Thursday, August 31, 2023

নন্দিনীর বীজ থেকে চারা করার পদ্ধতি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

নন্দিনীর বীজ থেকে চারা করার পদ্ধতি:-
যারা নন্দিনীর বীজ সংগ্রহ করবেন বা করেছেন, আপনাদের মনে কম বেশি সবারই একটাই প্রশ্ন বীজ থেকে চারা কি ভাবে করবো !
আপনারা অনেকেই আবার জানতে চাইছেন। তাই আজ অতি সহজেই নন্দিনীর বীজ থেকে চারা করার পদ্ধতি আপনাদের কাছে উপস্থাপন করবো।
🌷সবুজ প্রেমী বাগানিদের কাছে কম বেশি প্রায় সবার বাড়িতেই মাটির বা প্লাস্টিকের টবে রেন লিলি ও রজনীগন্ধা ফুলের গাছ আছে। ওই টবে গাছের পাশে অনেক টাই মাটি ফাঁকা পরে থাকে। রেন লিলি বা রজনীগন্ধা ফুলের টবে ফাঁকা অংশের মাটিতে, নন্দিনী ফুলের বীজ গুলো খুব সাবধানে মাটির ওপরে ছড়িয়ে দিতে হবে। বীজ গুলো ছড়িয়ে দেবার পর কোনো কিছু দিয়ে চাপা দেওয়া যাবে না, বীজ গুলো যেনো মাটির ওপরেই থাকে সেটা খেয়াল রাখতে হবে। প্রতি দিন স্প্রে করে জল দেবেন। মাটি শুকনো না হয়ে যায়, মাটিতে জল ভাব যেনো থাকে।
কোনো পাত্র করে জল ঢালবেন না। সকালের দিকে সূর্যের সরাসরি আলো পায় এমন জায়গায় রাখবেন। বীজ থেকে চারা করার সময় থেকে যত দিন না গাছের ৮ টা পাতা হচ্ছে বৃষ্টির জলে ভেজাবেন না। নন্দিনীর বীজ থেকে চারা করার পর, গাছের ৮ টা পাতা পর্যন্ত তেমন কোনো খাবারের প্রয়োজন হয় না। তবে ৬ টা পাতা হবার পর সামান্য জৈব অনুখাদ্য দেওয়া যেতে পারে।
🌷যাদের রেন লিলি বা রজনীগন্ধা ফুলের গাছ নেই , আপনারা একটি গামলা টবে ৬০% মাটি, ৩০% ভার্মি কম্পোস্ট আর ১০% সাদা বালি সব গুলো ভালো করে মিশিয়ে টবে দেবেন। জলে কিছুটা ফাঙ্গিসাইড মিশিয়ে টবের মাটি ভালো করে ভিজিয়ে দেবেন। প্রতি দিন জল দেবেন, মাটি যাতে শুকিয়ে না যায় সেটা খেয়াল রাখবেন। ১০দিন পর টবের মাটির ওপরে বীজ গুলো ছড়িয়ে দেবেন। বীজ ছড়ানোর পর থেকে বাকি প্রসেস টা আগের মতোই হবে।

Tuesday, August 22, 2023

পার্থেনিয়াম ক্ষতিকারক - অঙ্গন আমার প্রকৃতি ANGAN AMAR PRAKRITI

পার্থেনিয়াম
বৈজ্ঞানিক নাম - Parthenium hysterophbrus

পরিচিতি :
         পার্থেনিয়াম Asteraceae পরিবারের অন্তভূর্ক্ত বর্ষজীবী বীরুৎ জাতীয় উদ্ভিদ। সাধারণ ১ থেকে ১.৫ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতা গুলি খাঁজযুক্ত, অনেকটা চন্দ্রমল্লিকা গাছের মতো দেখতে। জন্মের ২৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যেই ফুল ধরে এবং ফুলগুলি সাদা ও ক্ষুদ্রকার। তিন থেকে চার মাসের মধ্যে জীবনচক্র সম্পূর্ণ করে। একটি গাছ থেকে ৫ - ২৫ হাজার পর্যন্ত গাছ জন্মাতে পারে। বীজ হালকা ও প্যারাসুটের মতো হওয়ার কারণে তা দ্রুতগতিতে ছড়িয়ে পড়ে । পার্থেনিয়ামকে বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন নামে পরিচিতি যেমন - গাজর ঘাস, কংগ্রেস ঘাস, চেতক চাঁদনী ইত্যাদি। 

বিস্তার :
      পার্থেনিয়ামের আদি নিবাস হল উত্তর - দক্ষিণ আমেরিকা, ওয়েষ্ট ইন্ডিজ ও উত্তর-পূর্ব মেক্সিকো। বিদেশ থেকে আমাদের দেশে খাদ্যশস্য মাধ্যমে পার্থেনিয়াম আগাছা আমাদের দেশে এসেছে । ভারতবর্ষে ১৯৫৫ সালে প্রথম এবং পশ্চিমবঙ্গে ১৯৭৫ সালে ডানকুনি রেল ইয়াডে পার্থেনিয়াম আগাছা দেখা মিলে । বর্তমানে আমাদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় দেখাযায় বিশেষ করে রেল লাইন ও রাস্তার ধারে।
 
ক্ষতিকারক দিক গুলি :
       চিকিৎসক ও কৃষিবিজ্ঞানীদের মতে এই পার্থেনিয়াম গাছ খুবই বিষাক্ত। বিশেষ করে ফুলের রেনুতে অবস্থিত " সেস্কুটার্পিন ল্যাকটোন " ( Sesquiter-pene Lactone বা SQL) জাতীয় বিষাক্ত পদার্থ " পার্থেনিন " । এছাড়াও এর মধ্যে থাকা বিষাক্ত রাসায়নিকগুলি হল, - ক্যাফেইক অ্যাসিড, পি-অ্যানিসিক অ্যাসিড প্রভৃতি। উল্লেখিত রাসায়নিকগুলি মানুষ ও গবাদি পশুর স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক। বিশেষ করে যখন গাছে ফুল ফোটে তখন পার্থেনিয়াম গাছ মানুষ ও গবাদি পশুর জন্য হয়ে ওঠে মারাত্মক ক্ষতিকর। এই ফুলের রেণু বাতাসে ছড়িয়ে পড়ে এবং শ্বাস প্রশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে পৌঁছায় যা থেকে জন্ম হয় মানবদেহে শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, এলার্জি, হাঁপানির মতো ভয়ংকর রোগ এবং পার্থেনিয়াম গাছের রস চামড়ায় লাগালে সেখান থেকে ক্যান্সার মতো ভয়ানক রোগ হতে পারে। গবাদি পশু এই আগাছা খেলে তার অন্ত্রে ও মুখে ঘা দেখা দেয় এবং দুগ্ধ জাতীয় গাভীদের দুধ উৎপাদনের পরিমাণ কমে যায়। চাষের জমিতে পার্থেনিয়াম আগাছা জন্মালে মাটিতে নাইট্রোজেন আবদ্ধকরনের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় ও ফসলের ফলন কমে যায় এবং মাটি অস্বাস্থ্যকর হয়ে যায়।
 
দমন পদ্ধতি :
       1) পার্থেনিয়াম গাছের ফুল আশার আগে হাত দিয়ে অথবা অন্যকোন মাধ্যম দিয়ে তুলে নষ্ঠ করে দিতে হবে।
       2) খাদ্য লবণ দ্রবণ (১ লিটার জল + ১৫০ গ্রাম লবণ) পার্থেনিয়াম আগাছার উপর স্পে করে নষ্ঠ করা যেতে পারে।
      3) এছাড়া বাজারে বিভিন্ন ধরনের আগাছা নাশাক রাসায়নিক বিষ পাওয়া যায়, সেই সমস্ত আগাছা নাশাক রাসায়নিক বিষ প্রয়োগ করে পার্থেনিয়াম আগাছা নষ্ঠ করা যেতে পারে।

Sunday, May 7, 2023

পিপুল গাছের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গুণ - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

পিপুল গাছের দুটি গুরুত্বপূর্ণ ঔষধি গুণ

১. হাঁপানির উপশম হয় : অল্প পরিশ্রমে যাদের শ্বাসকষ্ট হয়, হাঁপ ধরে তারা পিপুলচূর্ণ ২৫০ মিলিলিটার সামান্য ১ কাপ জলে গুলে খাবার গ্রহণের কিছু পরে খেতে পারেন। তা না হলে ২ গ্রাম পিপুল ফল একটু থেঁতো করে ৪ কাপ জলে সিদ্ধ করে ১ কাপ থাকতে নামিয়ে ২-৩ ঘণ্টা পর পর তা ৩-৪ বারে খেতে পারেন। এতে শ্বাসের কষ্ট কমবে।
২. অর্শ নিরাময় করে : অর্শ হলে আধা চা-চামচ পিপুল চূর্ণ, ভাজা জিরার গুঁড়া সামান্য লবণ ১ গ্লাস ঘোলে মিশিয়ে খালি পেটে খেতে হবে। এতে অর্শ রোগ কমে যাবে। ঘোল পাওয়া না গেলে ছাগলের দুধে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। এমনকি এই মিশ্রণ জ্বাল দিয়ে ঘন করে মলমের মতো অর্শের বুটিতে লাগিয়ে দেয়া যায়।

Saturday, May 6, 2023

ফুল চাষে ক্ষীরাই, না দেখলে বিশ্বাসই করবেন না - অঙ্গন আমার প্রকৃতি



🏵🌿ক্ষীরাই বাংলার ফুলের উপত্যকা🌿🏵

🌼পথনির্দেশ : হাওড়া থেকে খড়গপুর বা মেদিনীপুর গামী ট্রেন ধরে পাঁশকুড়ার পরের স্টেশন ক্ষীরাই। সময় লাগে ১ ঘন্টা ৫০ মিনিট মতন।ক্ষীরাই স্টেশনে নেমে তিন নম্বর লাইন ধরে বরাবর পাশকুরার দিকে প্রায় ২০মিনিট মতন হেঁটে সরু মাটির রাস্তা বরাবর কিছুদূর যাওয়ার পর পড়বে কসাই নদীর দুদিকেই ফুলের চাষ।
🌸ক্ষীরাই আসলে একটি নদীর নাম আর সেই নদীর নামেই গ্রামের নামকরণ l এখানে সবটাই যেন এক আঁকা ছবির মতন রঙীন ও সুন্দর l নাহঃ এখানে নাই কোনো পাহাড়ি উপত্যকা,নাই কোনো তুষারধবলিত অঞ্চল বা নিবিড় বনানি। তবে আছে এই বাংলার নির্ভেজাল স্বাদ, আছে বাংলার নদী-ঘর-মাঠ-মানুষ নিয়ে ভরা প্রকৃত 'বাংলার মুখ' । তবে সবকিছুর মাঝেও যা সবাইকে বারবার ক্ষীরাইয়ের দিকে ছুটে নিয়ে যায় , তা হলো হাজারো ফুলের প্রাণ খোলা হাসির সমাহার l
বাংলার ফুলের উপত্যকা - ক্ষীরাই l
দুগ্গাপুজোর আগে পরেই কাঁসাই ও ক্ষীরাই নদীর ডান ও বামদিকের মাইলের পর মাইল ক্ষেত জুড়ে বসানো হয় চারাগাছ , যা ডিসেম্বরের মাঝামাঝি থেকে ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধ অবধি নানা রঙের গালিচায় ভরে ওঠে নানা ফুলের গল্প নিয়ে l কি নাই সেখানে? গাঁদা,গোলাও, আষ্টার, চন্দ্রমল্লিকা, মোরগঝুঁটি এবং আরো কত নাম না জানা ফুল l মাঠের পরে মাঠ ফুলের গালিচায় ঢাকা l
ফুলের ক্ষেতে ব্যস্ত চাষিরা পরিচর্যায় l ফুল তো অবশ্যই প্রধান আকর্ষণ , তাছাড়া আছে নানা পাখি প্রজাপতি ফড়িং আর পোকামাকড়। সবটা মিলিয়ে বলা যেতে পারে এই সময় প্রকৃতি তার রূপ-রস -গন্ধে ভরিয়ে রাখে এই ক্ষীরাই উপত্যকা l
🍀তবে আমরা মানুষেরা হয়ত ভালো কিছু টিকিয়ে রাখতে পারিনা!
তাই এই যায়গাটির প্রতি ভ্রমনপিপাসু মানুষ জনের কিছু অবহেলা চোখে পড়ার মতন। গাছ থেকে ফুল ছেড়া, গাছের ডাল-পালা ধরে ছবি তোলা, সর্বোপরিভাবে সুন্দর এলাকাগুলোতে মাইক-প্যাকেট-খাওয়ার দ্রব্যের অনধিকৃত ব্যবহারে বনভোজন ইত্যাদি ফুলের গালিচায় মানুষের নির্মমতার প্রতীকী। তাই এগুলো দূরে রাখলে জায়গাটা বর্তমানে এবং ভবিষ্যতেও তার বৈশিষ্ট্য বজায় রাখতে সক্ষম হবে।

বোর্দ্য দ্রবণ তৈরী পদ্ধতি। ভাইরাস নাশক তৈরী পদ্ধতি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

আমরা চাষ করতে গিয়ে যেকোন সবজি তে একটি বড় সমস্যার সন্মুখীন হই সেটি হল ছত্রাকনাশক এবং ভাইরাস নাশক এর জন্যে এবং জৈব উপায়ে কিভাবে তা দমন করব তা নিয়ে চিন্তিত থাকি। যে জৈব ভাবে সর কিটবিতারক তো ব্যাবহার করছি কিন্তু ফসলে ছত্রাকনাশক এবং ভাইরাস দূর করব কি করে সেই পদ্ধতি জানব -
হোমকিটনাশক প্রস্তুতবোর্দ্য দ্রবণ তৈরী পদ্ধতি। ভাইরাস নাশক তৈরী পদ্ধতি। SPNF ( borddo drobon toiri podhoti . virus nasok toiri podhoti
বোর্দ্য দ্রবণ তৈরী পদ্ধতি। ভাইরাস নাশক তৈরী পদ্ধতি। SPNF ( borddo drobon toiri podhoti . virus nasok toiri podhoti
Editorমে ২১, ২০২২
বোর্দ্য দ্রবণ তৈরী পদ্ধতি। ভাইরাস নাশক তৈরী পদ্ধতি। SPNF



আমরা চাষ করতে গিয়ে যেকোন সবজি তে একটি বড় সমস্যার সন্মুখীন হই সেটি হল ছত্রাকনাশক এবং ভাইরাস নাশক এর জন্যে এবং জৈব উপায়ে কিভাবে তা দমন করব তা নিয়ে চিন্তিত থাকি। যে জৈব ভাবে সর কিটবিতারক তো ব্যাবহার করছি কিন্তু ফসলে ছত্রাকনাশক এবং ভাইরাস দূর করব কি করে সেই পদ্ধতি জানব -

সূচিপত্র(Table Of Contents)
1.ভাইরাস নাশক ও ছত্রাক নাশক
2.বাের্দো দ্রবণ তৈরী : 
3.জীবানুর দ্রবণ তৈরী : 
4.FAQ(প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর) 
1 . ট্রাইকোড্রামা ভিরিডি কিভাবে ব্যবহার করে ?
2 . বোর্দ্য দ্রবণ কিভাবে তৈরী করে ?
3 . পেঁপের ভাইরাস কিভাবে ঠিক হয় ?
তথ্য সূত্র 
1.ভাইরাস নাশক ও ছত্রাক নাশক
আমরা আমাদের একটি হিসেব বলছি এক একর বা 3 বিঘা জমির জন্যে আপনার আপনাদের প্রয়োজন অনুসারে আনুপাতিক হার মিলিয়ে করে নিবেন। 

a.উপকরন -
জল 200 লিটার । 
টক দই 5 লিটার (4-5) দিনের পুরোনো । 
প্রস্তুতি ও ব্যাবহার । 
উপরক্ত দুটি দ্রব্যকে এক সাথে ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে এক একর বা 3 বিঘা জমিতে স্প্রে করা যেতে পারে । 
b.উপকারিতা -
যে কোন ফসলের ছত্রাক এবং ভাইরাস দমনের জন্যে এই মিশ্রণ ব্যাবহার করতে পারেন । এটি পেপে গাছের একটি বড় সমস্যা লিফকার্ল এবং মোজাইক ভাইরাস আক্রমণের কারণে প্রায় 70% জমি নষ্ট হয়ে যায় এবং রাসায়নিক ভাবে কন্ট্রোল করা সমস্যা কন্ট্রোল করা যায় না কিন্তু নিমাস্তর / অগ্নিঅস্ত্র প্রয়োগ এবং পরে ঐ দ্রবণ 7 দিন পর পর প্রয়োগ করলে 3 বার দিলেই পেপের এই রোগ দমন করা সম্ভব হয় । 

2.বাের্দো দ্রবণ তৈরী : 
১০ গ্রাম পুঁতে ও ১০ গ্রাম চুন ১ লিটার জল, এই অনুপাতে মিশ্রণকে ১% বাের্দো মিশ্রণ বলে। মিশ্রণ বানানােতে বিশেষ সতর্কতা প্রয়ােজন হয় যেমন:

a.বাের্দো দ্রবণ প্রস্তুতি -
সমপরিমান পুঁতে ও চুন দুটি আলাদা মাটি, কাঠ বা প্লাষ্টিক পাত্রে গুলতে হবে। কোন ধাতু নির্মিত পাত্র বা হাতা ব্যবহার করা যাবেনা।।

 এবার তৃতীয় একটি দ্বিগুণ মাপের পাত্রে চুন ও উঁতের দ্রবণ একসাথে সাবধানে ধীরে ধীরে ঢালতে হবে ও কাঠ বা অধাতব কোনও হাতা বা কাঠি দিয়ে নাড়তে হবে। মেশানাের সময় খুব গরম হয়। মেশানাে শেষ। হলে পরিমান মত ঠান্ডা জল মিশিয়ে দ্রবণটি তৈরী হয়। 

এবার একটি কাস্তে বা লােহার দন্ড বা ব্লেড ঐ মিশ্রণে চুবিয়ে দেখতে হয় তামাটে লালচে দাগ পরে কিনা। যদি দেখা যায় দাগ পড়ছে তাহলে অল্প অল্প করে চুন মেশাতে হয়। যখন দেখা যাবে লােহাতে আর দাগ। পড়ছে না তখন বুঝতে হবে দ্রবণ তৈরী সম্পূর্ণ হয়েছে। তৈরী হওয়ার সাথে সাথে স্প্রে করতে হবে। 

b.বাের্দো দ্রবণ ব্যবহার 

শাকসবজির, ধানের, বিশেষ করে আলুর জলদি ধবসা, নাবী ধবসা ইত্যাদি ছত্রাক জনিত রােগে খুবই কার্যকরী ও সস্তা। প্রয়ােজনে ১৫-২০ দিন অন্তর দুবার স্প্রে করা যাবে। ধানের ব্যাক্টেরিয়াল ব্লাইট, পাতায় বাদামী দাগ, খােলা পচা, গােড়া পচা রােগ, বেগুন, টমেটো,পটল ইত্যাদির পাতায় ধ্বসা রােগ ও গােড়া পচা রােগ ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করা যায়।

3.জীবানুর দ্রবণ তৈরী : 
সিউডােমােনাস ফ্লরেসেন্স বা ট্রাইকোডারমা ভিরিডি নামের জীবাণুর দ্রবণ ব্যবহার করে বিভিন্ন ছত্রাক নাশক রােগ ঠিক হয়।

a.ব্যবহারের পদ্ধতি: 
a.1.বীজ শােধন 
 সিউডােমােনাস - প্রতি কেজি ধান বীজের জন্য ১০ গ্রাম জীবাণু ৩০০ মি:লি; জলে |গুলে ধান বীজ চার ঘন্টা ভিজিয়ে রাখা।

 ট্রাইকোডারমা জীবাণু- প্রতি কেজি বীজে ৪ গ্রাম জীবাণু ও ২০ মি:লি: ঠান্ডা ভাতের। মাড় দিয়ে বীজে মাখানাে।

a.2.চারা শােধন : 
টাইকোডারমা ভিরিডি জীবাণু ২০০ গ্রাম ১০ লিটার জলে গুলে ধানের চারা ১০ মিনিট দেরি নিয়ে রােপণ করতে হয়। 

a.3.মূলজমিতে প্রকোপ দেখা দিলে :
৮০ গ্রাম ট্রাইকোডারমা ভিরিডি ১২০ লিটার জলে গুলে বিকেলের দিকে স্প্রে করতে হয় ।

b.জীবানুর দ্রবণ ব্যবহারে উপকার - 
  ধানের পাতা ঝলসা, পাতায় বাদামী ছিটে দাগ, খােলা পচা, খােলা ঝলসা রােগ, ইত্যাদি পরিবেশমুখী উপায়ে ঠিক হয়। 

4.FAQ(প্রায়ই জিজ্ঞাসিত প্রশ্নোত্তর) 
1 . ট্রাইকোড্রামা ভিরিডি কিভাবে ব্যবহার করে ?
 ট্রাইকোডারমা ভিরিডি বীজ শোধনের জন্যে প্রতি কেজি বীজে ৪ গ্রাম জীবাণু ও ২০ মি:লি: ঠান্ডা ভাতের। মাড় দিয়ে বীজে মাখানাে এবং চারা শোধনের জন্যে ২০০ গ্রাম ১০ লিটার জলে গুলে ধানের চারা ১০ মিনিট দেরি নিয়ে রােপণ করতে হয় এর ফলে ধানের পাতা ঝলসা, পাতায় বাদামী ছিটে দাগ, খােলা পচা, খােলা ঝলসা রােগ, প্রভৃতিতে উপকার পাওয়া যায়। 

2 . বোর্দ্য দ্রবণ কিভাবে তৈরী করে ?
সমপরিমান তুতে ও চুন দুটি আলাদা মাটি, কাঠ বা প্লাষ্টিক পাত্রে গুলতে হবে। কোন ধাতু নির্মিত পাত্র বা হাতা ব্যবহার করা যাবেনা।।

 এবার তৃতীয় একটি দ্বিগুণ মাপের পাত্রে চুন ও উঁতের দ্রবণ একসাথে সাবধানে ধীরে ধীরে ঢালতে হবে ও কাঠ বা অধাতব কোনও হাতা বা কাঠি দিয়ে নাড়তে হবে। মেশানাের সময় খুব গরম হয়। মেশানাে শেষ। হলে পরিমান মত ঠান্ডা জল মিশিয়ে দ্রবণটি তৈরী হয়। 

এবার একটি কাস্তে বা লােহার দন্ড বা ব্লেড ঐ মিশ্রণে চুবিয়ে দেখতে হয় তামাটে লালচে দাগ পরে কিনা। যদি দেখা যায় দাগ পড়ছে তাহলে অল্প অল্প করে চুন মেশাতে হয়। যখন দেখা যাবে লােহাতে আর দাগ। পড়ছে না তখন বুঝতে হবে দ্রবণ তৈরী সম্পূর্ণ হয়েছে। তৈরী হওয়ার সাথে সাথে স্প্রে করতে হবে। 

3 . পেঁপের ভাইরাস কিভাবে ঠিক হয় ?
জল 200 লিটার । 
টক দই 5 লিটার (4-5) দিনের পুরোনো । 
প্রস্তুতি ও ব্যাবহার । 
উপরক্ত দুটি দ্রব্যকে এক সাথে ভাল করে মিশিয়ে নিয়ে এক একর বা 3 বিঘা জমিতে স্প্রে করা যেতে পারে । এটি পেপে গাছের একটি বড় সমস্যা লিফকার্ল এবং মোজাইক ভাইরাস আক্রমণের কারণে প্রায় 70% জমি নষ্ট হয়ে যায় এবং রাসায়নিক ভাবে কন্ট্রোল করা সমস্যা কন্ট্রোল করা যায় না কিন্তু নিমাস্তর / অগ্নিঅস্ত্র প্রয়োগ এবং পরে ঐ দ্রবণ 7 দিন পর পর প্রয়োগ করলে 3 বার দিলেই পেপের এই রোগ দমন করা সম্ভব হয় । 

তথ্য সূত্র 
হিমাচল প্রদেশ সরকার প্রাকৃতিক কৃষি।

Friday, October 7, 2022

কৃষি সার বিক্রয় লাইসেন্স রেজিস্ট্রেশনের সঠিক তথ্য - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

প্রয়োজনীয় তথ্য :
রেজিস্ট্রেশনের সময় ডকুমেন্টস আপলোডের জন্য প্রয়োজনীয় সাইজ :
  • (১) ফটো : ৫০ কেবি (JPEG বাধ্যতামূলক)
  • (২) প্যান কার্ড : ৪০০ কেবি

অ্যাপ্লিকেশনের সময় অন্যান্য ডকুমেন্টস আপলোডের জন্য প্রয়োজনীয় সাইজ :
  • (১) সমস্ত ডকুমেন্টস : ৮০০ কেবি
  • (২) ডিড / পরচা : ২ এম.বি

ফার্টিলাইজার রিনিউয়ালের ক্ষেত্রে সেল - স্টক এর রিপোর্ট ফিনান্সিয়াল বছর ভিত্তিক আপলোড করা ব্যাধ্যতামূলক। হোম পেজে গিয়ে " Fertilizer Sale Stock Report" ফরম্যাট ডাউনলোড করে তা ফিলাপ করে রিনুয়ালের সময় আপলোড করতে হবে।সর্বোচ্চ সাইজ ২ এম বি।

এখন থেকে সরকারী নির্দেশিকা অনুযায়ী অনলাইনে https://wbifms.gov.in/GRIPS এই পোর্টালের মাধ্যমে কেবলমাত্র লাইসেন্সিং সংক্ৰান্ত সমস্ত পেমেন্ট বাধ্যতামূলক। অন্যথায় ফর্মটি গৃহীত হবে না। পেমেন্ট পদ্ধতির ইউসার ম্যানুয়াল " হোম পেজে " পাওয়া যাবে।

Important Information :
Documents upload size at the time of Registration :
  • (1) Photo : 50 KB (JPEG Only)
  • (2) PAN Card : 400 KB

Documents upload size at the time of Application :
  • (1) All Documents : 800 KB
  • (2) Deed / Porcha – 2 MB

Upload Sale – Stock report Financial Year wise in case of LOA Fertilizer is mandatory . Request to download “Fertilizer Sale Stock Report” from homepage under Online Licensing. Maximum Upload size 2 MB.

Now onwards all payments related to licensing must be paid online through "https://wbifms.gov.in/GRIPS/" portal only. No other mode of payments will be acceptable. User manual for online payment has been uploaded at Home Page of online licensing system.

Thursday, September 22, 2022

স্নেক প্ল্যান্টের ৬টি অজানা উপকারিতা এবং চারা তৈরির পদ্ধতি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

স্নেক প্ল্যান্টের তথ্যঃ-

গবেষণায় প্রমাণিত স্নেক প্ল্যান্টের ৬টি অজানা উপকারিতা এবং স্নেক প্ল্যান্টের চারা তৈরির প্রক্রিয়া 

স্নেক প্ল্যান্ট। নাম শুনলেই একটা সাপ, সাপ অনুভূতি আসে। হ্যা, এই হাউজপ্ল্যান্টের বিশেষ সর্পিলাকৃতির জন্যেই এমন নাম। বাংলায় কেউ কখনো অনুবাদ করার প্রয়োজন মনে করেনি এই উদ্ভিদটির। সর্পিল উদ্ভিদ বলা যেতে পারে। 

স্নেক প্ল্যান্ট লিলি গোত্রের একটি বিশেষ ঘরোয়া উদ্ভিদ। ঘরোয়া মানে একেবারেই ঘরকণ্যা; রোদ, বৃষ্টি, জৈবসার, বিশেষ পরিচর্যার খুব একটা প্রয়োজন নেই বললেই চলে। আর ঘরে থেকে শুধু সৌন্দর্য্যবর্ধন করেই ক্ষান্ত থাকে না এই উদ্ভিদটি, অনেক ক্ষতিকর পদার্থ শোষণ, বায়ু পরিশোধন ও অধিক স্থায়ী হয়ে থাকে। 

এই উদ্ভিদের একটি বেশ মজার নাম আছে। অনেকে একে “মাদার-ইন-ল’স টাং” বা (Mother-in-law’s Tongue) নামেও অভিহিত করেন। মানে খাঁটি বাঙলায় “শ্বাশুড়ির জিহবা”; হয়ত বেশি পরামর্শ দেওয়া শ্বাশুড়িদের সম্মানার্থে জিহবা সদৃশ দেখতে পাতার নাম থেকে এটা দেওয়া। 

গবেষণা ও বিভিন্ন উদ্ভিদতাত্ত্বিক সংস্থার স্টাডি থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে স্নেক প্ল্যান্টের ০৬ টি বিশেষ উপকারিতা জানলে হয়ত আপনিও আপনার ঘরে এমন উপকারি বন্ধুকে জায়গা না দিয়ে পারবেন না। 

নাসার গবেষণায় বায়ু পরিশোধণকারী 

স্নেক প্ল্যান্ট আপনার ঘরের জন্যে একটি আদর্শ বায়ু পরিশোধনকারী। নাসার গবেষণায় পাওয়া তথ্যমতে, আমাদের বায়ুতে উপস্থিত বিষাক্ত গ্যাস যেমন ফরমালডিহাইড, জাইলিন, টলুইন এবং নাইট্রোজেন অক্সাইডকে বিয়োগ করতে বিশেষভাবে পারদর্শী। বিভিন্ন অটোমটিভ ইন্ডাস্ট্রি, শোরুম, প্লাইউড, কার্পেটিং, ছাপাখানা, রঙ বানানো ফ্যাক্টরি, অফিসে এসব রাসায়নিক পদার্থ বায়ুতে ছড়িয়ে থাকে এবং ব্যবহৃত হয়, সেসব স্থানে বিভিন্ন কর্ণারে স্নেক প্ল্যান্ট স্থাপন করে খুব সহজেই এসব দূর করা সম্ভব। নাসার পরামর্শ অনুযায়ী, ১৮০০ বর্গফুট মহাকাশ স্পেস স্টেশনে ১৫-১৮ টি মাঝারি থেকে বৃহত্তর সাইজের স্নেক প্ল্যান্টই সমস্ত বিষাক্ত রাসায়নিক কণাকে দূর করতে যথেষ্ট! 

রাতের অক্সিজেন ব্যাংক 

অন্যান্য অক্সিজেন নিঃসরণকারী উদ্ভিদের চেয়ে স্নেক প্ল্যান্ট রাতের বেলায় বেশি পরিমাণে কার্বণ ডাই অক্সাইডকে অক্সিজেনে রূপান্তর করতে পারে। সেজন্যে যেকোনো বদ্ধ ঘরে একজন পূর্ণ বয়স্ক ব্যক্তির জন্যে ৬-৮ টি স্নেক প্ল্যান্টই অক্সিজেনের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে যথেষ্ট। এছাড়াও স্নেক প্ল্যান্ট এয়ার কন্ডিশনার থেকে নির্গমিত ফর্মালডিহাইড দূর করে থাকে। 

বাথরুমের স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিতে 

আমাদের বাথরুমে ব্যবহৃত টয়লেট পেপার, টিশ্যু, ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতে ব্যবহৃত কসমেটিকস তৈরিতে ফর্মালডিহাইড ব্যবহার করা হয়। এটা আমাদের নিঃশ্বাসের সাথে রক্তে মিশে জীবনবিধ্বংসী ক্যান্সার এর কারণও হতে পারে। বাথরুমে ২-৩ টি স্নেক প্ল্যান্ট রাখুন, এটি বাথরুমের স্বল্প আলো ও আর্দ্র পরিবেশের সাথে মানিয়ে ফর্মালডিহাইড শোষণ করবে। 

স্বল্প পরিচর্যাই যথেষ্ট 

উপরে উল্লেখিত স্নেক প্ল্যান্টের অন্যসব উপকারী দিকগুলোর সাথে যেটি সংযুক্ত না করলেই নয়, এটি অন্যতম একটি স্বল্প পরিচর্যায় বেড়ে ওঠা উদ্ভিদ। কড়া রোদ কিংবা ছায়াযুক্ত স্থান, পানিশূণ্য মরুভূমি; যেকোনো পরিবেশেই স্নেক প্ল্যান্ট বেড়ে উঠতে পারে। মূলত, অবহেলাতেই এটি খুব সুন্দরভাবে বেড়ে উঠতে পারে। 

এলার্জি ও অসুস্থতার বিরুদ্ধে প্রতিরোধে সাহায্য করে 

স্নেক প্ল্যান্ট বিষাক্ত পদার্থ শোষণ ও অক্সিন নির্গমণ করে। অনেক সময় স্নেক প্ল্যান্ট বাতাসে আর্দ্রতা নিঃসরণ করে এলার্জিবাহী কণাকে হ্রাস করে। যাদের এলার্জির সমস্যা অধিক, তারা ঘরে বা অফিসে ২-১ টি স্নেক প্ল্যান্টকে সবসময় রাখতে পারে। এটি প্রাকৃতিক ও স্বস্তা উপায়ে আপনাকে সুস্থ রাখবে। ঘরের অভ্যন্তরীণ দুষিত বায়ু ও পরিবেশের জন্যে সিক বিল্ডিং সিন্ড্রোম নামে একটি ক্ষতিকর প্রভাব আমাদের স্বাস্থ্যের উপর পড়তে পারে। যার ফলে নাক, কান ও গলায় জ্বালাপোড়া দেখা দেয়। এছাড়া কাশি, মাথা ঘোরা, চুলকানি, বমি বমি ভাব, মনোযোগহীনতা, অবসাদ এর উপদ্রব তৈরি হতে পারে। 

এর বেশ কিছু কারণের মধ্যে অন্যতম প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশনের অভাব, কার্পেট, ফটোকপি মেশিন, কীটনাশক, পরিচ্ছন্নতায় ব্যবহৃত উপাদান ইত্যাদি ব্যাকটেরিয়া, মোল্ডোস, ভাইরাস জন্মাতে সাহায্য করে। এসব ক্ষতিকর প্রভাব করায় স্নেক প্ল্যান্ট অধিক কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। 

আকর্ষণীয় বাহ্যিকতা 

বায়ু পরিশোধণ নিয়ে তো অনেক বললাম, এবার এটার গঠনপ্রকৃতি নিয়ে কিছু বলি। স্নেক প্ল্যান্ট অনন্য প্রকৃতির একটি ঘরোয়া উদ্ভিদ। কাণ্ডহীন, ঢালবিহীন, পুরু, লম্বা পর্ণরাজিকে দেখতে কৃত্রিম মনে হয়, সেই সাথে পাতার উপরে সবুজ, হলদে বা ধূসর এলোমেলো দাগগুলোকে একে আরও আকর্ষণীয় করে।

নানা ধরনের ক্রোটন চাষ, কীভাবে পরিচর্যা করবেন - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

নানা ধরনের ক্রোটন (Croton) – পরিচিতি, লাগানোর পদ্ধতি ও ব্যবহার ক্রোটন (Codiaeum variegatum) একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় শোভাবর্ধক পাতা...