Saturday, December 14, 2024

শীতকাল আসছে, এবার আপনার পদ্ম গাছের ঘুমানোর সময় - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

শীতকাল আসছে, এবার আপনার পদ্ম গাছের ঘুমানোর সময়। ( *For English translation scroll down * ) ভালো করে খেয়াল করলে দেখবেন পদ্ম গাছের পাতাতে সেই আগের চকচকে ভাবটা আর নেই। নতুন পাতা বেরোনো কমে গেছে , ফুল এর সাইজ ছোটো হয়ে আসছে বা ফুল আর হচ্ছেই না।

   ঘাবড়াবেন না । এটা ন্যাচরাল ব্যাপার , শুধু তাই না এটা একটা দরকারী জিনিসও বটে। পদ্ম গাছ উইন্টার ডরম্যান্ট, মানে শীতকালে ঘুম দেয়। মাটির ওপরে সব পাতা একদম শুকিয়ে যাবে , কিন্তু নিচে গাছ জিন্দা থাকবে । 

     সারা বছর যেভাবে পরিচর্যা করে এসেছেন এখন একটু অন্যভাবে পরিচর্যা করতে হবে। কি কি করবেন দেখে নিন।

১) খাবার দেওয়া টোটালি বন্ধ করে দিন। কেমিক্যাল তো দূর অস্ত , হিউমিক এসিড বা সিউইডও দেবেন না। বন্ধ মানে একদম পুরোপুরি বন্ধ। শীতকালে পদ্ম গাছের খাবার এর দরকার খুবই কম । প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার দিলে গাছের সমস্যা হবে , খুব বেশি সার হয়ে গেলে মাটির নিচে রাইজোম পচে গাছ নষ্ট হবে। 

২) গামলার অধিকাংশ পাতা পরিপূর্ণ ভাবে নষ্ট হয়ে গেলে গামলা থেকে পচা পাতা সব কেটে ফেলে শেওলা পরিষ্কার করে নেবেন। যাঁরা আমার থেকে টিউবার নিয়ে পদ্মগাছ করেছেন , আমাকে দেখিয়ে আমি হ্যাঁ বললে তবেই এটা করবেন।

    মনে রাখবেন আগেভাগে গামলা পরিষ্কার করতে গেলে গাছের দরম্যান্সিতে যাওয়ার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটালে আপনার কপালে দুঃখ লেখা থাকবে।

৩) যেখানে সবথেকে বেশি রোদ আসে সেই জায়গায় গামলা রাখুন। শীতকালে গামলা যতো বেশি রোদ পাবে , মাটির নিচে গাছ তত বেশি ভালো থাকবে।

৪) সবসময় গামলায়  যেনো দু ইঞ্চি মত জল থাকে সেটা খেয়াল রাখবেন । জল ওভারফ্লো করার কোনো দরকার নেই , এমনকি শেওলা পরিষ্কার করার ও কোনো দরকার নেই। দেখতে খারাপ লাগলে একটা ছাঁকনি করে ছেঁকে তুলে ফেলে দিতে পারেন।
    জল ওভারফ্লো করলে মাটি থেকে সব নিউট্রিয়েন্ট ড্রেন হয়ে যাবে। 

৫) গামলার জলে কোনো ফ্লোটিং প্ল্যান্ট, আজোলা এসব থাকলে  সব সরিয়ে ফেলুন। ফ্লোটিং প্ল্যান্ট থাকলে রোদ ঢুকবে না।  এই সময়টা জলের মধ্যে রোদ ঢোকাটা জরুরী।
       কোনো মাছ ছেড়ে থাকলে সেগুলো তুলে অন্য জায়গায় রাখার ব্যবস্থা করবেন, নাহলে শীত পেয়ে মাছগুলো মরে যেতে পারে।

৬) প্লাস্টিক/থলে দিয়ে ঢেকে রাখা। খড় চাপা দেওয়া। ওই গামলায় অন্য গাছ লাগানো - এসব এক্সপেরিমেন্ট নিজের দায়িত্বে করবেন। আমি এসব করতে আপনাকে বারণ করবো।

৭) এই সময়ে গাছে আফিডস, সুয়াপোকা এসব হবে । যা হচ্ছে হতে দিন। কোনো কীটনাশক ব্যবহার করবেন না। 

  পদ্ম এমনিতে খুব হার্ডি গাছ। আর আমাদের এখানে তেমন বরফ পড়ে না যে স্পেশাল ব্যবস্থা নীতে হবে। যেগুলো বললাম সেগুলো করলেই দেখবেন ফেব্রুয়ারিতে মোটা মোটা টিউবার পাবেন।    

ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে বা মার্চের প্রথম সপ্তাহে গরম পড়লে রিপট করবেন। কিভাবে করবেন তখন এই পেজেই  জানিয়ে দেবো। 

গাছ দেখে বুঝতে হবে কখন রিপট করবেন । সময়ের আগে রিপট করলে অপরিণত রাইজোম পাবেন , লেট করে ফেললে মাটির নিচে স্প্রাউট করে ভালো রাইজোম পচিয়ে দেবে। আমার থেকে যাঁরা গাছ নিয়েছেন তাঁরা ফেব্রুয়ারির ১৫ তারিখের পর থেকে সপ্তাহে একবার করে গাছের ছবি পাঠাবেন। আমি ছবি দেখে বলে দেবো কবে রিপট করবেন।

আমার থেকে সার নিয়ে আমার পরামর্শ মতো গাছ যাঁরা করেছেন , ওই একই মাটি পরের বছর রিইউস করবেন। নতুন মাটি জোগাড় করার কোনো প্রয়োজন নেই। ওই মাটিতেই সবথেকে ভালো গাছ হবে পরের সিজনে।কিভাবে পুরানো মাটি রি ইউস করবেন ওই সময়ই জানিয়ে দেবো। এখন বললে ভুলে যাবেন ।

গাছপাকা পেজটিকে সাপোর্ট করতে চাইলে পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন 🙏

গাছপালা নিয়ে ভালো থাকুন , সুস্থ থাকুন।

এই ধরনের পোস্ট সরাসরি আপনার ইনবক্সে পেতে আমাদের গ্রুপে জয়েন করতে পারেন ।
লিংক 👉 https://m.me/j/AbZFQ3gKviZrLSzY/
======================================

English Translation for Non-Bengali followers:

Winter is approaching, and it’s time for your lotus plant to go to sleep. If you observe closely, you’ll notice that the leaves are no longer as glossy as before. New leaves are coming out less frequently, the flowers are getting smaller, or they may not bloom at all.

Don’t worry—this is a natural and essential process. Lotus plants go dormant during winter, meaning they “sleep.” While all the leaves above the soil will wither, the plant will remain alive underground.

Since it requires a different type of care during this period, here are some tips to follow:

1. Stop feeding entirely: Avoid using any fertilizers, including chemicals, humic acid, or seaweed extract. The plant needs minimal nutrients during winter. Overfeeding can harm the plant, causing the rhizome to rot and eventually killing it.

2. Remove dead leaves and clean algae: Once most leaves have withered, cut them off and clean any algae from the pot. 

Remember, cleaning too early may disrupt the plant’s natural way to enter into dormancy, leading to unwanted issues.

3. Place the pot in full sunlight: The more sunlight the pot receives during winter, the better the plant will thrive underground.

4. Maintain two inches of water: Always ensure the water level remains about two inches high. There is no need to overflow the pot with water, as it could drain essential nutrients from the soil. If the algae bother you, use a strainer to remove them gently.

5. Remove floating plants and fish: If the pot contains floating plants like Azolla, remove them, as they block sunlight from reaching the water. If you have fish in the pot, relocate them to prevent them from dying due to the cold.

6. Avoid unnecessary experiments: Do not cover the pot with plastic, straw, or plant other species in it unless you are prepared for potential risks. I recommend avoiding these practices.

7. Allow insects to be: Aphids or other pests may appear—let them be. Do not use any pesticides.

Lotus plants are generally hardy, and since we don’t experience extreme frost in india , no special care is required beyond these steps. If you follow these instructions, you will find thick, healthy tubers by February.

Repotting Time:
When the weather warms up in the last week of February or the first week of March, it will be time to repot. I will provide detailed instructions here when the time comes.

You must observe the plant closely to determine the right time for repotting. Repotting too early will yield immature rhizomes, while waiting too long may cause sprouted rhizomes to rot. 

 you can reuse the same soil next season—there’s no need to gather new soil. This reused soil will give you the best results next year.

গোলাপ গাছের পাঁচ পাতা /সাত পাতা , এলা ডাল রাখবেন না কেটে ফেলে দেবেন ? বুঝবেন কি করে কোনটা এলা ডাল ? - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

গোলাপ গাছের পাঁচ পাতা /সাত পাতা , এলা ডাল রাখবেন না কেটে ফেলে দেবেন ? বুঝবেন কি করে কোনটা এলা ডাল ?

    শখের ছাদবাগানেই বলুন বা ফ্ল্যাট এর একচিলতে বারান্দায়  , আর কিছু থাকুক না থাকুক একটা গোলাপ গাছ না হলে ঠিক যেন মন ভরে না । যদিও এই গাছের অন্তত পাঁচ ঘণ্টা সরাসরি রোদটা দরকার।

 আসলে ফুলটাই এমন যে মানুষকে নস্টালজিক করে দেয় !! স্কুল জীবনে গোলাপ নিয়ে গল্প নেই এরকম মানুষ খুঁজে পাওয়া সত্যি মুশকিল , সে ছেলেই বা মেয়ে  !
      থাক সেকথা , কেঁচো খুঁড়তে গিয়ে সাপ বের করে আনা আমার লক্ষ্য না।  আমিও বিবাহিত পুরুষ , আমার হোম মিনিস্টারকে সমঝে চলি। 

   তারপর ধরুন , সেকালের শাহজাহান এর হাতের সেই গোলাপ ।ওটার নাম জানেন ? সে গোলাপ এর একটা ভারী সুন্দর গল্প আছে , সেটা নাহয় অন্য আরেকদিন শোনাবো ।

    যাইহোক পাশের বাড়ির আঙ্কেলের গোলাপ দেখেই হোক বা নার্সারি তে ভার্মি কম্পোস্ট কিনতে গিয়েই হোক , ফুটন্ত গোলাপ দেখেই আপনার কেমন যেন মনটা আনচান করে উঠলো , উঠিয়ে নিয়ে এলেন । প্রথম ৩/৪ মাস বেশ ভালো ভাবেই কাটলো , তারপর শুরু হলো গন্ডগোল । একটা ডাল হুড়হুড়িয়ে বাড়তেই থাকলো আর অন্য ডাল গুলো আর বাড়েই না । মহা মুশকিল !!! ফুলেরও আর দেখা নেই ।

     সমস্যাটা হলো এলা ডাল , জিনিসটা কি বা কেন বুঝলেন না, এদিক ওদিক থেকে আইডিয়া হলো যে সাতপাতার ডাল এ নাকি ফুল হয় না । মনস্থির করলেন যে সব সাতপাতার ডাল কেটে দেবেন । কাঁচি নিয়ে গেলেন , গিয়ে আবার অন্য কনফিউশন !!! অনেকগুলো পাঁচপাতার মধ্যে কতগুলো সাতপাতা উঁকি দিচ্ছে , তাহলে কি ডাল তা কাটবেন নাকি কাটবেন না ? খানিকটা ধাঁধিয়ে দিলেন সাঁইসাঁই কাঁচি চালিয়ে , কার আর ওতো ধৈর্য থাকে বলুন !!!

     আমি বলি কি এই লেখাটা পুরোটা পড়ুন ধৈর্য ধরে , জীবনে আর এই নিয়ে কোনো কনফিউশন থাকবে না এটা গ্যারান্টি দিতে পারি ।

    আগে একটু গোলাপ এর ভি গ্রাফটিং বা জোড় কলম এর ব্যাপারটা জেনে নিন , তাতে বুঝতে সুবিধা হবে । মূলত আপনারা নার্সারি থেকে যে গোলাপ গাছগুলো কেনেন সেগুলো প্রায় সবই জোড়কলম এর গাছ । কিনছেন একটা গাছ , কিন্তু একটু ভালো করে লক্ষ্য করলেই দেখবেন আসলে ওটা দুটো গাছ , একটার সাথে অন্যটা জোড়া লাগানো ।

 গাছটার একদম গোড়ার দিকে খেয়াল করলে দেখবেন একটা গিঁট এর মতো জিনিস দেখতে পাবেন , ঐখানেই আসলে দুটো গাছ একে অপরের সাথে জোড়া লাগানো আছে । 

  কিন্তু হটাৎ এরকম জোড়া লাগাতে গেলো কেন ? 

আসলে  গোলাপের এই যে এতো ভ্যারাইটি দেখেন সবগুলো কিন্তু আমাদের এখানকার নেটিভ বা স্থানীয় গাছ না , বেশিরভাগই বাইরের দেশ থেকে নিয়ে আসা। আমাদের এখানকার ওয়েদার এ ওই গাছ ভালো হয় না । ডিরেক্ট চারা লাগালে একে তো বাঁচানো মুশকিল তারপর বাঁচাতে পারলেও রোগ লেগেই থাকবে, ফুল এর সাইজ ছোট হয়ে যাবে। গোদা বাংলায় গাছের মতো গাছ হবে না ।

     তাবলে কি আমরা ভালো গোলাপ করবো না ? উপায় এই জোড়কলম !!! এটার আবিষ্কার নিয়েও একটা খুব সুন্দর গল্প আছে ।

  এতে যেটা করা হয় সেটা হলো একটা বেশ হার্ডি দেখে দেশি গোলাপ গাছ নেওয়া হয় , যেটা আমাদের দেশের আবহাওয়াতে অনেকদিন বেঁচে থাকে , তারপর সেটার সাথে বিদেশী জাতের বা সৌখিন জাতের গোলাপ এর ডাল জুড়ে দেওয়া হয় । সবমিলিয়ে যেটা দাঁড়ায় সেটা হলো দেশি হার্ডি জাতের গাছের শিকড় ( ইংরিজিতে বলে রুটস্টক ) আর ২ ইঞ্চি মতো কান্ড আর তারওপর ওই শৌখিন বিদেশী আলটুসি গাছ । দেশি গোড়া মাটি থেকে পুষ্টি টেনে ওপরের শৌখিন আলটুসি রানীকে বাঁচিয়ে রাখে ।

   কেমিস্ট্রি টা বুঝুন !!! 

 আপনার গোলাপ গাছটাকে ভালো রাখতে গেলে এই কেমিস্ট্রি টাকে বদলাতে দিলে হবে না । নিচের ওই হার্ডি দেশি গাছ যদি একবার শাখা বার করে বাড়তে শুরু করে তাহলে কিন্তু আর ওই শৌখিন আলটুসি গাছ পুষ্টি পাবে না , ফলে বাড়বেও না ,ফুলও দেবে না । আস্তে আস্তে মরে যাবে ।

   দেশি গাছের এই শাখা গুলোকেই বলে গোলাপ গাছের এলা ডাল । দেখলেই কেটে ফেলতে হবে , নাহলেই গাছের সর্বনাশ । কেন সর্বনাশ সেটা এতক্ষনে নিশ্চই বুঝে গেছেন ।

    এবার আপনার মনে প্রশ্ন ,বুঝবেন কি করে কোনটা এলা ডাল আর কোনটা ভালো ডাল ? পয়েন্ট করে বলছি একদম মনে গেঁথে নিন ।

(১) জোড়কলম এর নিচে থেকে বেরানো যেকোনো ডাল ই  হলো এলা ডাল। তাই জোড়কলম এর নিচে থেকে যেকোন ডাল কেটে ফেলুন , পাঁচপাতা , সাতপাতা কিচ্ছু দেখবেন না । দেখা মাত্র কেটে ফেলুন ।

(২) অনেকসময় জোড়কলম থেকেও  শাখা বেড়ায় ,এক্ষেত্রে এটা এলা ডাল ও হতে পারে , ভালো ডাল ও হতে পারে । এলা ডাল হলে শাখা বেরানোর সময় সবুজ হয়ে বেড়ায় , ভালো ডাল হলে লাল হয়ে বেড়ায়, তবে এর ব্যতিক্রম  হতেই পারে। যদি ডাল অলরেডি অনেক বড়ো হয়ে গিয়ে থাকে তাহলে দেখুন ওই ডালটা গাছের অন্নান্য ডাল এর থেকে একটু বেশি হৃষ্টপুষ্ট কিনা , অন্য ডাল এর থেকে অনেক তাড়াতাড়ি বাড়ছে কিনা , অন্য ডাল এর থেকে বেশি কাঁটা আছে কিনা । 

      যদি এই লক্ষণ গুলো দেখেন তাহলে কেটে ফেলুন , ওটা এলা ডাল ।

(৩) যদি জোড়কলম এর ওপর থেকে কোনো শাখা বেড়ায় ওটা রেখে দিন ,সাতপাতা হলেও রেখে দিন, ওটা ভালো ডাল । ওতে ফুল আসবে ।

     শেষে কয়েকটা দরকারি টিপস দিয়ে রাখি -

(১) গাছ কিনে এনেই জোড়কলমটা চিহ্নিত করে তার ১ইঞ্চি ওপরে পার্মানেন্ট মার্কার দিয়ে মার্ক করে রাখুন । ৫ সেকেন্ড এর কাজ , কিন্তু গাছটা যতদিন বাঁচবে ততদিন আর এলা ডাল নিয়ে চিন্তা করতে হবে না । এই মার্ক এর নিচে যেকোনো শাখা বেড়ালেই কেটে ফেলবেন । 

(২) ধরুন একদম শিওর হতে পারছেন না যে এলা ডাল না ভালো ডাল , আমি বলবো কেটে ফেলুন । গোলাপ গাছ খুব তাড়াতাড়ি বাড়ে , চিন্তা নেই আবার গাছ বেড়ে যাবে , কিন্তু বাই চান্স এলা ডাল রেখে দিলে গাছটারই বারোটা বেজে যাবে ।

     ভালো থাকুন আর মনের সুখে গোলাপ গাছ করুন ।

আর হ্যাঁ , ওই পাঁচ পাতা সাত পাতার গল্পটা না একদম ফালতু । অসংখ্য গাছ দেখেছি যাতে সাতপাতা কিন্তু ফুল হচ্ছে , আবার অনেক গাছ দেখছি পাঁচপাতা কিন্তু ফুল নেই । তাই পাঁচপাতা সাতপাতা নিয়ে একদম টেনশন নেবেন না ।

Tuesday, December 10, 2024

আমের মুকুল রক্ষার চাবি আপনার হাতে - অঙ্গন আমার প্রকৃতি


জানুয়ারি থেকে শুরু করুনঃ আমের মুকুল রক্ষার সহজ উপায় জেনে রাখুন!

গাছে ভালো আমের মুকুল আসতে এখনই পরিচর্যা করুন। আপনার আম গাছের মুকুল সুস্থ রাখতে সঠিক যত্ন এবং সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। মুকুল ঠিকঠাক থাকলে ফলন যেমন ভালো হবে, তেমনি রোগ-বালাই থেকেও গাছ থাকবে নিরাপদ।
আসুন, জেনেনিই সহজ কিছু উপায়।  

মুকুল আসার আগে গাছের যত্ন নিন  
আম গাছ সুস্থ রাখতে এই ছোট ছোট পদক্ষেপগুলো অনেক বড় ভূমিকা রাখে:
আগাছা পরিষ্কার করুনঃ আগাছা শুধু গাছের পুষ্টি কমায় না, রোগ-বালাইয়ের ঝুঁকিও বাড়ায়। তাই মাটির চারপাশ একদম পরিষ্কার রাখুন।   
মরা ডালপালা কেটে ফেলুনঃ মরা বা শুকনো ডাল গাছে শুধু ওজন বাড়ায়, কিন্তু কোনো কাজে আসে না। এগুলো কেটে গাছকে হালকা করুন।  
পরগাছা সরানঃ গাছের শক্তি চুরি করে নেওয়া পরগাছা দূর করুন।  
সেচ বন্ধ করুনঃ মুকুল আসার ২-৩ মাস আগে সেচ বন্ধ রাখলে গাছ আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হয়।  

১. প্রথম স্প্রে: সময়মতো করলে ভালো ফল পাবেন
মুকুল যখন ৪-৬ ইঞ্চি হয়, তখন সঠিকভাবে স্প্রে করলে গাছ রোগমুক্ত থেকে।  
কী ব্যবহার করবেন?
১ লিটার জলে ০.৫ মিলি ইমিডাক্লোপ্রিড কীটনাশক। ২ গ্রাম ম্যানকোজেব ছত্রাকনাশক।  কীভাবে করবেন?
গাছের সমস্ত অংশ ভালোভাবে ভিজিয়ে স্প্রে করুন।
খেয়াল রাখতে হবে:
ফুল ফোটা অবস্থায় কোনো ধরনের স্প্রে করা যাবে না। প্রয়োজন হলে জানুয়ারিতে আরেকটি স্প্রে করুন।

যদি জানুয়ারি মাসে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়া থাকে, তবে মুকুল আসার ১৫-২০ দিন আগে স্প্রে করতে পারেন।  
কী ব্যবহার করবেন?
১ লিটার জলে ১ মিলি সাইপারমেথ্রিন কীটনাশক।
২ গ্রাম সালফারযুক্ত ছত্রাকনাশক।  

এটি কীভাবে সাহায্য করবে? 
হপার পোকা থেকে সুরক্ষা।  
সূট্যি মোল্ড ছত্রাকের আক্রমণ কমানো।  

২. দ্বিতীয় স্প্রে: যখন মুকুলে ফল আসবে  
আমের মটর দানা আকৃতি তৈরি হলে দ্বিতীয় স্প্রে করতে হবে।  

কী ব্যবহার করবেন?  
১ লিটার জলে ০.৫ মিলি ইমিডাক্লোপ্রিড কীটনাশক।  
২ গ্রাম কার্বেন্ডাজিম ছত্রাকনাশক।  

পদ্ধতিঃ 
গাছের সম্পূর্ণ অংশ ভিজিয়ে স্প্রে করুন।  

আপনার গাছের জন্য আপনার ভালোবাসাই আসল যত্ন।

আপনার আম গাছের মুকুল সুরক্ষিত রাখতে এই কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করুন। গাছের সঠিক যত্নই ভালো ফলনের চাবিকাঠি।

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ ছবিতে দেখা যাচ্ছে পেয়ারার ফলের ভেতরের অংশ কালো হয়ে পচে গেছে এবং...