Sunday, September 13, 2020

পদ্ম গুলঞ্চ লতা আয়ুর্বেদিকে তার কথোপকথন- অঙ্গন আমার প্রকৃতি

ওয়েব ডেস্ক, ১৩ সেপ্টেম্বর: পদ্ম গুলঞ্চ লতা, আয়ুর্বেদিকে অমরত্বের শিকড় !

প্রচলিত নামঃ গুলঞ্চ, গুভুচী, পদ্মগুলঞ্চ
ইউনানী নামঃ গেলূ
আয়ুর্বেদিক নামঃ গুডুচা, গুলঞ্চ
ইংরেজি নামঃ Moon Creeper/Bile Killer.
বৈজ্ঞানিক নামঃ Tinospora cordifolia (Willd.) Hook. f.
পরিবারঃ Menispermaceae

গুলঞ্চ লতা আম,  জাম,  নিম  গাছের ওপরে বেয়ে ওঠা লতানো গাছ। কান্ডের উপরিভাগ খসখসে ফাটল যুক্ত। বিস্কুট রং এর চামড়া। পাতা পানপাতার মত হৃদয় আকৃতির এবং লম্বা বোটা যুক্ত। লম্বা সুতার মত অসংখ্য বায়ুবীয় মূল যা ঝুলন্ত কান্ড থেকে মাটি পর্যন্ত বিস্তৃত। এই গাছে গ্রীষ্মকালে ফুল ফোটে এবং শীতকালে ফল পাকে। পূংকেশর এবং স্ত্রীকেশর ভিন্ন ফুলে থাকে। শ্রীলংকা, চীন, ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে পাওয়া যায়।শীতকালে পাতা ঝরে যায়, বসন্তে নতুন পাতার সমাগম হয়।
পরিচিতিঃ এটি একটি দীর্ঘ লতানো উদ্ভিদ। সাধারনত অন্য গাছকে অবলম্বন করে বেড়ে ওঠে। পরিনত বয়সে লতাগুলো আঙুলের ন্যায় মোটা হয়। লতার গায়ের ছালগুলা কাগজের মত পাতলা। নিচে সবুজ এবং ভিতরে সাদা। স্বাদ তিক্ত ও পিচ্ছিল। পাতা সরল, একান্তর, অনেকটা পান আকৃতির, শীতকালে পাতা পড়ে, বসন্তে আবার নতুন পাতা বের হয়। ছোট হরিদ্রাভ সাদা ফুল ও মটরের মত বীজ হয়। ফল পাকলে লাল বর্ণের দেখায়।

রোপনের সময় ও পদ্ধতিঃ বীজ থেকে বর্ষার শেষে চারা গজায়। চারা লাগিয়ে চাষ করা যায়। আবার ডাল থেকেও নতুন গাছ জন্মানো যায়। মে-জুন মাসে গুলঞ্চ লতার কাটিং লাগাতে হয়।

রাসায়নিক উপাদানঃ লতায় একটি অ্যালকালয়েড, কিছু গ্লাইকোসাইড, স্টেরল ও বিভিন্ন তিক্ত রাসায়নিক দ্রব্য বিদ্যমান।
ব্যবহার্য অংশঃ পাতা ও লতা।

গুনের কথা: সকল প্রকার চর্মরোগ, পুরাতন বা জীর্ণ জ্বর, অরুচি, বাতের যন্ত্রনা, রক্তঅর্শ, ডায়াবেটিস, অগ্নিমান্দ্য, জন্ডিস, সোরিয়াসিস ও কৃমিতে উপকারী।
বিশেষ কার্যকারিতাঃ সকল প্রকার চর্মরোগ।

পটাশিয়াম  স্নায়ুবিক শক্তিবৃদ্ধি করে। 
ক্রমিয়াম শর্করা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। 
আয়রন হেমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে ও ক্যালশিয়াম  স্নায়ু, হৃদযন্ত্র এবং পেশি শক্তি বৃদ্ধি করে।

এ গাছের রস বেশ তিতা তবে এর মধ্যে আছে এন্টি অকসিডেন্ট, এন্টিহাইপার গ্লাইসেমিক, এন্টি- নিওপ্লাসটিক, এন্টিডোট, এন্টি-প্লাসমোডিক, এন্টি-হাইপারটিক, এন্টি-এলার্জিক, এন্টি-ইনফ্লামেটরি, এন্টিহাইপার লাই পেডেমিয়া, এন্টি-এষ্ট্রেস  গুনাবলী।

আরো আছে এলকালয়েড, ডিটারপিনয়ড, ল্যাকটোনস, ষ্টেরয়েডস, গ্লাইকোসাইডস, এলিফ্যাটিক যৌগ এবং পলিসাকারাইড। 

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে জন্ডিস, ডায়াবেটিস, আর্থ-রাইটিস, ক্যান্সার, ডেঙ্গুজ্বর, আমাশয়, হেপাটাইটিস, চর্মরোগ, রক্তশূন্যতা, ব্রনকাইটিস, এজমা, পাইল্স, কিডনি রোগ, ও সাপের বিষের এন্টিডোট হিশাবে ব্যবহার হয়।

রোগ অনুযায়ী ব্যবহার পদ্ধতিঃ
রোগেরনামঃ সকল প্রকার চর্মরোগ
ব্যবহার্য অংশঃ কান্ড (কাঁচা)
মাত্রাঃ ৮-১০ গ্রাম
ব্যবহার পদ্ধতিঃ থেতো করে ১ কাপ জলে ভিজিয়ে রেখে পরবর্তীতে ভালো করে হাতে চিপে ছেঁকে নিয়ে জলটুকু সেবন করতে হবে, প্রত্যহ ২-৩ বার।

রোগেরনামঃ পুরাতন বা জীর্ণ জ্বরে
ব্যবহার্য অংশঃ পাতা/কান্ড (কাঁচা)
মাত্রাঃ ১০-২০ গ্রাম
ব্যবহার পদ্ধতিঃ থেতো করে ১ কাপ গরম জলে ৩/৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে পরবর্তীতে হাতে চিপে ছেঁকে নিয়ে জলটুকু সেবন করুন, প্রত্যহ ২-৩ বার।

রোগেরনামঃ কৃমি বিনাশে
ব্যবহার্য অংশঃ কান্ডের রস
মাত্রাঃ ১০-১৫ মিলি (২-৩ চা চামচ)
ব্যবহার পদ্ধতিঃ প্রত্যহ ২-৩ বার চিনিসহ সেব্য। (৫-৭ দিন)
পুস্টিকথা:
এ লতায় আছে আশঁ  প্রোটিন  এবং প্রতি ১০০ গ্রামে ২৯২.৫৪ ক্যালরির পুষ্টি শক্তি। এ লতায় আছে  নানা রকম রাসায়নিক যোগ যেমন জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, ফ্লোরিন, ক্যালশিয়াম, টাইটানিয়াম, ক্রমিয়াম, আয়রন, কোবাল্ট, নিকেল, কপার, ব্রমিন, ষ্ট্রোনশিয়াম এবং পটাশিয়াম।

সেবন কথা:
১.সব ধরনের চর্মরোগে ৮ থেকে ১০ গ্রাম কাঁচা কাণ্ড থেঁতো করে ১ কাপ জলে ভিজিয়ে রেখে পরে হাতে চিপে ছেঁকে জলটুকু দিনে ২ থেকে ৩ বার পান করতে হবে। নিয়মিত এক মাস পান করলে চর্মরোগ সেরে যাবে।

২.কৃমি দূর করতে ২ থেকে ৩ চা চামচ গুলঞ্চের কাণ্ডের রস দিনে ২ থেকে ৩ বার চিনি মিশিয়ে খেলে কৃমি থাকবে না। কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ দিন পান করতে হবে।

৩.শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে গুলঞ্চের কাঁচা পাতার রস উপকারী।

৪.বহুদিনের বাতজ্বর বা থেমে থেমে জ্বরের চিকিৎসায় গুলঞ্চের কাণ্ড ব্যবহার হয়।

৫.জন্ডিস, হাত-পায়ে জ্বালাপোড়া, বহুমূত্র  গুলঞ্চের কাঁচা পাতা ও কাণ্ড দুটোই ব্যবহার হয়।

৬.চর্মরোগ, শ্বাসনালির অনিয়ম রোগে ব্যবহৃত হয়।

৭.বোধশক্তি উন্নত করতে গুলঞ্চের কাঁচা পাতা রস ব্যবহার হয়।

৮.কাঁচা কাণ্ডের রস মূত্র বৃদ্ধিকারক। 

পান করার পরিমাণঃ
পাতার রস ২ থেকে ৩ চামচ এবং কাঁচা পাতা বা কাণ্ড ৮ থেকে ১২ গ্রাম পান করতে হবে। তাজা গুলঞ্চ ব্যবহার করা ভালো।
জ্বর হলে পাতা ভাজি করে খাওয়ানো হয়।  লতা ছেঁচে রস করে খাওয়ানো হয়।নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি পান করা উচিত ময়।

গুলঞ্চ লতা সমগ্র বিশ্বের মানব জাতির জন্যে রোগ নিরাময়ের এক আশীর্বাদ স্বরূপ কাজ করে।

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ ছবিতে দেখা যাচ্ছে পেয়ারার ফলের ভেতরের অংশ কালো হয়ে পচে গেছে এবং...