Wednesday, October 20, 2021

আলোচনা হোক ধানের লক্ষ্মীর গু রোগ নিয়ে - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

∆ ধানের লক্ষ্মীর গু রোগ :

• রোগের লক্ষণ :
              রোগ আক্রমণের শুরুর দিকে পুষ্পমঞ্জরী এবং পরে দানা আক্রান্ত হয়। শীষের প্রতিটি দানায় ১ সেমি. ব্যাসযুক্ত কমলা, মখমলের মতো ডিম্বাকৃতি পিণ্ড দেখা যায়। ক্রমশঃ এগুলো হলুদাভ-সবুজ বা সবুজাভ-কালো বর্ণ ধারণ করে। একেকটি শীষে গুটিকয়েক জীবাণু বল তৈরি হয়। গাছের অন্যান্য অংশ আক্রান্ত হয় না। সব ক্ষেত্রেই দানার ওজন এবং অঙ্কুরোদ্গম হার কম হয়।

• রোগ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ :
              ভিল্লোসিক্লাভা ভাইরেন্স জীবাণু দ্বারা এ উপসর্গের সৃষ্টি হয়, যা ধানের বৃদ্ধির সকল পর্যায়ে হতে পারে, তবে ফুল আসার পরবর্তীতে ধানে দুধ আসার পর এ রোগ ছড়িয়ে পড়ে। বেশি আপেক্ষিক আর্দ্রতা (> ৯০ শতাংশ), ঘন ঘন বৃষ্টি এবং ২৫-৩৫° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব ঘটে। মাটিতে অধিক নাইট্রোজেনের উপস্থিতিও এ রোগের প্রকোপ বাড়ায়। আগাম ধান চাষ করা জমিতে নামলা চাষ করা ক্ষেতের চেয়ে এ রোগ কিছুটা কম হয়। আক্রমণ মারাত্মক আকার ধারন করলে, ২৫% -এর বেশি ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। ভারতে ৭৫ % ক্ষতির রেকর্ড আছে।

• জৈবিক নিয়ন্ত্রণ :
             ৫২° সেলসিয়াস তাপমাত্রায় ১০ মিনিট ধরে বীজ শোধন করলে রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি কমে। শীষ ধরার কালে কপার সমন্বিত উপাদান (২.৫ গ্রাম/লি. জল) স্প্রে করলে ফলাফল ভাল হয়। কপার সমন্বিত উপাদান রোগ দেখার সাথে সাথে স্প্রে করলে রোগও কমে ফলনও কিছুটা বাড়ে।

• রাসায়নিক নিয়ন্ত্রণ :
            সম্ভবমত সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার আওতায় জৈবিক নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে সর্বদা প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিন। ছত্রাকনাশক দিয়ে বীজ শোধন করে তেমন ফলাফল আসে না। ধান গাছে ফুল আসার পূর্বে (৫০-১০০%) অ্যাজোক্সিস্ট্রবিন, প্রপিকোন্যাজোল, ক্লোরোথ্যানোনিল, অ্যাজোক্সিস্ট্রবিন + প্রপিকোন্যাজোল, ট্রাইফ্লোক্সিস্ট্রবিন + প্রপিকোন্যাজোল, ট্রাইফ্লোক্সিস্ট্রবিন + টেবুকোন্যাজোল প্রয়োগ করলে রোগ দমনের পাশাপাশি ফলনও কিছুটা বাড়ে। ভারতে এ রোগ দমনের জন্য অরিওফাঞ্জিন, কাপটান এবং ম্যানকোজেব প্রয়োগ করেও উল্লেখযোগ্য ফলাফল পাওয়া গেছে।

• প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা : 
          ১) প্রত্যয়িত উৎস থেকে সুস্থ বীজ সংগ্রহ করে ব্যবহার করুন।
          ২) রোগ প্রতিরোধী সহনশীল ধানের জাত চাষ করুন।
          ৩) যদি সম্ভব হয় রোগ থেকে মারাত্মক ক্ষতি হওয়া এড়িয়ে যেতে আগেভাগেই চাষ করুন।
          ৪) লজমি সর্বদা প্লাবিত অবস্থায় না রেখে পর্যায়ক্রমে শুকনো ও প্লাবিত অবস্থা বজায় রাখুন।
          ৫) জমিতে পরিমিত হারে নাইট্রোজেন সার ব্যবহার করুন এবং তা কয়েক ধাপে প্রয়োগ করুন।
          ৬) রোগের লক্ষণ দেখা যায় কিনা তা মাঠে তদারকি করুন।
          ৭) মাঠের আল ও সেচের নালা পরিষ্কার রাখুন।
          ৮) ধানের শীষ, বীজ, জমি আগাছা মুক্ত রাখুন এবং ধান কাটার পরে জমি থেকে সব আক্রান্ত অবশিষ্টাংশ নাড়া সরিয়ে ফেলুন।
          ৯) গভীর ভাবে চাষ করে এবং সূর্যের তাপে জমি শুকিয়ে এ রোগ পরের বছর অনেক কমানো যায়।
          ১০) যদি সম্ভব হয়, নিয়ন্ত্রিতভাবে জমি চাষ করুন এবং ক্রমাগত ধানের চাষ করুন।
          ১১) ২-৩ বছর পর পর অনাবাসী ফসল দ্বারা ফসল-চক্রের পরিকল্পনা করুন।

Saturday, October 9, 2021

ছত্রাক ও ভাইরাস নাশক ঔষধ তৈরির পদ্ধতি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি


ছত্রাকনাশক এবং ভাইরাস নাশক দ্রবণ 

আমরা চাষ করতে গিয়ে যেকোন সবজি তে একটি বড় সমস্যার সন্মুখীন হই সেটি হল ছত্রাক এবং ভাইরাস এর জন্যে এবং জৈব উপায়ে কিভাবে তা দমন করব তা নিয়ে চিন্তিত থাকি , যে জৈব ভাবে সর কিটবিতারক তো ব্যাবহার করছি কিন্তু ফসলে ছত্রাকনাশক এবং ভাইরাস দূর করব কি করে তা আজকে আমরা জানব –

একটি হিসেব বলছি এক একর বা ৩ বিঘা জমির জন্যে আপনার আপনাদের প্রয়োজন অনুসারে আনুপাতিক হার মিলিয়ে করে নিবেন,

উপকরন

জল ২০০ লিটার
টক দই ৫ লিটার (৪-৫) দিনের পুরোনো 

প্রস্তুতি ও ব্যাবহার

উপরক্ত দুটি জিনিসকে এক সঙ্গে ভাল করে মিশয়ে নিয়ে এক একর বা ৩ বিঘা জমিতে স্প্রে করা যেতে পারে

উপকারিতা

যে কোন ফসলের ছত্রাক এবং ভাইরাস দমনের জন্যে এই মিশ্রণ ব্যাবহার করতে পারেন , এটি পেপে গাছের একটি বড় সমস্যা লিফকার্ল এবং মোজাইক ভাইরাস আক্রমণের কারণে প্রায় ৭০% জমি নষ্ট হয়ে যায় এবং রাসায়নিক ভাবে কন্ট্রোল করা সমস্যা কন্ট্রোল করা যায় না কিন্তু নিমস্তর / অগ্নি অস্ত্র প্রয়োগ এবং পরে ঐ দ্রবণ ৭ দিন পর পর প্রয়োগ করলে ৩ বার দিলেই পেপের এই রোগ দমন করা সম্ভব হয়।

আপনার প্রয়োগ করে দেখুন ভাল ফলাফল পাবেন , পোস্ট টি লাইক শেয়ার করতে ভুলবেন না , আমরা আরও মানুষের কাছে পৌছতে চাই এবং তাদের সমস্যা সমাধান করতে চাই।

বীজ শোধনের ঘরোয়া পদ্ধতি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি


বিজামৃত যা জৈব পদ্ধতিতে বীজ শোধনের সবচেয়ে উত্তম উপকরন

আজ আপনাদের বিভিন্ন জৈব সার এবং কীটবিতারক প্রস্তুতি কিভাবে করতে হয় সে তথ্য দেবার চেষ্টা করেছি,
আজকে আমরা জনবো কি করে জৈব উপায়ে বীজ শোধন করতে হয়, বীজ শোধন করাটা খুব জরুরী বিষয় কারণ বীজ যদি জীবাণু মুক্ত না হয় তাহলে সেখান থেকে রোগ জমিতে গিয়ে বড় আকার ধরণ করে এবং অসানুরূপ ফলন হয় না চাষের ক্ষতি হয় এবং তা নিয়ন্ত্রণের জন্যে বিভিন্ন ভাবে টাকা খরচ হয়, আসুন তাহলে জেনে নেই এর পদ্ধতি।

প্রয়োজনীয় উপকরণ

১০০ কেজি বীজ শোধনের হিসেবে যা যা লাগবে তা আপনাদের আমরা জানাচ্ছি, কিন্তু আপনাদের প্রয়োজন অনুযায়ী আপনারা অনুপাত ঠিক করে নেবেন,
১. জল ২০ লিটার 
২. দেশী গোমুত্র ৫ লিটার 
৩. দেশী গোবর ৫ কেজি 
৪. চুন ৫০ গ্রাম 
৫. বট পাকুর গাছের গোড়ার মাটি ৫০ গ্রাম 

মিশ্রণ তৈরি

উপরোক্ত সব কিছুকে এক সঙ্গে মিশিয়ে নিন, নিয়ে ড্রামে ঢেলে ভাল করে গুলে নিয়ে একটি ছায়া জায়গায় ২৪ ঘণ্টা রেখে দিন এবং এই ২৪ ঘণ্টায় দুবার ১ মিনিট করে মিশ্রণটিকে একটি লাঠি দিয়ে নাড়িয়ে দিতে হবে, ২৪ ঘণ্টা পর মিশ্রণটি ব্যাবহার করার যোগ্য হয়ে যাবে।

ব্যাবহার 

বীজ লাগানোর ২৪ ঘণ্টা আগে বিজামৃত দিয়ে দিয়ে ভিজিয়ে রেখে শোধন করতে হবে

উপকারিতা

শোধনের ফলে বীজে থাকা রোগ জীবাণু নষ্ট হবে যেমন তেমনি বীজএর অঙ্কুরোদগমও ভাল হবে। সেই সঙ্গে চারা লাগানোর  পূর্বে  চারার গোড়া ৫ মিনিট ভিজিয়ে শোধন করে লাগলেও উপকার পাওয়া যায়।

Saturday, October 2, 2021

মাটির পিএইচ বলতে আমরা কি বুঝি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি


মাটির পিএইচ (pH) বলতে কী বুঝি? চাষের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব কী? 
সহজভাবে বললে, পি.এইচ, হল অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের মাপ। অম্লত্ব কী? সহজ বাংলায় বলতে গেলে, ‘টোকো’ ভাব। ক্ষারত্ব কী? চুন সোডা সাবান, জাতীয় জিনিসের যে চরিত্র থাকে, সেই চরিত্র বা ভাব। কোনো কিছুর পি.এইচ. বলতে বোঝায় সেই বস্তুর অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের মাত্রা। এই মাপটি করা হয় ০ থেকে ১৪ সংখ্যা ব্যবহার করে। সংখ্যা ৭-এর কম হলে বস্তুর অম্লত্ব নির্দেশ করে (অর্থাৎ বস্তুটিতে ‘টোকো’ ভাব বেশি আছে), আর সংখ্যা ৭-এর বেশি হলে বস্তুর ক্ষারত্ব নির্দেশ করে। অর্থাৎ অম্লত্ব যত বাড়বে, সংখ্যা ৭এর তত কম হবে। আর ক্ষারত্ব যত বাড়বে, সংখ্যা ৭-এর তত বেশি হবে। ঠিক ৭ হলে বুঝতে হবে তা অনুও নয়, কারও নয়। বিশুদ্ধ জলের পি.এইচ. ৭। তবে প্রকৃতিতে জল একদম বিশুদ্ধ পাওয়া যায় না, তাই ভালো জলের-ও পি.এইচ.-ও ৭-এর অল্প একটু এদিক ওদিক হতে পারে।
যে কোনাে চাষের ক্ষেত্রেই, অম্লত্ব বা ক্ষারত্বের গুরুত্ব রয়েছে। মাটি বেশি অম্ল বা বেশি ক্ষার হয়ে গেলে চাষ ভালো হবে না। দেখা গেছে যে প্রায় সব উদ্ভিদের ক্ষেত্রেই মাটির পি.এইচ, ৫.৫ থেকে ৮-এর মধ্যে থাকতে হবে। তবে এক একটি উদ্ভিদের ক্ষেত্রে সংখ্যাগুলা এক এক রকম হবে। যেমন ধানের ক্ষেত্রে পি.এইচ. ৫.৫ থেকে ৬.৫-এর মধ্যে থাকলে ভাল, গমের ক্ষেত্রেও তাই। বাঁধাকপির ক্ষেত্রে ৫.৬ থেকে ৬.৬ থাকলে ভাল হয়, আর ফুলকপির ক্ষেত্রে ৬ থেকে ৭। তবে দেশীয় প্রজাতি বা হাইব্রিড প্রজাতির ক্ষেত্রে অল্প তারতম্য হতে পারে। পি.এইচ. মিটার দিয়ে মাপা যেতে পারে।
মাটির ক্ষেত্রে যা সত্যি, জলের ক্ষেত্রেও তাই। মাছ চাষের জন্যেও জলের পি.এইচ. মাপা দরকার। সাধারণভাবে মাছ চাষের জন্য জলের পি.এইচ. ৭.৫ থেকে ৮.৫-এর মধ্যে থাকলে ভাল হয়।
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পি.এইচ. কমে যাওয়ার (মানে অম্লত্ব বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা হয়। তখন চুন দিয়ে অম্লত্ব কমানাের (অর্থাৎ পি.এইচ. বাড়ানর দরকার হয় )
এখন সব জেলাতে কৃষিবিজ্ঞান কেন্দ্র গুলোতে এবং জেলা মাটি পরিখ্যা কেন্দ্রে বিনা মূল্যে মাটি পরীক্ষা হচ্ছে আপনাদের ধান ফসল উঠে যাওয়ার পর কিছু চাষের পূর্বে কি চাষ করবেন তা নির্ধারণ করে মাটি পরীক্ষা করিয়ে আনবেন।

Friday, September 17, 2021

কমলার চাষ করুন সহজেই - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

কমলার চাষ

যথেষ্ট বৃষ্টিপাত হয় এমন আর্দ্র ও উঁচু পাহাড়ি অঞ্চলে কমলার চাষ ভালো হয়। উঁচু, উর্বর, গভীর সুনিষ্কাশিত এবং মৃদু অম্লভাবাপন্ন বেলে দোআঁশ মাটিতে ভালো হয়। প্রখর সূর্যকিরণ ও উচ্চ তাপমাত্রায় গাছের বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। বছরে দেড়শ থেকে আড়াইশ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত, ২৫ থেকে ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস গড় তাপমাত্রা এবং আংশিক ছায়াযুক্ত স্থান এর জন্য উপযোগী। মাটির অম্ল-ক্ষারত্বের মান ৫.৫ থেকে ৬.০।

জাত
খাসিয়া ও বারি-১

বংশবিস্তার
বীজ থেকে জাইগোটিক চারা দুর্বল, মাতৃগাছের গুণাগুণ বজায় থাকে না, ফল ধরতে ৪-৫ বছর লাগে। বহু ভ্রণিতা (বীজ) নিউসেলার কোষ থেকে এক বা একাধিক চারা হয়। চারাগুলো সবল ও মাতৃগাছের গুণাগুণ বজায় থাকে। ভাইরাস মুক্ত হয়। ফল ধরতে ৪-৫ বছর লাগে।

অঙ্গজ
ভিনিয়ার/ক্লেফট গ্রাফটিং এবং টি-বাডিং চারা থেকে ২-৩ বছরের মধ্যেই ফল আসে।

চারা রোপণের সময়
বর্ষার শুরুতে অর্থাৎ মে-জুন মাসে চারা রোপণ করতে হয়। তবে সেচের সুবিধা থাকলে যে কোনো সময় চারা রোপণ করা যায়।

মাদা তৈরি ও রোপণ
সমতল জমিতে বর্গাকার, আয়তকার এবং পাহাড়ি জমিতে কন্টুর পদ্ধতিতে মাদা তৈরি করে চারা রোপণ করতে হবে। ৪ মিটার × ৪ মিটার দূরত্বে রোপণ করা যায়। মাদার গর্তের আকার ৬০×৬০×৬০ সেন্টিমিটার। প্রতি মাদায় ১০ কেজি গোবর, ২০০ গ্রাম করে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি এবং ৫০০ গ্রাম চুন দিতে হবে। চারা রোপণের ১৫ থেকে ২০ দিন আগে সার প্রয়োগ করতে হবে।

সেচ
খরা মৌসুমে বয়স্ক গাছে ২ থেকে ৩টি সেচ দিতে হবে। ফল পরিপক্ব হওয়ার সময় সেচ দিলে আকারে বড় ও রসযুক্ত হয়। গাছের গোড়ায় জল জমলে মাটিবাহিত রোগ হতে পারে।

 পরিচর্যা
আগাছা গাছের বেশ ক্ষতি করে। এছাড়া গাছের শিকড়গুলো মাটির উপরিস্তরে থাকে সেজন্য গভীরভাবে নিড়ানি না দেয়া ভালো। গাছ লাগানোর পর ফল ধরার আগ পর্যন্ত ধীরে ধীরে ডাল ছেঁটে গাছকে নির্দিষ্ট আকারে রাখতে হবে। ডাল ছাঁটাইয়ের পর কাটা অংশে বর্দোপেস্ট দিতে হবে। দুটি পাত্রে ৭০ গ্রাম তুঁতে ও ১৪০ গ্রাম চুন আলাদাভাবে মিশ্রণ করে এক লিটার জলের সঙ্গে মিশিয়ে বুর্দোপেস্ট তৈরি করতে হবে।

ফল সংগ্রহ ও ফলন
কমলা পরিপক্ব হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রঙ বদলাতে শুরু করে। ভালোভাবে পাকার পর ফল সংগ্রহ করলে মিষ্টি হয়। পূর্ণ বয়স্ক কমলাগাছ প্রতি বছর গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টি ফল দেয়। বেশি বয়স্ক গাছ এক হাজার থেকে দেড় হাজার ফল দিতে পারে। একটি গাছ সাধারণত ৫০ থেকে ৭০ বছর পর্যন্ত ফল দিয়ে থাকে।

Friday, September 10, 2021

গ্লাডিওলাস চাষের খুঁটিনাটি - অঙ্গন আমার প্রকৃতি


ডালিয়া একটি সর্বজন প্রিয় ফুল।
এর বৈজ্ঞানিক নাম Dahlia Variailis
ডালিয়া কম্পোজিটি পরিবারভুক্ত।
সুইডেনের উদ্ভিদতত্ত্ববিদ আন্দ্রিয়াস গুস্তাভ ডাল নিজের নামের অনুকরণে ফুলের নাম রাখেন ডালিয়া।

শ্রেণিবিভাগ ও জাত:
ডালিয়ার ১১টি শ্রেণীর আওতায় এর প্রচুর জাত রয়েছে।

ডালিয়ার উন্নত জাতের মধ্যে রয়েছে সিঙ্গল, 
, কলারেট, ফরমাল ডেকোরেটিভ, ইন ফরমাল ডেকোরেটিভ, ডবল শো ফ্যান্সি, পম্পন, ক্যাকটাস, ভ্যারাইটি গার্ল প্রভৃতি।

ভিডিওটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন 👇

মাটি ও জলবায়ু:
সুনিষ্কাশিত উর্বর দোআঁশ মাটি বা বেলে দোআঁশ প্রকৃতির মাটি ডালিয়া চাষের জন্য উত্তম। ছায়াযুক্ত স্থানে গাছ দুর্বল ও লম্বা হয়, ফুল কম ও ছোট হয় এবং রঙের ঔজ্জ্বল্য হ্রাস পায়। ফলে পর্যাপ্ত সূর্যালোক পায় এমন জমিতে ডালিয়ার চাষ করতে হবে। ডালিয়া চাষে আবহাওয়া অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। যে দিন বৃষ্টি হবে সে দিন থেকে যত দিন পর্যন্ত মাটি স্যাঁতসেঁতে থাকবে তত দিন জল দেয়ার দরকার নেই। আবার গরমের সময়ে মাটি যখন শুকনো হয়ে ওঠে তখন জলর পরিমাণ বাড়িয়ে মাটি আর্দ্র করে তুলতে হবে। বৃষ্টির সময়ে গাছের ওপর ছাউনি দিতে পারলে ভালো কিংবা কোনো ছাউনির নিচে রাখলে গাছ নিরাপদে থাকবে। টবের গাছের ক্ষেত্রে প্রতিদিন নিয়ম করে জল দিয়ে মাটিকে আর্দ্র রাখা উচিত।

বংশ বিস্তার:
ডালিয়া বীজ, মূলজ কন্দ, ডাল কলম এর সাহায্যে বংশ বিস্তার করা হয়। ডালিয়াগাছের গোড়ায় জন্মানো মূলজ কন্দ পরবর্তী বছর চারা তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়। ফাল্গুন-চৈত্র মাসে ফুল শেষে গাছ নিস্তেজ হয়ে পাতা ও ডাঁটা শুকিয়ে আসলে কন্দ পরিপক্ব ও সংগ্রহের উপযোগী হয়। মাটির নিচ থেকে কন্দ তুলে দু-এক দিন বাতাসে শুকিয়ে আলুর মতো কন্দকে শুষ্ক বালুতে সংরণ করতে হয়। অতঃপর ভাদ্র-আশ্বিন মাসে কন্দগুলোকে অর্ধেক মাটি ও অর্ধেক বালু মিশ্রিত বীজতলা বা টবে রোপণ করে সামান্য জল সিঞ্চন করলে কয়েক দিনের মধ্যে কন্দের চোখ থেকে নতুন চারা বের হয়। চারা দুই থেকে পাঁচ সেন্টিমিটার লম্বা হলে মূলজ কন্দটিকে চারাসহ কেটে টুকরো করে নির্ধারিত জমিতে বা টবে রোপণ করা যায়। অপর দিকে আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ মাসে ডালিয়ার ডাল কলম করা যায়। এ সময়ে মূলজ কন্দে জন্মানো কচি চারা বা ডাল থেকে গিটসহ কেটে বা ভেঙে নিতে হয়। তা ছাড়া পুষ্ট কন্দ বা কাণ্ডের পাশে জন্মানো ১৫-২০ সেন্টিমিটার লম্বা পুষ্ট ডাল ও গিট গুলোকে সংগ্রহ করা হয়।

ভিডিওটি দেখতে নিচের লিংকে ক্লিক করুন 👇

সার প্রয়োগ:
পশ্চিমবঙ্গের পরিবেশে আশ্বিন থেকে অগ্রহায়ণ পর্যন্ত সময়ে জমিতে কিংবা টবে ডালিয়ার চারা রোপণ করা যায়। ডালিয়ার মাটি গভীরভাবে নরম ও ঝুরঝুরে  করে তৈরি করতে হয়। প্রতি ১০০ বর্গ মিটার জমিতে ২০০ কেজি গোবর, তিন কেজি কাঠের ছাই ও দুই কেজি আরেকটি ফসফেট সার টিএসপি মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হয়। ভারী মাটিতে গোবরের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া উত্তম। টবে ডালিয়া চাষের জন্য ২ ভাগ দোআঁশ মাটি, ২ ভাগ বালি, ২ ভাগ কাঠের ছাই, ১ ভাগ পাতা পচা সার, ১ ভাগ গোবর, ১ ভাগ খৈল ও ১ ভাগ টি এস পি সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে।

প্রধান শুধু নাইট্রোজেনযুক্ত সার হলো এমোনিয়াম নাইট্রেট (NH4NO3)। ... প্রধান ফসফেট সার হলো সুপারফসফেট। এসএসপি ১৪-১৮% P2O5 বহন করে। আরেকটি ফসফেট সার হলো টিএসপি যা প্রায় ৪৪-৪৮% P2O5 বহন করে।

চারা রোপণ ও পরিচর্যা:
ডালিয়া চাষের জমিতে জাত ভেদে ৬০ থেকে ৯০ সেন্টিমিটার দূরত্বে সারিবদ্ধভাবে আর প্রতি টবে একটি চারা রোপণ করতে হয়। টবের আকার ২৫ সেন্টিমিটার হলে ভালো হয়। চারা লাগানোর পর থেকে গাছে এমনভাবে সেচ দিতে হয় যাতে কখনো জলর ঘাটতি না পড়ে ও জলাবদ্ধতা দেখা না দেয়। ডালিয়া গাছে সাধারণ রেড স্পাইডার ও রেড মাইভ ধরনের পোকা হয়। এই পোকা থেকে রেহাই পাওয়ার উপায় হলো প্রতি সপ্তাহে নিয়ম করে ক্যালিথিন বা নোবাকন নামে ওষুধের ২০ ফোঁটা এক লিটার জলে ভালো করে গুলিয়ে সেই মিশ্রণটি ঝারির সাহায্যে গাছগুলোকে ভিজিয়ে দিতে হবে, তাহলেই এ ধরনের পোকার আক্রমণ থেকে গাছকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।

Wednesday, April 21, 2021

পাকচং ১ ও নেপিয়ার হাইব্রিড ঘাসের কাটিং/মুথা ঘাসের চাষ - অঙ্গন আমার প্রকৃতি


২১ এপ্রিল, বুধবার: পাকচং ১ ও নেপিয়ার হাইব্রিড ঘাসের কাটিং/মুথা ঘাস হলো গবাদিপশুর প্রধান খাদ্য ঘাস। পুষ্টিকর ঘাসে দেহ গঠনকারী আমিষ উপাদানসহ প্রায় সর্বপ্রকার উপাদন মজুদ থাকে। উন্নতজাতের অধিক ফলনশীল ঘাসের মধ্যে নেপিয়ার উল্লেখযোগ্য। খাদ্যমান বেশি থাকায় গবাদিপশুর জন্য এ ঘাস বেশ উপাদেয় ও পুষ্টিকর। আসুন জেনে নিই উন্নতজাতের অধিক ফলনশীল পাকচং ১ ও নেপিয়ার হাইব্রিড  ঘাসের চাষ পদ্ধতি। 
এ ঘাস চাষের জন্য জমিতে ৪-৫টি চাষ দিতে হয় এবং মই দিয়ে আগাছামুক্ত করার পর রোপণ করতে হয়।
মাটিতে রস না থাকলে চারা লাগানোর পর পানি সেচের ব্যবস্থা করতে হবে। সাধারণত প্রতি বিঘা জমি রোপণের জন্য ৬ হাজার মুথা চারা/কাটিং  প্রয়োজন।

মুথা চারা/ কাটিং লাগানোর প্রথম অবস্থায় ৫০-৬০ দিনে ঘাস কাটতে পারবেন। পরবর্তীতে ২৫-৩০ দিনে ঘাস কাটার উপযোগী হয় ।
নেপিয়ার ঘাসের ক্রুড প্রোটিনের পরিমাণ  15.93 % ।
জমি প্রস্তুতের সময় : ১.৫০-২.০০ টন গোবর প্রতি একরে মাটির সাথে মিশিয়ে দিতে হবে। এ ছাড়া রাসায়নিক সারের মধ্যে ইউরিয়া, টিএসপি ও এমওপি সার ব্যবহার করা হয়।

নানা ধরনের ক্রোটন চাষ, কীভাবে পরিচর্যা করবেন - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

নানা ধরনের ক্রোটন (Croton) – পরিচিতি, লাগানোর পদ্ধতি ও ব্যবহার ক্রোটন (Codiaeum variegatum) একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় শোভাবর্ধক পাতা...