Wednesday, November 4, 2020

অর্কিড প্রজাতির ফুল চাষের ঘরোয়া টোটকা - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

আজকে এমন একটি ফুল গাছ নিয়ে লিখতে যাচ্ছি যাকে অনেকেই ঘরে আনতে চান না এই ভেবে যে ওকে পালন করা আমার কম্মো নয় l কিন্তু যাঁরা ফুল ভালোবাসেন কিন্তু সেই জায়গা নেই ফুল গাছ করার কিন্তু ঘেরা ব্যালকনি আছে, যেখানে কোনো গাছকে ঝুলিয়ে রাখা যায় সহজে আবার সকালে তিন/চার ঘন্টা ভালো রোদ ও পায় সেখানকার জন্যে এক আদর্শ অর্কিড এর কথা বলতে যাচ্ছি l

 সেখানে এমন একটি অর্কিড আছে যা খুব সহজে করতে পারেন l অর্কিড এর নাম শুনে ঘাবড়াবেন না, এটি অর্কিড এর এমন এক প্রজাতি যাকে মেরে ফেলা খুব কঠিন যদি খুব নির্দয় না হন l ঠাট্টা করছি না দায়িত্ব নিয়ে বলছি l

একটি কথা বলে নিই এখানে, অর্কিড এর জগতে আমি একেবারেই নবীন, জানিনা খুব বেশী কিছু তবে যা জানি তার সবটাই বলবো l ভুল ত্রুটি থাকতেই পারে, অভিজ্ঞরা যদি শুধরে দেন খুশী হবো l

Dendrobium: অর্কিড এর যতগুলো প্রজাতি আছে তার মধ্যে এটিকে পালন করা খুব সহজ, আধমরা একটি ডাল থেকেও একটি গাছ বানানো যায় এক মাসের মধ্যে l

এর ছোটো চারা 100 টাকার মধ্যে পেয়ে যাবেন l এর বড় গাছ বেশী টাকা দিয়ে না কেনাই ভালো, ভেন্ডা, ক্যাটিলিয়া এগুলোর ক্ষেত্রে ব্যাপারটি উল্টো, ছোটো চারা আনলে পালন করতে গিয়ে ধৈর্য হারিয়ে ফেলবেন l 

আমার মতে ছোটো চারাকে প্লাস্টিকের তিন ইঞ্চি ফাঁকা ফাঁকা গেলাস টবে নারকোলের ছোবড়া দিয়ে লাগান গাছের বৃদ্ধি বজায় থাকবে এবং ছয় মাসের মধ্যে ফুল দেবে l 

বসাবেন কেমন করে টবের উচ্চতা থেকে সামান্য বেশী রেখে নারকোলের ছোবড়া গুলোকে এক ইঞ্চি চওড়া করে টুকরো করুন, জলে ভিজিয়ে রাখুন দিন দুয়েক তারপর বাইরের দিকের শক্ত চামড়া তুলে ফেলুন l তারপর হাইড্রোজেন peroxide 6% এ চুবিয়ে রাখুন এক ঘন্টা l
এরপর তুলে ওই ছোটো ছোটো টুকরোগুলোর চওড়া দিকটি উপরে রেখে চারার চার দিকে গোল করে বসান হাতের তালুতে রেখে, গোড়াটি একটু উঠে থাকবে, বসানো হলে ওটিকে টবে বসিয়ে দেখুন ঢিলে হচ্ছে কিনা যদি ঢিলে হয় আরো টুকরো বসান যতক্ষণ না ওটা টবে বসাতে জোরে চাপ দিতে হচ্ছে l প্রথম ফটোটি ভালো করে খেয়াল করবেন l

তারপর সরু সুতলি বা GI তার দিয়ে ওটাকে গ্রিল এর সঙ্গে ঝুলিয়ে দিন l ব্যাস হয়ে গেলো এবার শুধু পরিচর্যা, ওটা ভেন্ডার মতোই l

এই গাছকে সরাসরি রোদে রাখা যাবে তবে আধাবেলা আবার শেড নেট এর নিচে সারাদিন রাখা যায় যাতে সূর্যের আলো পাবে কিন্তু তাপ পাবে কম আর জায়গাটায় সবসময় মৃদুমন্দ হাওয়া বইলে আরো ভালো কারণ তাপ আরো কম পাবে l খুব বাতাস পায় এবং সকালের রোদ কিছুক্ষন পায় এমন বারান্দার গ্রিল এও ঝুলিয়ে দেওয়া যায় l

গাছে বৃষ্টির জল পড়ে এমন জায়গায় রাখা যাবে আবার POLYSHED এর নিচেও রাখা যাবে, তবে কেমন ভাবে রাখা আছে তার উপর বর্ষায় গাছে জল দেওয়া নির্ভর করবে, বাকি সময় প্রায় একই রকম I

এই গাছ যে পরিবেশ এ রাখা হয় তার সঙ্গে খুব সহজে মানিয়ে নেয় l খাবার সপ্তাহে একদিন 19:19:19 বা 20:20:20, 1 গ্রাম থেকে দু গ্রাম 1 লিটার জলে গুলে খুব সকালে গাছে স্প্রে করতে হবে, খাবার দেবার পাঁচ মিনিট আগে জল স্প্রে করে নিতে হবে l

মাসে একবার মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট স্প্রে আর ফুল আসার সময় 13:40:13/ 13:0:45 মাসে বার দুয়েক স্প্রে করা দরকার l

মাস ছয়েক এর মধ্যেই ওই টবের বাইরের দিকেও শেকড় ছড়িয়ে যাবে তখন ঝামা, ইট, কাঠ কয়লা দিয়ে মাটির ফাঁকা টবে potting করতে হবে বা একটি কাঠ যাতে মোটা গাছের ছাল লেগে আছে তাতে নারকোলের ছোবড়ার গুঁড়ো গুলো ছাড়িয়ে নিয়ে তা পাতলা করে দিয়ে বেঁধে দিতে হবে l এই গাছের শেকড়ে যত হওয়া বাতাস পাবে ততো ভালো থাকবে গাছ l

মাসে এক দিন humic acid বা merino স্প্রে করতে পারলে ভালো এবং একদিন kaka আর একদিন confider 15 দিনের ব্যবধানে স্প্রে করতে হবে l 

গাছকে কোনো একটা স্থায়ী জায়গায় ঝুলিয়ে রাখলে গাছ ভালো থাকবে, রোদ হাওয়া ভালো পেলে ফুলও ভালো দেবে l

মাসে একবার (বর্ষায় দুবার ) anti fungus স্প্রে করবেন, amister top/byabhistin l গাছকে ঝোলানো অবস্থায় জল দেবেন l

আমার গাছ বর্তমানে এমন জায়গায় আছে যেখানে বেলা এগারোটা অবধি রোদ পায় আবার বৃষ্টির জলের ছাট ও খুব ভালোই পায় l

আমি গত মার্চ মাসের 20 তারিখে কিছু ছোটো চারা বসিয়েছিলাম, সেগুলোতে স্টিক বেরোচ্ছে l

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ ছবিতে দেখা যাচ্ছে পেয়ারার ফলের ভেতরের অংশ কালো হয়ে পচে গেছে এবং...