Friday, October 9, 2020

কৃষিতে অ্যাজোলা বা নীল সবুজ শেওলার ব্যবহার- অঙ্গন আমার প্রকৃতি

কৃষিতে অ্যাজোলা বা নীল সবুজ শেওলার ব্যবহারঃ

আমাদের দেশের বেশির ভাগ কৃষকেরই অ্যাজোলা বা এর উপকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। সবার কাছে এটি অতি সাধারণ পানা। রাস্তার দুই পাশে কিংবা নিচু জলা জায়গায় দেখা যায় এক ধরনের খুদে পানা, যা নানা স্থানে প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে ওঠে। একে কেউ বলে সুতিপানা, কেউ বা তেঁতুলে পানা, আবার কারও কাছে শুধুই পানা। জলজ সবুজ কিংবা পাটল রঙের এই পানার বৈজ্ঞানিক নামই অ্যাজোলা। অ্যাজোলা পাতার খাঁজে খাঁজে থাকে নাইট্রোজেন বন্ধনকারী অণুজীব। নীল ও সবুজ শেওলা। ধানক্ষেতের জলেতে এদের ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়। যখন এগুলো মারা যায় বা মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তখন এগুলো থেকে উৎপাদিত নাইট্রোজেন ধানগাছের উপকারে আসে।

ইউরিয়া সারের বিকল্প হিসেবে অ্যাজোলার ব্যবহার- ইউরিয়ার চাহিদা অ্যাজোলা দিয়ে মেটানো সম্ভব। অ্যাজোলার অঙ্গজ বিস্তারণ ক্ষমতা খুব চমৎকার; দিনে হেক্টরে প্রায় এক টন তাজা জৈব পদার্থের সমান। সঙ্গে বাতাস থেকে দুই কেজি নাইট্রোজেন ধরে রাখতে পারে, যা দিয়ে পাঁচ কেজি ইউরিয়ার কাজ চালানো যায়। এক হেক্টর অ্যাজোলার আস্তরণ তৈরি করতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে।ইউরিয়া মাটির উর্বরতা হ্রাস করে। নাইট্রেট মাটি ও জলের সঙ্গে মিশে পরিবেশের জন্য হুমকি তৈরি করে। অথচ অ্যাজোলা পরিবেশবান্ধব জৈব সারের বিকল্প হতে পারে। অ্যাজোলা বিষয়ে সাধারণ কৃষকদের ধারণা নেই। এ কারণে সবাই ইউরিয়া সারের প্রতি ঝুঁকছে। জৈব সারের অভাব পূরণ করে এই অ্যাজোলা। মাটিতে প্রচুর জৈব পদার্থ জমে। জল থেকে আর্সেনিক ছেঁকে নেয়। পাশাপাশি মাটির গুণ ভালো রাখে।এক হেক্টর জমিতে দেড় হাজার টাকার ইউরিয়ার প্রয়োজন পড়ে। অথচ একই পরিমাণ জমিতে এক হাজার কেজি অ্যাজোলা ব্যবহার করলে খরচ কমে আসবে অর্ধেকেরও বেশি।

মৎস্য উৎপাদনের খরচ কমাতে এ্যাজোলার ব্যবহার- প্রাকৃতিক জলাধার বিলুপ্তির কারণে মাছের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। মাছের ঘাটতি পুরণে গত কয়েক দশক ধরে শুরু হয়েছে কার্প (সিলভার কার্প, কাতলা, রুই,মৃগেল, কমন কার্প, গ্রাস কার্প ও থাই পুটি) জাতীয় মাছ চাষ। সম্প্রতি মাছের খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ চাষও হয়ে পড়েছে কষ্টসাধ্য। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপের মধ্যে রয়েছে মৎস্য চাষীরা। বিনা খরচে মাছ চাষের একটি অন্যতম উপাদান এ্যাজোলা। এ্যাজোলা প্রোটিন সমৃদ্ধ ও সুস্বাদু হওয়ায় কার্প জাতীয় মাছের প্রিয় খাদ্য। এক গভেষনায় দেখা গেছে পুকুর দৈনিক দু’বার মাছের দেহ ওজনের ৩ শতাংশ হারে এ্যাজোলা খাদ্য হিসেবে প্রয়োগ করার ফলে মাছের দৈহিক বৃদ্ধি ও চমৎকার।

গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবে এ্যাজোলার ব্যাবহার- এ্যাজোলা ঘাসের চেয়েও ১০ গুণ পুষ্টি সমৃদ্ধ তাই ঘাসের বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে এ্যাজোলা৷‌ এ্যাজোলায় অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড, ভিটামিন (ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-১২, বেটা-কেরোটিন) গ্রোথপ্রেমোটর, খনিজ উপাদান যেমন- ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, পটপশিয়াম, ফেরাস(লৌহ), জিঙ্ক পর্যাপ্ত পরিমানে থাকে। এ্যাজোলাতে ২৫-৩৫% প্রোটিন (On a dry weight basis), ১০-১৫% খনিজ পদার্থ, ৭-১০% এমাইনো এসিড, কাবোহাইড্রেট এরং চর্বি খুব কম পরিমানে থাকে। উচ্চমাত্রার প্রোটিন এবং কম পরিমানে লিগনিন থাকার কারনে গবাদি পশু সহজেই এ্যাজোলা পরিপাক করতে পারে। প্রতিদিনের স্বাভাবিক খাবারের সাথে ২-৩ কেজি এ্যাজোলা খাওয়ানোর ফলে দুধ উৎপাদন ১৫-২০% বৃদ্ধি পাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। গরুর প্রচলিত স্বাভাবিক খাবারের ১৫-২০% এ্যাজোলা খাওয়ানো যেতে পারে এর ফলে খাদ্য খরচ অনেক কমে যাবে। দুধ উৎপাদনে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এমনকি এ্যাজোলা খাওয়ানোর ফলে গরুর  দুধ উৎপাদন ও দুধের গুণগতমান, গরুর স্বাস্থ্য ও আয়ু বেড়ে যায়। গো-খাদ্য হিসাবে অন্যান্য প্রচলিত খাদ্যের তুলনায় এ্যাজোলার পুষ্টিমান তুলনা করে দেখা যায় যে এ্যজোলার পুষ্টিমান ভালো। অ্যাজোলায় যেহেতু পুষ্টিগুণ বেশি, প্রথমের দিকে গরু, ছাগলকে অল্প অল্প করে অভ্যেস করানোর যেতে পারে। অভ্যাস হয়ে গেলে পরিমাণ মতো অ্যাজোলা দেওয়া যেতে পারে৷

হাঁস-মুরগির অপ্রচলিত খাদ্য হিসাবে এ্যাজোলার ব্যবহারঃ-  এ্যাজোলা খাওয়ানোর পর দেখা গেছে মুরগিকে সরবরাহকৃত সাধারণ খাদ্যের তুলনায় এ্যাজোলা খাওয়ানোর পর দৈহিক বৃদ্ধি দ্রুত হয়েছে এবং ওজন ১০-১২ % বেশি হয়েছে। ডিমের কুসুম বড় হয়েছে এবং ডিমের খোসা চকচকে বা আর্কষনীয় হয়েছে।
খাদ্য হিসাবে এ্যাজোলা ব্যবহার করে মাছ, দুধ, মাংশ, ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যেতে পারে।

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ

পেয়ারার ফলের সমস্যা: ফলমাছি (Fruit Fly) ও ফল পচা রোগের আক্রমণ ছবিতে দেখা যাচ্ছে পেয়ারার ফলের ভেতরের অংশ কালো হয়ে পচে গেছে এবং...