বনসাইঃ
বড় গাছের ক্ষুদ্র রুপ, বন অর্থ অগভীর পাএ এবং সাই অর্থ গাছ।
🌺বনসাই গাছ নির্বাচঃ
🌷যে সমস্ত গাছের বাকল মোটা।
🌷 জীবনকাল দীর্ঘ, অনেক দিন বাচেঁ।
🌷 বিরুপ পরিবেেশে টিকে থাকে এবং কষ্ট, সহিঞ্চু।
যেমন বট, পাকুড়, তেঁতুল, ছাতিম, কামিনি, রঙ্গন, অশ্বথ, অর্জুন, চায়নাবট, জেডপ্লান্ট, ফাইকাস বেঞ্জামিনা, শেওড়া, তারামনি, ফুকেন টি ট্রি, বারবাডোসচেরী, প্রেমনা প্রভৃতি গাছপালা বনসাই এর উপযুক্ত।
🌷 বটবৃক্ষ সবচেয়ে উপযোগী। টবে এর লতা/ ঝুরি নামে। টবের ছোট্ট গাছে লতা/ঝুরি নামলে চমৎকার লাগে এবং একই সাথে গাছটির প্রাচীনত্ব তথা বয়স্কভাব ফুটে ওঠে।
🌺বনসাইয়ের চারা সংগ্রহঃ
🌳বনসাই তৈরীর প্রাথমিক কাজ চারা সংগ্রহ।
🌳পুরাতন অট্টালিকা, ভাঙ্গা প্রাচীর, পাথুরে জমি, পাহাড়ের খাদে বিরুপ পরিবেশে জন্মানো সংগ্রাম করে টিকে থাকা কষ্ট, সহিঞ্চু গাছ, যাদের যথেষ্ট বয়স হয়েছে অথচ তেমন বড় হয়নি , এমন ধরনের চারা বনসাই করার জন্য বেশী উপযুক্ত।
🌳 কিছু কিছু প্রজাতির গাছে গুটি কলম বা কাটিং করে চারা করা যেতে পারে।
🌳 সরকারী বা বেসরকারী বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠত নার্সারী থেকে মোটা-গুড়ি, ঝোপালো, বেশি শাখা প্রশাখাযুক্ত, অপেক্ষাকৃত পরিণত, কম উচ্চতা বিশিষ্ট, গাছকে বনসাইয়ের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।
🌳 বছরব্যাপি চারা সংগ্রহ করা যায়, তবে বর্ষাকাল উত্তম সময়।
🌺বনসাই গাছের মাটি তৈরি+ সার প্রয়োগঃ
🌳দোআঁশ মাটি+ভার্মি কম্পোস্ট /জৈবসার + হাড়েরগুড়া+ইটেরগুড়া+মোটাবালি
=৪৫%+৪০%+১০%+৫%
🌳টবের মাটি গাছের জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা সংরক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিস্কাশিত হবে।
🌳 বৎরে একবার টবের মাটি ৩০ থেকে ৬০ ভাগ পরিবর্তন করুন।
🌳প্রতি মাসে (উচ্চতা ×প্রস্থ=১০×১৫ সেঃমিঃ) পটের মাটিতে ডিএপি+এমওপি+জিপসাম+বোরন+জিংক+খৈল=৩+২+১+০.৫+০.৫+১০ গ্রাম ভিজে রেখে তরল আকারে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
🌳বৎসরে একবার টবের মাটিতে ৩ থেকে ৫ গ্রাম ডলোচুন প্রয়োগ করুন।
🌺পানি সেচ ও নিষ্কাশনঃ
🌳গাছ শিকড় ও মূলরোমের মাধ্যমে মাটি থেকে তরল আকারে প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করে।
🌳মাটিতে গাছের প্রয়োজনীয় পানির অভাব হলে গাছ খাদ্য গ্রহন করতে পারেনা ফলে বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়।
🌳আবার অতিরিক্ত পানি মাটিতে গাছের প্রয়োজনীয় বায়ু/অক্সিজেনের ঘাটতি হয় ফলে গাছ মারা যেতে পারে।
🌳গাছে নিয়মিত প্রয়োজন মতো পানি দিতে হবে।
🌳১ম বার জল দেওয়ার পর মাটি না শুকানো পর্যন্ত দ্বিতীয়বার জল দিবেন না।
🌳গাছে সাধারণত সকালে বা বিকালে প্রচন্ড সুর্যের তাপ পরিহার করে জল দেয়া উত্তম।
🌳বনসাই পট অগভীর হওয়ায় গ্রীষ্মে দিনে দুই থেকে তিনবার জল দেওয়া লাগতে পারে।
🌳সপ্তাহে অনন্ত একবার সমস্ত গাছে জল স্প্রে করলে
পাতা সজীব থাকে পোকা ও রোগের প্রাদূর্ভাব কম হয়।
🌳অতিরিক্ত বর্ষায় টবে জল জমতে দেয়া যাবে না, অতিরিক্ত জল নিস্কাশন ব্যবস্থা রাখতে হবে।
বনসাই প্রুনিং ও পাতা ছোট করণঃ
🌳 প্রুনিং গাছের প্রাজাতি ভেদে চারা রোপনের ১ম বছরেরে পর থেকে ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরপর আবার বৎসরে ১ থেকে ২ বার প্রয়োজন হতে পারে। শীতকাল ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রুনিং না করা ভালো।
🌳 প্রি-বনাই বা বনসাই (৩-৫) বৎসর হলে প্রুনিংয়ের নিয়ম মেনে গাছে কিছু কুড়ি রেখে সমস্ত পাতা ২ থেকে ৪ বার কেটে ফেলুন পাতা ছোট হয়ে আসবে।
🌺ডাল ও শিকড় কাটিংঃ
🌳Wheel Branch : কোন কোন সময় গাছের গোড়া বা কান্ড থেকে অনেকগুলো ডাল বের হয়। বনসাই স্টাইল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডালটি রেখে বাকি ডাল গুলো কাটিং করতে হবে।
🌳Bar Branch : মুল কান্ডের দুই দিকেই সমান্তরাল ভাবে থাকে যে ডাল।
🌳Parallel Branch : মুল কান্ডের একদিকে পরপর সমান্তরাল ভাবে দুইটি ডাল।
🌳Upright Branch :খাঁড়াভাবে বা সোজা হয়ে ওঠে যাই এমন ডাল।
🌳Down ward Branch : খাঁড়াভাবে নিচের দিকে নেমে গেছে এমন ডাল।
🌳Swindling Branch : গাছের যে ডালটি জোরে সোরে এবং সোজা হয়ে বাড়ছে ঐধরণের ডাল প্রয়োজন হলে কাটং করে ছোট করতে হবে। যদি প্রয়োজন না থাকে তা হলে গোড়া থেকে ডালটি সম্পূর্ণ কাটিং করতে হবে।
🌳Crossing branch: আড়াআড়ি ডাল যা একটি অপরটিকে Cross করে ঐসমস্ত ডাল।
🌳Crossing and Overlapping Root : আড়াআড়ি শিকড় যা একটি অপরটিকে Cross করে, মুল কান্ডকে পেঁচিয়ে থাকে এবং একটির উপর দিয়ে আর একটি অতিক্রম করে যে শিকড় ঐসমস্ত গুলি।
🌳Front Crossing Branch and Root : সামনের দিকে সোজাসুজি বা আড়াআড়ি ভাবে যে ডাল এবং শিকড় গুলো থাকে।
🌳Recurve Branch and Root : যে সমস্ত ডাল এবং শিকড় যা পিছন থেকে সামনে এবং সামনে থেকে পিছনে ঘুরে গেছে ঐসব ডাল এবং শিকড়।
🌳Front Branch and Root : গোড়ার দিক থেকে যে ডাল বা শিকড় সরাসরি সামনের দিকে সোজাসুজি থাকে ঐসব ডাল এবং শিকড় ।
বনসাই টবঃ
🌳 উচ্চতা ১০ সেঃ মিঃ দৈর্ঘ্য বা প্রস্থ ১৫ সেঃ মিঃ। তবে গাছের আকার আকৃতিতে টবের আকার আকৃতি পরিবর্তনশীল।
🌳 টবের তলায় ১ সেঃমিঃ ব্যাসের ১ থেকে ৩ টি প্রয়োজন অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ছিদ্র থাকতে হবে। টবের নিচে খুড়া বা স্টান্ড থাকা ভালো।
🌳টব হতেপারে পোড়া মাটির, চিনামাটির, সিরামিকের, সিমেন্ট +বালির, পিতলের, প্লাস্টিকের।
🌳পোড়ামাটি, সিমেন্ট +বালির টবে মাটিতে প্রয়োজনীয় আলো-বাতাস চলাচলের কারনে মাটির অনুজীবীয় কার্যক্রম ঠিক থাকে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়।
🌺বনসাই স্টাইলঃ
বনসাই শুরু করার আগে অবশ্যই বনসাই এর বিভিন্ন স্টাইল সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। কারণ লক্ষ্য ঠিক না থাকলে যেমন কোনো কাজ সফল ভাবে সম্পূর্ণ করা যায় না তেমন বনসাই স্টাইল জানা না থাকলে আপনি সঠিক ভাবে কম সময়ে ভালো বনসাই তৈরি করতে পরবেন না।
বনসাই এর কিছু স্টাইল
1.Formal Upright Style
2.Informal Upright Style
3.Cascade Style
4.Sami-Cascade Style
5.Broom Style
6.Slanting Style
7.Literity Style
8.Exposed Root Style
9.Root Over Rock Style
10.Wind_Swept Style
11.Weeping Style
12.Twin Trunk Style
13.Clump Style
14.Group Planting Style
15.Landscape Style.
16.Multi Trunk Style
17.Wield Fig Style
18.Dead Wood ইত্যাদি।
এই স্টাইল গুলোর নাম দিয়ে গুগল সার্চ দিলেই আপনি ধারণা পেয়ে যাবেন।
🌳সব গাছ দিয়ে সব রকম স্টাইল হয় না। তাই যেই গাছ দিয়ে বনসাই করবেন সেই গাছ সম্পর্কে ভালো ভাবে জেনে বনসাই কার্যক্রম শুরু করুন।
🌳সাধারনত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, হার্ড প্রুনিং, সুতাদ্বারা বাধা, তামার তারদিয়ে পেচাঁনো বিষয়গুলিতেই বনসাই স্টাইল অনেকাংশে নির্ভরশীল।
🌳গাছের সব ডাল বা সবপ্রজাতির গাছ ওয়ারিং করা লাগে না। বর্ষাকালে গাছ ওয়ারিং থেকে বিরত থাকুন কারণ এই সময় ডালের নমনীয়তা কম থাকে। ওয়ারিং দুই ভাবে করা যায় তার পেঁচিয়ে এবং টানা দিয়ে। তার পেঁচিয়ে ওয়ারিং করালে Maximum ৪০ দিন পর খুলে দেখুন, যদি ডাল ঠিকভাবে না থাকে পূনরায় ওয়ারিং করুন।
🌳গাছের গ্রোথ ভালো থাকলে কম সময়ে ওয়ারিং হয়ে যায়।
🌳খেয়াল রাখুন গাছে যেন গভীর দাগ না পরে। দাগ পড়লে গাছের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়। তাই গাছে হালকা দাগ পরলেই খুলে দিবেন। উপযোগী ডাল ওয়ারিং করবেন, বেশি মোটা ডাল ওয়ারিং না করাই উত্তম।