∆ ধানের লক্ষ্মীর গু রোগ :
• রোগের লক্ষণ :
রোগ আক্রমণের শুরুর দিকে পুষ্পমঞ্জরী এবং পরে দানা আক্রান্ত হয়। শীষের প্রতিটি দানায় ১ সেমি. ব্যাসযুক্ত কমলা, মখমলের মতো ডিম্বাকৃতি পিণ্ড দেখা যায়। ক্রমশঃ এগুলো হলুদাভ-সবুজ বা সবুজাভ-কালো বর্ণ ধারণ করে। একেকটি শীষে গুটিকয়েক জীবাণু বল তৈরি হয়। গাছের অন্যান্য অংশ আক্রান্ত হয় না। সব ক্ষেত্রেই দানার ওজন এবং অঙ্কুরোদ্গম হার কম হয়।
• রোগ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ :
ভিল্লোসিক্লাভা ভাইরেন্স জীবাণু দ্বারা এ উপসর্গের সৃষ্টি হয়, যা ধানের বৃদ্ধির সকল পর্যায়ে হতে পারে, তবে ফুল আসার পরবর্তীতে ধানে দুধ আসার পর এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বেশি আপেক্ষিক আর্দ্রতা (> ৯০ শতাংশ), ঘন ঘন বৃষ্টি এবং ২৫-৩৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। মাটিতে অধিক নাইট্রোজেনের উপস্থিতিও এ রোগের প্রকোপ বাড়ায়। আগাম ধান চাষ করা জমিতে নামলা চাষ করা ক্ষেতের চেয়ে এ রোগ কিছুটা কম হয়। আক্রমণ মারাত্মক আকার ধারন করলে, ২৫% -এর বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভারতে ৭৫ % ক্ষতির রেকর্ড আছে।
• জৈবিক নিয়ন্ত্রণ :
৫২° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০ মিনিট ধরে বীজ শোধন করলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। শীষ ধরার কালে কপার সমন্বিত উপাদান (২.৫ গ্রাম/লি. জল) স্প্রে করলে ফলাফল ভাল হয়। কপার সমন্বিত উপাদান রোগ দেখার সাথে সাথে স্প্রে করলে রোগও কমে ফলনও কিছুটা বাড়ে।
• রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ :
সম্ভবমত সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বদা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করে তেমন ফলাফল আসে না। ধান গাছে ফুল আসার পূর্বে (৫০-১০০%) অ্যাজোক্সিস্ট্রবিন, প্রপিকোন্যাজোল, ক্লোরোথ্যানোনিল, অ্যাজোক্সিস্ট্রবিন + প্রপিকোন্যাজোল, ট্রাইফ্লোক্সিস্ট্রবিন + প্রপিকোন্যাজোল, ট্রাইফ্লোক্সিস্ট্রবিন + টেবুকোন্যাজোল প্রয়োগ করলে রোগ দমনের পাশাপাশি ফলনও কিছুটা বাড়ে। ভারতে এ রোগ দমনের জন্য অরিওফাঞ্জিন, কাপটান এবং ম্যানকোজেব প্রয়োগ করেও উল্লেখযোগ্য ফলাফল পাওয়া গেছে।
• প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা :
১) প্রত্যয়িত উৎস থেকে সুস্থ বীজ সংগ্রহ করে ব্যবহার করুন।
২) রোগ প্রতিরোধী সহনশীল ধানের জাত চাষ করুন।
৩) যদি সম্ভব হয় রোগ থেকে মারাত্মক ক্ষতি হওয়া এড়িয়ে যেতে আগেভাগেই চাষ করুন।
৪) লজমি সর্বদা প্লাবিত অবস্থায় না রেখে পর্যায়ক্রমে শুকনো ও প্লাবিত অবস্থা বজায় রাখুন।
৫) জমিতে পরিমিত হারে নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করুন এবং তা কয়েক ধাপে প্রয়োগ করুন।
৬) রোগের লক্ষণ দেখা যায় কিনা তা মাঠে তদারকি করুন।
৭) মাঠের আল ও সেচের নালা পরিষ্কার রাখুন।
৮) ধানের শীষ, বীজ, জমি আগাছা মুক্ত রাখুন এবং ধান কাটার পরে জমি থেকে সব আক্রান্ত অবশিষ্টাংশ নাড়া সরিয়ে ফেলুন।
৯) গভীর ভাবে চাষ করে এবং সূর্যের তাপে জমি শুকিয়ে এ রোগ পরের বছর অনেক কমানো যায়।
১০) যদি সম্ভব হয়, নিয়ন্ত্রিতভাবে জমি চাষ করুন এবং ক্রমাগত ধানের চাষ করুন।
১১) ২-৩ বছর পর পর অনাবাসী ফসল দ্বারা ফসল-চক্রের পরিকল্পনা করুন।