিনের মধ্যে এটা আর ব্যবহার করা যাবে না।
☘️ খুব গরমের সময় কখন ই এটা ব্যবহার করা যাবে না।
☘️সব সময় পরিমান খেয়াল রাখতেই হবে পরিমান বেশি হলে গাছের ক্ষতি হবেই হবে।

Sunday, December 6, 2020

কাগজ ফুলের চাষ পদ্ধতি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

🌿🌿বোগেনভেলিয়া 🌿🌿
বৈজ্ঞিনিক নাম Bouginvillea glabra,
 এটি একটি গুল্ম বা লতা প্রজাতির গাছ ।।
সমগ্ৰ প‌থিবী তে এর প্রায় ২০ রকম প্রজাতি দেখতে পাওয়া যায় ।।
বোগেনভিলয়া বনসাই খুব ভালো হয় ।।
এই গাছে ভালো ফুল পেতে এই গাছে মিশ্র খাবার দিতে হবে ,,সারা বছর খুব ভালো ফুল হয় এই গাছটিতে ,,
🌿☘️ মিশ্র খাবার তৈরি পদ্ধতি , একটি গাছের জন্য এক চামচ হাড় গুড়া,এক চামচ শিং কুচি ,এক চামচ নিম খোল ,এক চামচ সরিষা খোল,আর হাফ চামচ npk ,একসাথে ভালো করে মিশিয়ে গাছে দিতে হবে ,,গাছে ফুলের জন্য পটাশ সার অথবা কলার খোসা ব্যবহার করতে হবে ।।
🌿☘️এই গাছের মাটি তৈরি সময় মাটির সাথে হাড় গুড়া কেঁচোসার  গোবর সার ব্যবহার করতে হবে ।‌
🌿☘️এই ফুল সারা বছর হয় একে বারোমাসি ফুল হিসাবে চেনেন অনেকে ,,
খুব সহজেই এই গাছে ডাল থেকে চারা তৈরি করা যায় ।।
এই গাছের গ্ৰাফটিং ও খুব ভালো হয় ।।
🌿এই গাছে শুধু মাত্র সকালে জল দিতে হবে এই গাছে জলে পরিমান কম দিতে হয় ,,এই গাছে জলের পরিমান কম হলে ফুলে সংখ্যা বেলি হবে ,,
🌿এই গাছে মাসে একবার হাফ চামচ DAP দিতে হবে ।।
🌿এই গাছ টি টবে  লাগালে মাঝে মাঝেই কাটাই ছাটাই করতে হবে তাহলে গাছে ফুলের সংখ্যা বেশি হবে 
☘️এই গাছ যে কোনো সময় ডাল কাটাই ছাটাই করা যায় ।।

Thursday, December 3, 2020

ফুল গাছে মারাত্মক ক্ষতিকর মিলিবাগ, জেনেনিন প্রতিকার - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

আসুন চিনে নেই মিলিবাগকে

মিলিবাগ চেনার উপায়- দুধের মত সাদা বর্ণের এবং মোম জাতীয় পাউডার দ্বারা নরম দেহ আবৃত থাকে।
ক্ষতির কারণ - এরা কচি ফল,পাতা ও ডালের রস চুষে নেয়, ফলে গাছ দুর্বল হয়। এরই সাথে মাঝে মাঝে পিপরার দেখা যায়। এর আক্রমণে অনেক সময় পাতা ঝরে যায় এবং ডাল মরে যায়।

মিলিবাগ দমন ও প্রতিরোধের উপায়:-
👉অনেক সময় আমরা লক্ষ্য করি কীটনাশক প্রয়োগ করেও মিলিবাগ দমন করা যাচ্ছে না তার প্রধান কারণ তার দেহের মম জাতীয় আস্তরণ দ্বারা সুরক্ষিত থাকে।
👉ছোট টবের মধ্যে গাছ থাকলে সেটা শুইয়ে দিন তার পর শ্যাম্পু/সাবান জল স্প্রে করুন (সাবান ৫গ্রাম এক লিটার জলে)। সাবানের ফ্যাটি এসিড মিলিবাগ এর শরীরের সুরিক্ষিত আবরণ অপসারণের মাধ্যমে মিলিবাগ কে হত্যা করতে সহায়তা করে।দেহের আবরণ নষ্ট হওয়ার ফলে মিলিবাগ এর দেহকোষের ভিতর থেকে তরল পদার্থ ছিদ্র পথে বের হয়ে আসে এবং মারা যায়।
👉 শ্যাম্পু/সাবান স্প্রে করার পর বাইরের আবরণ উঠে যাবে তার ভিতরের অংশ বোঝা যাবে যেটা ছবি তে দেওয়া আছে। ৩০ মিনিট পর কীটনাশক স্প্রে করে দিন।মিলিবাগ দমনে একতারা ভালো কাজ করে। ১ গ্রাম  এক লিটার জলে।
👉আবার সাবান/শ্যাম্পু/একতারা মিশিয়েও করতে পারেন। এর পরেও দেখা গেলে ১০ দিন পরে আর একবার করুন।
👉এমন ভাবে স্প্রে করতে হবে যাতে গাছের মাটিতে না পরে, সেই জন্য পেপার বিছিয়ে দিতে হবে।
👉গাছের গোড়ার মাটি থেকে ১৫-২০ সেমি উপরে স্বচ্ছ পলিথিন দিয়ে মুড়ে দিলে মিলিবাগ এর আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

এইপদ্ধতি আমি প্রয়োগ করি  তাই আপনাদের সাথে শেয়ার করলাম। আপনারা কিভাবে করেন সেটাও বলতে পারেন। ভুল ত্রুটি থাকলে অবশ্যই জানাবেন।
ধন্যবাদ।

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ ছবিতে দেখা যাচ্ছে পেয়ারার ফলের ভেতরের অংশ কালো হয়ে পচে গেছে এবং...