Friday, October 30, 2020

লিচু চাষীদের জন্য কিছু পরামর্শ- অঙ্গন আমার প্রকৃতি

৩১ অক্টোবর, ড. কল্যাণ চক্রবর্তী: পশ্চিমবঙ্গে মার্চের শেষ থেকে শুরু করে এপ্রিল লিচুর ক্ষেত্রে গুটির বিকাশ দশা অর্থাৎ Fruit Development Stage। লিচুর ফল অনেকটা ক্ষুদ্র লবঙ্গের মত ধরে মুকুলের গুছিতে মার্চের শেষে, তা ক্রমাগত বড় হতে থাকে। লিচুর ফলন বাড়াতে প্রধানত দু'টি কাজ করা আবশ্যিক। 
প্রথম, লিচুর লবঙ্গ-দশায় গুটি ঝরে যাওয়া ঠেকাতে হরমোন সিঞ্চন। এজন্য এনএএ (NAA) ২০ পিপিএম হারে অথবা প্ল্যানোফিক্স প্রতি দশ লিটার জলে চার মিলিলিটার হারে মিশিয়ে স্প্রে করতে হবে। দ্বিতীয়, লিচু বাগিচায় সুষম আর্দ্রতা ধরে রাখতে নিয়মিত হাল্কা সেচ দিতে হবে। 
লিচুর সুরক্ষার জন্য এইসময় থায়াক্লোপ্রিড (Thiacloprid) ২১.৭ এস সি প্রতি লিটার জলে ০.৭৫ মিলিলিটার গুলে অথবা নোভালিউরন (Novaluron) ১০ ই সি প্রতি লিটার জলে ১.৫ মিলিলিটার অথবা এমামেক্টিন বেঞ্জোয়েট (Emamectin Benzoate) ৫% এস সি প্রতি লিটার জলে ০.৫ মিলিলিটার মিশিয়ে স্প্রে করা যেতে পারে।

এবার গাছের বৃদ্ধি হবে গাছের রসেই - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

ওয়েব ডেস্ক, ৩০ অক্টোবর: যখন আমাদের উদ্যানগুলিতে উদ্ভিদগুলি সঠিক সময়ে ফুল ফোটেনা বা ফল দেয় না, তখন আমাদের বেশিরভাগই গাছের বৃদ্ধি বা ফলনের জন্য হরমোনের অবলম্বন করতে হয়। তাই কৃষকরা দোকান থেকেই সেই হরমোন ক্রয় করেন, কিন্তু সেই কেনা গ্রোথ হরমোন গুলোতে জৈব চাষের পদ্ধতির বিপরীতে রাসায়নিক পদার্থই থাকে প্রচুর পরিমাণে। তাই জৈব চাষের প্রসার ঘটাতে জৈব পদ্ধতিই অবলম্বন করা শ্রেয়। তাই আজ আপনাদের জানাবো উদ্ভিদ এর বৃদ্ধি বা ফুল ফলের প্রাকৃতিক গ্ৰোথ হরমোন তৈরির পদ্ধতি নিয়ে। ড্রামস্টিক বা সজিনা গাছের পাতা থেকে প্রাকৃতিক হরমোন। এই সজিনা পাতার রস একটি প্রাকৃতিক গ্ৰোথ হরমোন হিসেবে কার্যকর ভুমিকা রয়েছে সারা বিশ্বব্যাপী।
তৈরির পদ্ধতি:
-- হরমোন তৈরিতে, ৩০-৪০ দিন বয়সি সজিনা পাতা (ডালের নরম পাতা) জোগাড় করতে হবে। 
-- পরিমাণ মতো নিয়ে এবার এই পাতা গুলিকে ভালো করে ধুয়ে ব্লেন্ডারে একটু জল মিশিয়ে পেস্ট তৈরি করে নিতে হবে।
-- একটি সুতির কাপড় বা চালুনি ব্যবহার করে রস ফিল্টার করুন।
-- পেস্ট তৈরি হলে ২০ গুন জল মিশিয়ে পাতলা করে নিতে হবে।
ব্যবহার:
প্রতি একটি গাছের জন্য ১০ মিলি পরিমানে নিয়ে জলে গুলে গাছে স্প্রে করতে হবে।
হরমোনটি কোমল ফসলে প্রয়োগ করা হলে এতে 30 গুণ বেশি জল যোগ করুন।
হরমোনটি ফসলের পাতায় স্প্রেয়ার ব্যবহার করে স্প্রে করে দিতে হবে।
এই হরমোনটি বীজ অঙ্কুরিত হওয়ার 10 দিন পরে, শাকসবজি সহ অনেক ফসলে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
এক মাস পরে এর ফলস্বরূপ ফলগুলি গঠন শুরু করলে ছিটিয়ে দেওয়া যেতে পারে।
ড্রামস্টিক পাতার গ্রোথ হরমোন তৈরির ৫ ঘন্টার মধ্যে প্রয়োগ করা ভাল। হরমোনটি পরে ব্যবহার করার জন্য ফ্রিজে রাখা যেতে পারে। এই দ্রবণটি খামার এবং গ্রিনহাউসে ফসলের ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।
এই হরমোনটি বীজ ফোটানোর গতি বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং এর বৃদ্ধি বাড়াতে পারে।
উপকারীতা:
১. ছোট্ট গাছের বৃদ্ধি দ্রুত হয়।
২. অধিক হারে শিকড়, ডালপালা, ও পাতা বৃদ্ধি করে।
৩. গাছ কে দৃঢ় করে।
৪. গাছের জীবন কাল বৃদ্ধি করে।
৫. ফল গাছে ফলের আকার বৃদ্ধি করে, ফলের সংখ্যা বৃদ্ধি করে।

Monday, October 19, 2020

বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদের উপকারিতা ও বানানোর কৌশল - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনে ফেরোমন ফাঁদ :
বেগুনের ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণে বেগুনের উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়। বর্তমানে সেক্স ফেরোমনভিত্তিক আইপিএম (IPM) পদ্ধতি ব্যবহার করে এ পোকার আক্রমণ রোধ করা সম্ভব হচ্ছে।

ফাঁদ তৈরির পদ্ধতি :
ফেরোমন ফাঁদ তৈরি ও স্থাপন পদ্ধতি কোণাকৃতি বা গোলাকার একটি প্লাস্টিক পাত্র দিয়ে এই ফাঁদ তৈরি করা হয়। পাত্রের উভয়দিকে ত্রিভুজাকারে কেটে ফেলতে হবে। পাত্রের তলা হতে কাটা অংশের নিচের দিক কমপক্ষে ৪-৫ সেমি. উঁচু হওয়া বাঞ্ছনীয়। প্লাস্টিক পাত্রের মুখ থেকে সেক্স ফেরোমন টোপটি (একটি স্বচ্ছ প্লাস্টিক টিউব) একটি সরু তার দিয়ে এমনভাবে ঝুলিয়ে রাখতে হবে যেন টিউবটি সাবান মিশ্রিত জল থেকে মাত্র ২-৩ সেমি. উপরে থাকে। সেক্স ফেরোমনে গন্ধে আক্রষ্ট হয়ে পুরুষ মথ ফাঁদের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে ও সাবান জলে পড়ে আটকে যায় এবং পরবর্তীতে মারা পড়ে। সেক্স ফেরোমনে ভরা প্লাস্টিক টিউবটির মুখ সব সময়ই বন্ধ রাখতে হবে।

ফাঁদ স্থাপনের সময় :
ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারের সময় বেগুনের জমিতে ডগা ও ফল ছিদ্রকারী পোকা দমনের জন্য চারা লাগানোর ১০-১৫ দিন থেকে ফেরোমোন ফাঁদ স্থাপন কতে হবে।

স্থাপন করার পদ্ধতি :
জমির আল থেকে ৫ মিটার ভেতরে প্রতি ১০ মিটার দূরে দূরে বর্গাকারে ফেরোমন ফাঁদ স্থাপন করতে হবে। সাধারণত ২টি খুঁটি দৃঢ়ভাবে স্থাপন করে তার মাঝে টোপ বা লিউরসহ ফাঁদটি বসিয়ে রশি বা গুনা দিয়ে খুটির সাথে শক্ত করে বেঁধে দিতে হবে। প্রতি ২.৫-৩ শতাংশ জমির জন্য ১টি ফাঁদ ব্যবহার করা উচিত। একটি টোপ ৪৫-৫০ দিনের জন্য প্রযোজ্য অর্থাৎ পুরো মৌসুমের জন্য ২টি টোপ ব্যবহার করতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে যে পাত্রের তলায় রক্ষিত সাবান জল যেন কোন কারণে শুকিয়ে না যায়। প্রতি ৪-৫ দিন অন্তর অন্তর ফাঁদের সাবান মিশ্রিত জল পোকাসহ পরিষ্কার ও পরিবর্তন করতে হবে। ফেরোমন টোপগুলো অ্যালমুনিয়াম প্যাকেটের মধ্যে রক্ষিত থাকে এবং এ অবস্থায় ১-২ মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করা যায়। তবে অ্যালমুনিয়াম প্যাকেট থেকে টোপগুলো বের করার সাথে সাথে মাঠে প্রয়োগ করতে হবে। দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণের জন্য অবশ্যই রেফ্রিজিরেটরে সংরক্ষণ করতে হবে।

ফাঁদ স্থাপনের পরে করণীয় :
প্রতি ২-৩ দিন পর পর ফাঁদ পর্যবেক্ষণ করতে হবে। ফাঁদের মধ্যে মারা যাওয়া পোকা সরিয়ে ফেলতে হবে। ফাঁদের জল শুকিয়ে গেলে পুনরায় সাবান/কাপড় কাচার পাউডার মিশ্রিত জল দিতে হবে। গাছের উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে ফাঁদটিকে উপরের দিকে তুলে দিতে হবে। বেগুনের ক্ষেত্রে প্রতি দেড় থেকে দুই মাস পরপর টোপ বা/লিউর পরিবর্তন করে নতুন টোপ/লিউর ফাঁদ পুনঃস্থাপন করতে হবে।

Friday, October 16, 2020

আয়ুর্বেদিক গাছ ঘৃতকুমারী অর্থাৎ এলোভেরার গুণ - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

একটি বহু উপকারী আয়ুর্বেদিক গাছ  ঘৃতকুমারী  অর্থাৎ  এলোভেরা ।বর্তমান সময়ে টিভিতে এলোভেরার বিভিন্ন দ্রব্য আমরা দেখে থাকি।
কিন্তু বাড়িতে বসেই সামান্য খরচে এলোভেরা লাগিয়ে রাসায়নিক ছাড়া বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরি করা সম্ভব।
এবার জেনে নিই এলোভেরার উপকারিতা 
বর্তমানে আমাদের অনেকেরই বাড়িতে এলোভেরা গাছ টবে লাগানো থাকে।কিন্তু আমরা এর উপকারিতা সম্বন্ধে অজ্ঞাত। এবার আপনাদের জানাবো অ্যালোভেরার উপকারিতা। ঘৃতকুমারী যা আমরা অনেকে এলোভেরা বলে থাকি। এই উদ্ভিদ হৃদযন্ত্র,স্নায়ুতন্ত্র,মুখের ঘা,পেটের সমস্যা,রূপ-সৌন্দর্য তৈরি করতে ও আরো বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন এক গ্লাস করে এলোভেরা পাতার নির্যাসের শরবত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। অনেক সময় অ্যালোভেরা পাতার নির্যাসের শরবত রাস্তাঘাটে বিক্রি করতে দেখা যায় কিন্তু এই গুলি খাওয়া উচিত নয় এর থেকে ভালো আপনি ঘরে বসে বানান।

1. এলোভেরা পাতার নির্যাস এর সাথে জল মিশ্রিত করে শরবত বানিয়ে যদি আপনি নিয়মিত পান করেন তাহলে  আপনার হৃদযন্ত্র এবং স্নায়ুতন্ত্র ঠিক থাকবে।
2. মুখে ঘা,পেটের সমস্যায় অ্যালোভেরা পাতার নির্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
3. মুখে ঘা বা জিভে ঘা হলে অ্যালোভেরা পাতা দুদিকের পাতলা স্তরটি তুলে দিয়ে মুখের ভিতরে রাখলে ঘা সেরে যাবে।
4. এলোভেরা পাতার নির্যাস বের করে মুখে লাগালে মুখের চামড়ার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
5. গ্যাস্ট্রিক আলসার প্রভূতি থেকে উপশমের জন্য এলোভেরা পাতার রস খুবই উপকারী।
6. প্রচণ্ড গরমে এলোভেরার পাতার রস সরবত করে খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে।
7. এলোভেরা পাতার রস মাথা ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
এছাড়াও এলোভেরা অনেক এলোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এলোভেরা গাছ নার্সারিতে পাওয়া যায়। ওখান থেকে কিনে আপনি আপনার ঘরে লাগাতে পারেন তবে লাগাতে পারে। একটি গাছের কুশি থেকে আরেকটি গাছের জন্ম হয়।

Thursday, October 15, 2020

রাসায়নিক সারের অপকারিতা, কেনইবা জৈব চাষ করবেন?

জৈব চাষ কেন বাড়ানো উচিত?

কোনো ধরনের কৃত্রিম সার, রাসায়নিক ইত্যাদি ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফসলকেই অরগ্যানিক বলা হয়৷  জৈব সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়৷ উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ৷

কেন খাবেন অরগ্যানিক খাবার ?

আমাদের দেশে ফরমালিনযুক্ত খাবারের আধিক্য থাকায় গত কয়েক বছর ধরে অরগ্যানিক খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে৷ আমরা কম বেশি প্রায় সবাই জানি  অরগ্যানিক খাবারের উপকারিতা৷ ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত তাঁদের গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাধারণ সারমিশ্রিত ফসলের চেয়ে অরগ্যানিক ফসলে কীটনাশকের পরিমাণ এক চতুর্থাংশের চেয়েও কম থাকে৷ বিষাক্ত ধাতব উপাদানও কম থাকে৷ তাই এতে ক্যানসার প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অনেক বেশি মাত্রায় পাওয়া যায়।

প্রতিদিন পাঁচটি করে ফল খেতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা৷ আর এ পাঁচ ফলের মধ্যে যদি অরগ্যানিক খাবার থাকে তাহলে তা কিছু বাড়তি স্বাস্থ্যগত সুবিধা যোগ করে, যা আরও দু'টি অতিরিক্ত ফল খাওয়ার মতো৷ গবেষকদলের প্রধান যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসেল ইউনিভার্সিটির গবেষক প্রফেসর কার্লো লেইফার্ট জানান, পরিসংখ্যানগতভাবে কিছু অর্থবহুল পার্থক্য দেখা গেছে সাধারণ ও অরগ্যানিক খাবারের মধ্যে৷ বিশেষ করে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের হার শতকরা ১৯ থেকে ৬৯ ভাগ পর্যন্ত বেশি থাকে অরগ্যানিক খাবারে৷ এ গবেষণার জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচালিত ৩৪৩টি সমীক্ষার ফলাফল সংগ্রহ করা হয়। এরপর বিভিন্ন ফল ও সবজির ক্ষেত্রে তা পর্যালোচনা করা হয়।

রাসায়নিক চাষের ফসলে রোগব্যাধি:
বাজার থেকে আমরা যেসব খাবার ও সবজি কিনে খাই, তার প্রায় সবগুলোর মধ্যেই বিভিন্ন কৃত্রিম সার, রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে৷ এর ক্ষতিকারক প্রভাব আমাদের সবার উপর পড়ছে৷ কৃত্রিম সার, রাসায়নিক দ্রব্য, ফরমালিন ইত্যাদির যথেচ্ছ ব্যবহারে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, লিভারের ক্ষতি সাধনসহ নানাবিধ রোগব্যাধির প্রকোপ মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ বিশেষভাবে শিশুদের ওপর এর প্রভাব বেশ প্রবল৷ শিশুদের খাবার-দাবারের সাথে তাদের বিভিন্ন আচরণগত পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে৷ তাই অরগ্যানিক (কৃত্রিম সার ও রাসায়নিক মুক্ত) খাবার ও শাক-সবজি আমাদের নিজেদের জন্য তো দরকারই, শিশুদের জন্য এর প্রয়োজন আরও বেশি৷
বিজ্ঞানীদের মতে অরগ্যানিক ফুড অনেক বেশি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ৷ গবেষণায় দেখা গেছে, যে জৈব খাদ্য বা অরগ্যানিক ফুড শরীরের চর্বি কমায় এবং পেশীর গঠনে সহায়তা করে৷

জৈব চাষে ফলন কেমন?

জৈব সার দিয়ে চাষ করলে প্রথম এক থেকে দু'বছর ফলন কিছুটা কম হবে এতে সন্দেহ নেই৷ তবে চার থেকে পাঁচ বছর পর রাসায়নিক সার দিয়ে চাষ করা জমির তুলনায় ফলন বেশি হবে৷ যে জমিতে সর্বশেষ রাসায়নিক সার ব্যবহার করে চাষাবাদ করা হয়েছে সেই জমি ন্যূনতম তিনবছর পতিত অবস্থায় ফেলে রাখলে বা পুনরায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ ছাড়া চাষ করলেই অরগ্যানিক খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব। চাষাবাদে ব্যবহৃত বহুল প্রচলিত রাসায়নিক সারের অবশিষ্টাংশ তিন বছরে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে৷

ভারতবর্ষের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি হচ্ছে কৃষি৷ এ দেশের ৯০ শতাংশ কৃষকের কাছে মধ্য আশির দশকের আগ পর্যন্ত অরগ্যানিক কৃষি ছিল বেশ জনপ্রিয় তারপর নানা প্রলোভনে কৃষকরা বাধ্য হয়ে রাসায়নিক কৃষিতে ঝুঁকে পড়েছে নব্বইয়ের দশকে ৷ বর্তমান বিশ্বে অরগ্যানিক কৃষিতে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে বটে, তবে  এর মাত্রা খুবই কম ৷  

খরচ কম, জর্মির উর্বরতা বৃদ্ধি:
জৈবসার প্রয়োগ ও জৈব কীটনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল এবং সবজির উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫-৩০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব । জৈবসার ব্যবহার করলে ফসলের উৎপাদন খরচ রাসায়নিক সারের চেয়ে শতকরা ৫০-৬০ শতাংশ কম হয় অরগ্যানিক খাবার ও শাক-সবজি হয়ত সামান্য ব্যয়বহুল৷ কারণ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এতে হরমোন, কৃত্রিম সার ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় না৷ সেই সাথে পোকামাকড় দমনের জন্য রাসায়নিক বিষ না দেয়ায় এবং পচন রোধের জন্য ফরমালিন না দেয়ার ফলে সংরক্ষণ ব্যয় কম ৷

রাসায়নিক সারের পরিবর্তে উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন প্রযুক্তিতে উৎপাদিত জৈব সার সবজি ও ধান গাছে প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, পটাশ ও ফসফেট সারের জোগান দেয় ৷ ভার্মি কম্পোস্ট কেঁচো সার প্রয়োগ করলে আর অতিরিক্ত ইউরিয়া, পটাশ ও টিএসপি সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয়না৷ এছাড়া মাটির উর্বরতা ও স্বাস্থ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়৷ উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ৷

অপরদিকে রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়া পর্যায়ক্রমিক শস্য চাষ এবং মেহগনি, পীতরাজ, গাছ আলু ও নিমের নির্যাস ব্যবহার করে সবজি ও অন্যান্য ফসলের রোগবালাই দমন করা সম্ভব হয়েছে৷ জৈব পদ্ধতিতে জমিতে দীর্ঘ মূল ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের মূল বিশিষ্ট সবজির সমন্বয় ঘটিয়ে মাটির উর্বরতা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে৷ কম খরচে শস্যে এ ধরনের জৈব কীটনাশক ব্যবহার করে একদিকে যেমন কৃষকদের  অর্থ সাশ্রয় করা , তেমনি জনস্বাস্থ্যও রক্ষা করা সম্ভব ৷ 

দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে রাসায়নিক কৃষি বর্জন করে প্রাণ-বৈচিত্র্য নির্ভর  জৈব কৃষির মাধ্যমে খাদ্যে সার্বভৌমত্ব অর্জন সম্ভব৷

Wednesday, October 14, 2020

গোলাপ ফুলের রহস্য, পর্ব ১ - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

চেনা ফুলের অচেনা ফল গোলাপের অজানা রহস্য,🌹রোজ হিপ 🌹
পর্ব ১
গোলাপ ফুল তো আমরা সবাই চিনি কিন্ত কেউ কি গোলাপ ফল চিনি জানি কি এই গোলাপ ফলের উপকারীতা,
গোলাপের  ফল কে রোজ হিপ বলে (Rose hip) নামে পরিচিত,
🌹🥀বসন্ত ও গ্ৰীম্মের শুরুতে ফুলের পরিপূর্ণ পরাগায়নে জন্ম নেয় রোজ হিপ, বেশ কিছু রঙ ও আকৃতির হয় যেমন গোলাকার অথবা লন্বাটে ,,লাল ,কমলা,পাপল রঙ হয়।
🥀🌹রোজ হিপ থেকে হার্বাল চা জ্যাম জেলি সিরাপ হয়। 
বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপ বিশেষ করে  ওয়াইন্ড ডগ গোলাপ উল্লেখযোগ্য তার সুদৃশ্য গড়নের জন্য এই প্রজাতির গোলাপ গাছ লন্বায় ১০ফিট পর্যন্ত হয়ে থাকে ফুল অত্যান্ত ঘ্রাণ সমৃদ্ধ রোজ হিপ।
বাগানে অর্নামেন্টাল হিসাবে খুবই আকর্ষনীয় বিষেশ করে রোজ ময়েসি (Rose moyesii) প্রজাতি।
🌹রোজ হিপ ভিটামিন সি এর খুব ভাল উৎস অরেঞ্জ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি এক টেবিল চামচ রোজ হিপ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য সারাদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করতে পারে।
🌹রোজ হিপে থাকা ভিটামিন শরীরের ইমিউনিটি বাড়িয়ে দেয়।
🌹রোজ হিপের উপকারিতা-
রোজ হিপ বিকল্প ঔষধের মধ্যে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসাবে ব্যবহার করা হয়- বাত, পিঠে ব্যাথা, ডায়াবেটিস, গেঁটে বাত, আলসার, আথ্রাইটিস, ইত্যাদির জন্য দারুন উপকারী।

Friday, October 9, 2020

বৈঁচি ফলের গুণাগুণ - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

 

বৈঁচি ফলের গুণ

বাংলার লুপ্ত প্রায় ফলের মধ্যে  বৈঁচি ফলের নাম প্রথম সারিতে রাখা যায়। 
শিব ঠাকুরের গলায় দোলে বৈঁচি ফলের মালিকা; 
গানের মধ্যেও এই ফলের উল্লেখ আছে।এক সময় গ্রাম বাংলায় বাচ্চারা এই ফলের মালা বানিয়ে গলায় পরতো। আর খেলার মাঝে সেই মালা থেকে এই ফল ছিঁড়ে  ছিঁড়ে খেত। তবে এখনকার বাচ্চারা আগের মতো খেলার  সুযোগ পায় না আর এই ফলের সন্ধানও পায়না। আমাদের গ্রামের অতিপরিচিত এই বৈঁচি ফল আজ লুপ্ত প্রায়। এই ফল নিয়ে আমার জানা কিছু তথ্য সবার সাথে ভাগ করে নেয়ার আগে সকলের কাছে অনুরোধ আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সম্ভব হলে এই গাছকে বাঁচিয়ে রাখুন। 

বৈঁচি ফল সম্পর্কে কিছু তথ্য 

এটি একটি গুল্ম জাতিয়, ঝোপঝাড় বিশিষ্ট  উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Falacourtia Ramontchi. এশিয়ার গ্রীষ্মমন্ডলীয় ও শীতকালীন অঞ্চলে ফুলের উদ্ভিদ।  দক্ষিণ এশিয়ার অনেক জায়গায় এ ফলগাছ জন্মে।অঞ্চল ভিত্তিক এই ফল বুঁজ,ডুংখির, কাটা বহরি নামেও পরিচিত। এর গাছ ২৫ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে। বৈঁচি ফুল আকারে ছোট ও পীত বর্নের হয়।পাঁচ পাপড়ি যুক্ত ছোট স্ত্রী ও পুরুষ ফুল গুলো আলাদা আলাদা গাছে ফোটে।শীতের শেষে বৈঁচি গাছে ফল হয় এবং পাকতে শুরু করে এপ্রিল- জুন মাসে।ফলের শাঁস নরম ও সাদাটে রঙের হয়।কাঁচা ফল গোলাকার, সবুজ ও পাকলে গাঢ় বেগুনি বর্নের হয়। 

পুষ্টিগুন

অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সাথে সাথে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে।
 
উপকারিতা 

পাতা ও শিকড় ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও জন্ডিস, দাঁতের গোড়া ফোলা,বাত, নিমোনিয়া,ডায়রিয়া,কাশি,
হজম শক্তি বাড়াতে ও লিভারের রোগে উপকারী। 
তাছাড়াও বৈঁচি ফল দিয়ে জ্যাম-জেলি তৈরী করা হয়।

এই ফলের আরও কিছু তথ্য আপনাদের জানা থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। 

আজ এই খানেই শেষ করছি,আবার আসবো অন্য কোন ফলের তথ্য নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন।  

ছবি- গুগল থেকে সংগ্রহ করা। 
তথ্য- বিভিন্ন বই এবং ইন্টারনেট থেকে পড়ে লেখা।

নানা ধরনের ক্রোটন চাষ, কীভাবে পরিচর্যা করবেন - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

নানা ধরনের ক্রোটন (Croton) – পরিচিতি, লাগানোর পদ্ধতি ও ব্যবহার ক্রোটন (Codiaeum variegatum) একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় শোভাবর্ধক পাতা...