Friday, October 16, 2020

আয়ুর্বেদিক গাছ ঘৃতকুমারী অর্থাৎ এলোভেরার গুণ - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

একটি বহু উপকারী আয়ুর্বেদিক গাছ  ঘৃতকুমারী  অর্থাৎ  এলোভেরা ।বর্তমান সময়ে টিভিতে এলোভেরার বিভিন্ন দ্রব্য আমরা দেখে থাকি।
কিন্তু বাড়িতে বসেই সামান্য খরচে এলোভেরা লাগিয়ে রাসায়নিক ছাড়া বিভিন্ন প্রসাধনী তৈরি করা সম্ভব।
এবার জেনে নিই এলোভেরার উপকারিতা 
বর্তমানে আমাদের অনেকেরই বাড়িতে এলোভেরা গাছ টবে লাগানো থাকে।কিন্তু আমরা এর উপকারিতা সম্বন্ধে অজ্ঞাত। এবার আপনাদের জানাবো অ্যালোভেরার উপকারিতা। ঘৃতকুমারী যা আমরা অনেকে এলোভেরা বলে থাকি। এই উদ্ভিদ হৃদযন্ত্র,স্নায়ুতন্ত্র,মুখের ঘা,পেটের সমস্যা,রূপ-সৌন্দর্য তৈরি করতে ও আরো বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত হয়। প্রতিদিন এক গ্লাস করে এলোভেরা পাতার নির্যাসের শরবত খেলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়। অনেক সময় অ্যালোভেরা পাতার নির্যাসের শরবত রাস্তাঘাটে বিক্রি করতে দেখা যায় কিন্তু এই গুলি খাওয়া উচিত নয় এর থেকে ভালো আপনি ঘরে বসে বানান।

1. এলোভেরা পাতার নির্যাস এর সাথে জল মিশ্রিত করে শরবত বানিয়ে যদি আপনি নিয়মিত পান করেন তাহলে  আপনার হৃদযন্ত্র এবং স্নায়ুতন্ত্র ঠিক থাকবে।
2. মুখে ঘা,পেটের সমস্যায় অ্যালোভেরা পাতার নির্যাস খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
3. মুখে ঘা বা জিভে ঘা হলে অ্যালোভেরা পাতা দুদিকের পাতলা স্তরটি তুলে দিয়ে মুখের ভিতরে রাখলে ঘা সেরে যাবে।
4. এলোভেরা পাতার নির্যাস বের করে মুখে লাগালে মুখের চামড়ার সৌন্দর্য বৃদ্ধি পায়।
5. গ্যাস্ট্রিক আলসার প্রভূতি থেকে উপশমের জন্য এলোভেরা পাতার রস খুবই উপকারী।
6. প্রচণ্ড গরমে এলোভেরার পাতার রস সরবত করে খেলে শরীর ঠান্ডা থাকে।
7. এলোভেরা পাতার রস মাথা ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে।
এছাড়াও এলোভেরা অনেক এলোপ্যাথিক, হোমিওপ্যাথিক ওষুধ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। এলোভেরা গাছ নার্সারিতে পাওয়া যায়। ওখান থেকে কিনে আপনি আপনার ঘরে লাগাতে পারেন তবে লাগাতে পারে। একটি গাছের কুশি থেকে আরেকটি গাছের জন্ম হয়।

Thursday, October 15, 2020

রাসায়নিক সারের অপকারিতা, কেনইবা জৈব চাষ করবেন?

জৈব চাষ কেন বাড়ানো উচিত?

কোনো ধরনের কৃত্রিম সার, রাসায়নিক ইত্যাদি ব্যবহার ছাড়াই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে উৎপাদিত ফসলকেই অরগ্যানিক বলা হয়৷  জৈব সার ব্যবহারে মাটির উর্বরতা দীর্ঘস্থায়ী হয়৷ উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ৷

কেন খাবেন অরগ্যানিক খাবার ?

আমাদের দেশে ফরমালিনযুক্ত খাবারের আধিক্য থাকায় গত কয়েক বছর ধরে অরগ্যানিক খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে৷ আমরা কম বেশি প্রায় সবাই জানি  অরগ্যানিক খাবারের উপকারিতা৷ ব্রিটিশ জার্নাল অফ নিউট্রিশন-এ প্রকাশিত তাঁদের গবেষণা প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সাধারণ সারমিশ্রিত ফসলের চেয়ে অরগ্যানিক ফসলে কীটনাশকের পরিমাণ এক চতুর্থাংশের চেয়েও কম থাকে৷ বিষাক্ত ধাতব উপাদানও কম থাকে৷ তাই এতে ক্যানসার প্রতিরোধী অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট অনেক বেশি মাত্রায় পাওয়া যায়।

প্রতিদিন পাঁচটি করে ফল খেতে পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা৷ আর এ পাঁচ ফলের মধ্যে যদি অরগ্যানিক খাবার থাকে তাহলে তা কিছু বাড়তি স্বাস্থ্যগত সুবিধা যোগ করে, যা আরও দু'টি অতিরিক্ত ফল খাওয়ার মতো৷ গবেষকদলের প্রধান যুক্তরাজ্যের নিউক্যাসেল ইউনিভার্সিটির গবেষক প্রফেসর কার্লো লেইফার্ট জানান, পরিসংখ্যানগতভাবে কিছু অর্থবহুল পার্থক্য দেখা গেছে সাধারণ ও অরগ্যানিক খাবারের মধ্যে৷ বিশেষ করে অ্যান্টি-অক্সিডেন্টের হার শতকরা ১৯ থেকে ৬৯ ভাগ পর্যন্ত বেশি থাকে অরগ্যানিক খাবারে৷ এ গবেষণার জন্য বিশ্বব্যাপী পরিচালিত ৩৪৩টি সমীক্ষার ফলাফল সংগ্রহ করা হয়। এরপর বিভিন্ন ফল ও সবজির ক্ষেত্রে তা পর্যালোচনা করা হয়।

রাসায়নিক চাষের ফসলে রোগব্যাধি:
বাজার থেকে আমরা যেসব খাবার ও সবজি কিনে খাই, তার প্রায় সবগুলোর মধ্যেই বিভিন্ন কৃত্রিম সার, রাসায়নিক মিশ্রিত থাকে৷ এর ক্ষতিকারক প্রভাব আমাদের সবার উপর পড়ছে৷ কৃত্রিম সার, রাসায়নিক দ্রব্য, ফরমালিন ইত্যাদির যথেচ্ছ ব্যবহারে ক্যানসার, ডায়াবেটিস, লিভারের ক্ষতি সাধনসহ নানাবিধ রোগব্যাধির প্রকোপ মারাত্মক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে৷ বিশেষভাবে শিশুদের ওপর এর প্রভাব বেশ প্রবল৷ শিশুদের খাবার-দাবারের সাথে তাদের বিভিন্ন আচরণগত পরিবর্তনের সম্পর্ক রয়েছে৷ তাই অরগ্যানিক (কৃত্রিম সার ও রাসায়নিক মুক্ত) খাবার ও শাক-সবজি আমাদের নিজেদের জন্য তো দরকারই, শিশুদের জন্য এর প্রয়োজন আরও বেশি৷
বিজ্ঞানীদের মতে অরগ্যানিক ফুড অনেক বেশি পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ৷ গবেষণায় দেখা গেছে, যে জৈব খাদ্য বা অরগ্যানিক ফুড শরীরের চর্বি কমায় এবং পেশীর গঠনে সহায়তা করে৷

জৈব চাষে ফলন কেমন?

জৈব সার দিয়ে চাষ করলে প্রথম এক থেকে দু'বছর ফলন কিছুটা কম হবে এতে সন্দেহ নেই৷ তবে চার থেকে পাঁচ বছর পর রাসায়নিক সার দিয়ে চাষ করা জমির তুলনায় ফলন বেশি হবে৷ যে জমিতে সর্বশেষ রাসায়নিক সার ব্যবহার করে চাষাবাদ করা হয়েছে সেই জমি ন্যূনতম তিনবছর পতিত অবস্থায় ফেলে রাখলে বা পুনরায় রাসায়নিক সার প্রয়োগ ছাড়া চাষ করলেই অরগ্যানিক খাদ্য উৎপাদন করা সম্ভব। চাষাবাদে ব্যবহৃত বহুল প্রচলিত রাসায়নিক সারের অবশিষ্টাংশ তিন বছরে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলে৷

ভারতবর্ষের অর্থনীতির মূল চাবিকাঠি হচ্ছে কৃষি৷ এ দেশের ৯০ শতাংশ কৃষকের কাছে মধ্য আশির দশকের আগ পর্যন্ত অরগ্যানিক কৃষি ছিল বেশ জনপ্রিয় তারপর নানা প্রলোভনে কৃষকরা বাধ্য হয়ে রাসায়নিক কৃষিতে ঝুঁকে পড়েছে নব্বইয়ের দশকে ৷ বর্তমান বিশ্বে অরগ্যানিক কৃষিতে কৃষকদের আগ্রহ বেড়েছে বটে, তবে  এর মাত্রা খুবই কম ৷  

খরচ কম, জর্মির উর্বরতা বৃদ্ধি:
জৈবসার প্রয়োগ ও জৈব কীটনাশক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ধানসহ বিভিন্ন ধরনের ফসল এবং সবজির উৎপাদন খরচ শতকরা ২৫-৩০ শতাংশ কমিয়ে আনা সম্ভব । জৈবসার ব্যবহার করলে ফসলের উৎপাদন খরচ রাসায়নিক সারের চেয়ে শতকরা ৫০-৬০ শতাংশ কম হয় অরগ্যানিক খাবার ও শাক-সবজি হয়ত সামান্য ব্যয়বহুল৷ কারণ উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য এতে হরমোন, কৃত্রিম সার ইত্যাদি ব্যবহার করা হয় না৷ সেই সাথে পোকামাকড় দমনের জন্য রাসায়নিক বিষ না দেয়ায় এবং পচন রোধের জন্য ফরমালিন না দেয়ার ফলে সংরক্ষণ ব্যয় কম ৷

রাসায়নিক সারের পরিবর্তে উচ্চ পুষ্টিমানসম্পন্ন প্রযুক্তিতে উৎপাদিত জৈব সার সবজি ও ধান গাছে প্রয়োজনীয় ইউরিয়া, পটাশ ও ফসফেট সারের জোগান দেয় ৷ ভার্মি কম্পোস্ট কেঁচো সার প্রয়োগ করলে আর অতিরিক্ত ইউরিয়া, পটাশ ও টিএসপি সার প্রয়োগের প্রয়োজন হয়না৷ এছাড়া মাটির উর্বরতা ও স্বাস্থ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়৷ উৎপাদিত ফসল হয় স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ৷

অপরদিকে রাসায়নিক কীটনাশক ছাড়া পর্যায়ক্রমিক শস্য চাষ এবং মেহগনি, পীতরাজ, গাছ আলু ও নিমের নির্যাস ব্যবহার করে সবজি ও অন্যান্য ফসলের রোগবালাই দমন করা সম্ভব হয়েছে৷ জৈব পদ্ধতিতে জমিতে দীর্ঘ মূল ও স্বল্প দৈর্ঘ্যের মূল বিশিষ্ট সবজির সমন্বয় ঘটিয়ে মাটির উর্বরতা সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়েছে৷ কম খরচে শস্যে এ ধরনের জৈব কীটনাশক ব্যবহার করে একদিকে যেমন কৃষকদের  অর্থ সাশ্রয় করা , তেমনি জনস্বাস্থ্যও রক্ষা করা সম্ভব ৷ 

দূরদর্শী পদক্ষেপের মাধ্যমে রাসায়নিক কৃষি বর্জন করে প্রাণ-বৈচিত্র্য নির্ভর  জৈব কৃষির মাধ্যমে খাদ্যে সার্বভৌমত্ব অর্জন সম্ভব৷

Wednesday, October 14, 2020

গোলাপ ফুলের রহস্য, পর্ব ১ - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

চেনা ফুলের অচেনা ফল গোলাপের অজানা রহস্য,🌹রোজ হিপ 🌹
পর্ব ১
গোলাপ ফুল তো আমরা সবাই চিনি কিন্ত কেউ কি গোলাপ ফল চিনি জানি কি এই গোলাপ ফলের উপকারীতা,
গোলাপের  ফল কে রোজ হিপ বলে (Rose hip) নামে পরিচিত,
🌹🥀বসন্ত ও গ্ৰীম্মের শুরুতে ফুলের পরিপূর্ণ পরাগায়নে জন্ম নেয় রোজ হিপ, বেশ কিছু রঙ ও আকৃতির হয় যেমন গোলাকার অথবা লন্বাটে ,,লাল ,কমলা,পাপল রঙ হয়।
🥀🌹রোজ হিপ থেকে হার্বাল চা জ্যাম জেলি সিরাপ হয়। 
বিভিন্ন প্রজাতির গোলাপ বিশেষ করে  ওয়াইন্ড ডগ গোলাপ উল্লেখযোগ্য তার সুদৃশ্য গড়নের জন্য এই প্রজাতির গোলাপ গাছ লন্বায় ১০ফিট পর্যন্ত হয়ে থাকে ফুল অত্যান্ত ঘ্রাণ সমৃদ্ধ রোজ হিপ।
বাগানে অর্নামেন্টাল হিসাবে খুবই আকর্ষনীয় বিষেশ করে রোজ ময়েসি (Rose moyesii) প্রজাতি।
🌹রোজ হিপ ভিটামিন সি এর খুব ভাল উৎস অরেঞ্জ থেকে ৫০ শতাংশ বেশি এক টেবিল চামচ রোজ হিপ প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের জন্য সারাদিনের ভিটামিন সি এর চাহিদা পূরণ করতে পারে।
🌹রোজ হিপে থাকা ভিটামিন শরীরের ইমিউনিটি বাড়িয়ে দেয়।
🌹রোজ হিপের উপকারিতা-
রোজ হিপ বিকল্প ঔষধের মধ্যে স্বাস্থ্যের বিভিন্ন সমস্যার জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রতিকার হিসাবে ব্যবহার করা হয়- বাত, পিঠে ব্যাথা, ডায়াবেটিস, গেঁটে বাত, আলসার, আথ্রাইটিস, ইত্যাদির জন্য দারুন উপকারী।

Friday, October 9, 2020

বৈঁচি ফলের গুণাগুণ - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

 

বৈঁচি ফলের গুণ

বাংলার লুপ্ত প্রায় ফলের মধ্যে  বৈঁচি ফলের নাম প্রথম সারিতে রাখা যায়। 
শিব ঠাকুরের গলায় দোলে বৈঁচি ফলের মালিকা; 
গানের মধ্যেও এই ফলের উল্লেখ আছে।এক সময় গ্রাম বাংলায় বাচ্চারা এই ফলের মালা বানিয়ে গলায় পরতো। আর খেলার মাঝে সেই মালা থেকে এই ফল ছিঁড়ে  ছিঁড়ে খেত। তবে এখনকার বাচ্চারা আগের মতো খেলার  সুযোগ পায় না আর এই ফলের সন্ধানও পায়না। আমাদের গ্রামের অতিপরিচিত এই বৈঁচি ফল আজ লুপ্ত প্রায়। এই ফল নিয়ে আমার জানা কিছু তথ্য সবার সাথে ভাগ করে নেয়ার আগে সকলের কাছে অনুরোধ আমাদের আগামী প্রজন্মের জন্য সম্ভব হলে এই গাছকে বাঁচিয়ে রাখুন। 

বৈঁচি ফল সম্পর্কে কিছু তথ্য 

এটি একটি গুল্ম জাতিয়, ঝোপঝাড় বিশিষ্ট  উদ্ভিদ। এর বৈজ্ঞানিক নাম Falacourtia Ramontchi. এশিয়ার গ্রীষ্মমন্ডলীয় ও শীতকালীন অঞ্চলে ফুলের উদ্ভিদ।  দক্ষিণ এশিয়ার অনেক জায়গায় এ ফলগাছ জন্মে।অঞ্চল ভিত্তিক এই ফল বুঁজ,ডুংখির, কাটা বহরি নামেও পরিচিত। এর গাছ ২৫ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে। বৈঁচি ফুল আকারে ছোট ও পীত বর্নের হয়।পাঁচ পাপড়ি যুক্ত ছোট স্ত্রী ও পুরুষ ফুল গুলো আলাদা আলাদা গাছে ফোটে।শীতের শেষে বৈঁচি গাছে ফল হয় এবং পাকতে শুরু করে এপ্রিল- জুন মাসে।ফলের শাঁস নরম ও সাদাটে রঙের হয়।কাঁচা ফল গোলাকার, সবুজ ও পাকলে গাঢ় বেগুনি বর্নের হয়। 

পুষ্টিগুন

অন্যান্য পুষ্টি উপাদানের সাথে সাথে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস রয়েছে।
 
উপকারিতা 

পাতা ও শিকড় ভেষজ ওষুধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও জন্ডিস, দাঁতের গোড়া ফোলা,বাত, নিমোনিয়া,ডায়রিয়া,কাশি,
হজম শক্তি বাড়াতে ও লিভারের রোগে উপকারী। 
তাছাড়াও বৈঁচি ফল দিয়ে জ্যাম-জেলি তৈরী করা হয়।

এই ফলের আরও কিছু তথ্য আপনাদের জানা থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করে জানাবেন। 

আজ এই খানেই শেষ করছি,আবার আসবো অন্য কোন ফলের তথ্য নিয়ে। সবাই ভালো থাকবেন।  

ছবি- গুগল থেকে সংগ্রহ করা। 
তথ্য- বিভিন্ন বই এবং ইন্টারনেট থেকে পড়ে লেখা।

বনসাই সম্পর্কে আলোচনা- অঙ্গন আমার প্রকৃতি

বনসাইঃ
বড় গাছের ক্ষুদ্র রুপ, বন অর্থ অগভীর পাএ এবং সাই অর্থ গাছ। 
🌺বনসাই গাছ নির্বাচঃ
🌷যে সমস্ত গাছের বাকল মোটা।
🌷 জীবনকাল দীর্ঘ, অনেক দিন বাচেঁ।
🌷 বিরুপ পরিবেেশে টিকে থাকে এবং কষ্ট, সহিঞ্চু।
যেমন বট, পাকুড়, তেঁতুল, ছাতিম, কামিনি, রঙ্গন, অশ্বথ, অর্জুন, চায়নাবট, জেডপ্লান্ট, ফাইকাস বেঞ্জামিনা, শেওড়া, তারামনি, ফুকেন টি ট্রি, বারবাডোসচেরী, প্রেমনা প্রভৃতি গাছপালা বনসাই এর উপযুক্ত।

🌷 বটবৃক্ষ সবচেয়ে উপযোগী। টবে এর লতা/ ঝুরি নামে। টবের ছোট্ট গাছে লতা/ঝুরি নামলে চমৎকার লাগে এবং একই সাথে গাছটির প্রাচীনত্ব তথা বয়স্কভাব ফুটে ওঠে।

🌺বনসাইয়ের চারা সংগ্রহঃ
🌳বনসাই তৈরীর  প্রাথমিক কাজ চারা সংগ্রহ। 
🌳পুরাতন অট্টালিকা, ভাঙ্গা প্রাচীর, পাথুরে জমি, পাহাড়ের খাদে বিরুপ পরিবেশে জন্মানো সংগ্রাম করে টিকে থাকা কষ্ট, সহিঞ্চু গাছ, যাদের যথেষ্ট বয়স হয়েছে অথচ তেমন বড় হয়নি , এমন ধরনের চারা বনসাই করার জন্য বেশী উপযুক্ত।
🌳 কিছু কিছু প্রজাতির গাছে গুটি কলম বা কাটিং করে চারা করা যেতে পারে।
🌳 সরকারী বা বেসরকারী  বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠত নার্সারী থেকে মোটা-গুড়ি, ঝোপালো, বেশি শাখা প্রশাখাযুক্ত, অপেক্ষাকৃত পরিণত, কম উচ্চতা বিশিষ্ট, গাছকে বনসাইয়ের জন্য নির্বাচন করা যেতে পারে।
🌳 বছরব্যাপি চারা সংগ্রহ করা যায়, তবে বর্ষাকাল উত্তম সময়।

🌺বনসাই গাছের মাটি তৈরি+ সার প্রয়োগঃ
🌳দোআঁশ মাটি+ভার্মি কম্পোস্ট /জৈবসার + হাড়েরগুড়া+ইটেরগুড়া+মোটাবালি
=৪৫%+৪০%+১০%+৫%
🌳টবের মাটি গাছের জন্য প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা সংরক্ষণ করবে এবং প্রয়োজন অতিরিক্ত পানি দ্রুত নিস্কাশিত হবে।
🌳 বৎরে একবার টবের মাটি ৩০ থেকে ৬০ ভাগ পরিবর্তন করুন।
🌳প্রতি মাসে (উচ্চতা ×প্রস্থ=১০×১৫ সেঃমিঃ) পটের মাটিতে ডিএপি+এমওপি+জিপসাম+বোরন+জিংক+খৈল=৩+২+১+০.৫+০.৫+১০ গ্রাম ভিজে রেখে তরল আকারে প্রয়োগ করা যেতে পারে।
🌳বৎসরে একবার টবের মাটিতে ৩ থেকে ৫ গ্রাম ডলোচুন প্রয়োগ করুন।

🌺পানি সেচ ও নিষ্কাশনঃ 
🌳গাছ শিকড় ও মূলরোমের মাধ্যমে মাটি থেকে তরল আকারে প্রয়োজনীয় খাদ্য গ্রহণ করে।
🌳মাটিতে গাছের প্রয়োজনীয় পানির অভাব হলে গাছ খাদ্য গ্রহন করতে পারেনা ফলে বৃদ্ধি বাধাপ্রাপ্ত হয়।
🌳আবার অতিরিক্ত পানি মাটিতে গাছের প্রয়োজনীয় বায়ু/অক্সিজেনের ঘাটতি হয় ফলে গাছ মারা যেতে পারে।
🌳গাছে নিয়মিত প্রয়োজন মতো পানি দিতে হবে।
🌳১ম বার জল দেওয়ার পর মাটি না শুকানো পর্যন্ত দ্বিতীয়বার জল দিবেন না।
🌳গাছে সাধারণত সকালে বা বিকালে প্রচন্ড সুর্যের তাপ পরিহার করে জল দেয়া উত্তম।
🌳বনসাই পট অগভীর হওয়ায় গ্রীষ্মে দিনে দুই থেকে তিনবার জল দেওয়া লাগতে পারে। 
🌳সপ্তা‌হে অনন্ত একবার সমস্ত গাছে জল স্প্রে করলে
পাতা সজীব থাকে পোকা ও রোগের প্রাদূর্ভাব কম হয়। 
🌳অতিরিক্ত বর্ষায় টবে জল জমতে দেয়া যাবে না, অতিরিক্ত জল নিস্কাশন ব্যবস্থা রাখতে হবে।
বনসাই প্রুনিং ও পাতা ছোট করণঃ
🌳 প্রুনিং গাছের প্রাজাতি ভেদে চারা রোপনের ১ম বছরেরে পর থেকে ৩০ থেকে ৪৫ দিন পরপর আবার বৎসরে ১ থেকে ২ বার প্রয়োজন হতে পারে। শীতকাল ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত প্রুনিং না করা ভালো।
🌳 প্রি-বনাই বা বনসাই (৩-৫) বৎসর হলে প্রুনিংয়ের নিয়ম মেনে গাছে কিছু কুড়ি রেখে সমস্ত পাতা ২ থেকে ৪ বার কেটে ফেলুন পাতা ছোট হয়ে আসবে।

🌺ডাল ও শিকড় কাটিংঃ
🌳Wheel Branch : কোন কোন সময় গাছের গোড়া বা কান্ড থেকে অনেকগুলো ডাল বের হয়। বনসাই স্টাইল অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ডালটি রেখে বাকি ডাল গুলো কাটিং করতে হবে। 
🌳Bar Branch : মুল কান্ডের দুই দিকেই সমান্তরাল ভাবে থাকে যে ডাল।
🌳Parallel Branch : মুল কান্ডের একদিকে পরপর সমান্তরাল ভাবে দুইটি ডাল।
🌳Upright Branch :খাঁড়াভাবে বা সোজা হয়ে ওঠে যাই এমন ডাল। 
🌳Down ward Branch : খাঁড়াভাবে নিচের দিকে নেমে গেছে এমন ডাল।
🌳Swindling Branch : গাছের যে ডালটি জোরে সোরে এবং সোজা হয়ে বাড়ছে ঐধরণের ডাল প্রয়োজন হলে কাটং করে ছোট করতে হবে। যদি প্রয়োজন না থাকে তা হলে গোড়া থেকে ডালটি সম্পূর্ণ কাটিং করতে হবে। 
🌳Crossing branch: আড়াআড়ি ডাল যা একটি অপরটিকে Cross করে ঐসমস্ত ডাল। 
🌳Crossing and Overlapping Root : আড়াআড়ি শিকড় যা একটি অপরটিকে Cross করে, মুল কান্ডকে পেঁচিয়ে থাকে এবং একটির উপর দিয়ে আর একটি অতিক্রম করে যে শিকড় ঐসমস্ত গুলি।
🌳Front Crossing Branch and Root : সামনের দিকে সোজাসুজি বা আড়াআড়ি ভাবে যে ডাল এবং শিকড় গুলো থাকে। 
🌳Recurve Branch and Root : যে সমস্ত ডাল এবং শিকড় যা পিছন থেকে সামনে এবং সামনে থেকে পিছনে ঘুরে গেছে ঐসব ডাল এবং শিকড়। 
🌳Front Branch and Root : গোড়ার দিক থেকে যে ডাল বা শিকড় সরাসরি সামনের দিকে সোজাসুজি থাকে ঐসব ডাল এবং শিকড় ।
বনসাই টবঃ
🌳 উচ্চতা ১০ সেঃ মিঃ দৈর্ঘ্য বা প্রস্থ ১৫ সেঃ মিঃ। তবে গাছের আকার আকৃতিতে টবের আকার আকৃতি পরিবর্তনশীল। 
🌳 টবের তলায় ১ সেঃমিঃ ব্যাসের ১ থেকে ৩ টি প্রয়োজন অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের ছিদ্র থাকতে হবে। টবের নিচে খুড়া বা স্টান্ড থাকা ভালো।
🌳টব হতেপারে পোড়া মাটির, চিনামাটির, সিরামিকের, সিমেন্ট +বালির, পিতলের, প্লাস্টিকের। 
🌳পোড়ামাটি, সিমেন্ট +বালির টবে মাটিতে প্রয়োজনীয় আলো-বাতাস চলাচলের কারনে মাটির অনুজীবীয় কার্যক্রম ঠিক থাকে গাছের বৃদ্ধি ভালো হয়।

🌺বনসাই স্টাইলঃ
 বনসাই শুরু করার আগে অবশ্যই বনসাই এর বিভিন্ন স্টাইল সম্পর্কে ভালো ধারণা থাকতে হবে। কারণ লক্ষ্য ঠিক না থাকলে যেমন কোনো কাজ সফল ভাবে সম্পূর্ণ করা যায় না তেমন বনসাই স্টাইল জানা না থাকলে আপনি সঠিক ভাবে কম সময়ে ভালো বনসাই তৈরি করতে পরবেন না। 
বনসাই এর কিছু স্টাইল
1.Formal Upright Style
2.Informal Upright Style
3.Cascade Style
4.Sami-Cascade Style
5.Broom Style
6.Slanting Style
7.Literity Style
8.Exposed Root Style
9.Root Over Rock Style
10.Wind_Swept Style
11.Weeping Style
12.Twin Trunk Style
13.Clump Style
14.Group Planting Style
15.Landscape Style.
16.Multi Trunk Style
17.Wield Fig Style
18.Dead Wood ইত্যাদি।
এই স্টাইল গুলোর নাম দিয়ে গুগল সার্চ দিলেই আপনি ধারণা পেয়ে যাবেন। 
🌳সব গাছ দিয়ে সব রকম স্টাইল হয় না। তাই যেই গাছ দিয়ে বনসাই করবেন সেই গাছ সম্পর্কে ভালো ভাবে জেনে বনসাই কার্যক্রম শুরু করুন। 
🌳সাধারনত অভিজ্ঞতা, দক্ষতা, হার্ড প্রুনিং, সুতাদ্বারা বাধা, তামার তারদিয়ে পেচাঁনো বিষয়গুলিতেই  বনসাই স্টাইল অনেকাংশে নির্ভরশীল।
🌳গাছের সব ডাল বা সবপ্রজাতির গাছ ওয়ারিং করা লাগে না। বর্ষাকালে গাছ ওয়ারিং থেকে বিরত থাকুন কারণ এই সময় ডালের নমনীয়তা কম থাকে।  ওয়ারিং দুই ভাবে করা যায় তার পেঁচিয়ে এবং টানা দিয়ে। তার পেঁচিয়ে ওয়ারিং করালে Maximum ৪০ দিন পর খুলে দেখুন, যদি ডাল ঠিকভাবে না থাকে পূনরায় ওয়ারিং করুন। 
🌳গাছের গ্রোথ ভালো থাকলে কম সময়ে ওয়ারিং হয়ে যায়। 

🌳খেয়াল রাখুন গাছে যেন গভীর দাগ না পরে। দাগ পড়লে গাছের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট হয়। তাই গাছে হালকা দাগ পরলেই খুলে দিবেন। উপযোগী ডাল ওয়ারিং করবেন, বেশি মোটা ডাল ওয়ারিং না করাই উত্তম।

কৃষিতে অ্যাজোলা বা নীল সবুজ শেওলার ব্যবহার- অঙ্গন আমার প্রকৃতি

কৃষিতে অ্যাজোলা বা নীল সবুজ শেওলার ব্যবহারঃ

আমাদের দেশের বেশির ভাগ কৃষকেরই অ্যাজোলা বা এর উপকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা নেই। সবার কাছে এটি অতি সাধারণ পানা। রাস্তার দুই পাশে কিংবা নিচু জলা জায়গায় দেখা যায় এক ধরনের খুদে পানা, যা নানা স্থানে প্রাকৃতিকভাবেই বেড়ে ওঠে। একে কেউ বলে সুতিপানা, কেউ বা তেঁতুলে পানা, আবার কারও কাছে শুধুই পানা। জলজ সবুজ কিংবা পাটল রঙের এই পানার বৈজ্ঞানিক নামই অ্যাজোলা। অ্যাজোলা পাতার খাঁজে খাঁজে থাকে নাইট্রোজেন বন্ধনকারী অণুজীব। নীল ও সবুজ শেওলা। ধানক্ষেতের জলেতে এদের ভাসমান অবস্থায় দেখা যায়। যখন এগুলো মারা যায় বা মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়, তখন এগুলো থেকে উৎপাদিত নাইট্রোজেন ধানগাছের উপকারে আসে।

ইউরিয়া সারের বিকল্প হিসেবে অ্যাজোলার ব্যবহার- ইউরিয়ার চাহিদা অ্যাজোলা দিয়ে মেটানো সম্ভব। অ্যাজোলার অঙ্গজ বিস্তারণ ক্ষমতা খুব চমৎকার; দিনে হেক্টরে প্রায় এক টন তাজা জৈব পদার্থের সমান। সঙ্গে বাতাস থেকে দুই কেজি নাইট্রোজেন ধরে রাখতে পারে, যা দিয়ে পাঁচ কেজি ইউরিয়ার কাজ চালানো যায়। এক হেক্টর অ্যাজোলার আস্তরণ তৈরি করতে ১০ থেকে ১৫ দিন সময় লাগে।ইউরিয়া মাটির উর্বরতা হ্রাস করে। নাইট্রেট মাটি ও জলের সঙ্গে মিশে পরিবেশের জন্য হুমকি তৈরি করে। অথচ অ্যাজোলা পরিবেশবান্ধব জৈব সারের বিকল্প হতে পারে। অ্যাজোলা বিষয়ে সাধারণ কৃষকদের ধারণা নেই। এ কারণে সবাই ইউরিয়া সারের প্রতি ঝুঁকছে। জৈব সারের অভাব পূরণ করে এই অ্যাজোলা। মাটিতে প্রচুর জৈব পদার্থ জমে। জল থেকে আর্সেনিক ছেঁকে নেয়। পাশাপাশি মাটির গুণ ভালো রাখে।এক হেক্টর জমিতে দেড় হাজার টাকার ইউরিয়ার প্রয়োজন পড়ে। অথচ একই পরিমাণ জমিতে এক হাজার কেজি অ্যাজোলা ব্যবহার করলে খরচ কমে আসবে অর্ধেকেরও বেশি।

মৎস্য উৎপাদনের খরচ কমাতে এ্যাজোলার ব্যবহার- প্রাকৃতিক জলাধার বিলুপ্তির কারণে মাছের ঘাটতি সৃষ্টি হয়েছে। মাছের ঘাটতি পুরণে গত কয়েক দশক ধরে শুরু হয়েছে কার্প (সিলভার কার্প, কাতলা, রুই,মৃগেল, কমন কার্প, গ্রাস কার্প ও থাই পুটি) জাতীয় মাছ চাষ। সম্প্রতি মাছের খাদ্য মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় মাছ চাষও হয়ে পড়েছে কষ্টসাধ্য। উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় চাপের মধ্যে রয়েছে মৎস্য চাষীরা। বিনা খরচে মাছ চাষের একটি অন্যতম উপাদান এ্যাজোলা। এ্যাজোলা প্রোটিন সমৃদ্ধ ও সুস্বাদু হওয়ায় কার্প জাতীয় মাছের প্রিয় খাদ্য। এক গভেষনায় দেখা গেছে পুকুর দৈনিক দু’বার মাছের দেহ ওজনের ৩ শতাংশ হারে এ্যাজোলা খাদ্য হিসেবে প্রয়োগ করার ফলে মাছের দৈহিক বৃদ্ধি ও চমৎকার।

গবাদি পশুর খাদ্য হিসাবে এ্যাজোলার ব্যাবহার- এ্যাজোলা ঘাসের চেয়েও ১০ গুণ পুষ্টি সমৃদ্ধ তাই ঘাসের বিকল্প হিসেবে ভাবা হচ্ছে এ্যাজোলা৷‌ এ্যাজোলায় অত্যাবশ্যকীয় এমাইনো এসিড, ভিটামিন (ভিটামিন এ, ভিটামিন বি-১২, বেটা-কেরোটিন) গ্রোথপ্রেমোটর, খনিজ উপাদান যেমন- ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, পটপশিয়াম, ফেরাস(লৌহ), জিঙ্ক পর্যাপ্ত পরিমানে থাকে। এ্যাজোলাতে ২৫-৩৫% প্রোটিন (On a dry weight basis), ১০-১৫% খনিজ পদার্থ, ৭-১০% এমাইনো এসিড, কাবোহাইড্রেট এরং চর্বি খুব কম পরিমানে থাকে। উচ্চমাত্রার প্রোটিন এবং কম পরিমানে লিগনিন থাকার কারনে গবাদি পশু সহজেই এ্যাজোলা পরিপাক করতে পারে। প্রতিদিনের স্বাভাবিক খাবারের সাথে ২-৩ কেজি এ্যাজোলা খাওয়ানোর ফলে দুধ উৎপাদন ১৫-২০% বৃদ্ধি পাওয়ার রেকর্ড রয়েছে। গরুর প্রচলিত স্বাভাবিক খাবারের ১৫-২০% এ্যাজোলা খাওয়ানো যেতে পারে এর ফলে খাদ্য খরচ অনেক কমে যাবে। দুধ উৎপাদনে কোন নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না। এমনকি এ্যাজোলা খাওয়ানোর ফলে গরুর  দুধ উৎপাদন ও দুধের গুণগতমান, গরুর স্বাস্থ্য ও আয়ু বেড়ে যায়। গো-খাদ্য হিসাবে অন্যান্য প্রচলিত খাদ্যের তুলনায় এ্যাজোলার পুষ্টিমান তুলনা করে দেখা যায় যে এ্যজোলার পুষ্টিমান ভালো। অ্যাজোলায় যেহেতু পুষ্টিগুণ বেশি, প্রথমের দিকে গরু, ছাগলকে অল্প অল্প করে অভ্যেস করানোর যেতে পারে। অভ্যাস হয়ে গেলে পরিমাণ মতো অ্যাজোলা দেওয়া যেতে পারে৷

হাঁস-মুরগির অপ্রচলিত খাদ্য হিসাবে এ্যাজোলার ব্যবহারঃ-  এ্যাজোলা খাওয়ানোর পর দেখা গেছে মুরগিকে সরবরাহকৃত সাধারণ খাদ্যের তুলনায় এ্যাজোলা খাওয়ানোর পর দৈহিক বৃদ্ধি দ্রুত হয়েছে এবং ওজন ১০-১২ % বেশি হয়েছে। ডিমের কুসুম বড় হয়েছে এবং ডিমের খোসা চকচকে বা আর্কষনীয় হয়েছে।
খাদ্য হিসাবে এ্যাজোলা ব্যবহার করে মাছ, দুধ, মাংশ, ডিম উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য উৎপাদনশীলতা বাড়ানো যেতে পারে।

Sunday, September 13, 2020

পদ্ম গুলঞ্চ লতা আয়ুর্বেদিকে তার কথোপকথন- অঙ্গন আমার প্রকৃতি

ওয়েব ডেস্ক, ১৩ সেপ্টেম্বর: পদ্ম গুলঞ্চ লতা, আয়ুর্বেদিকে অমরত্বের শিকড় !

প্রচলিত নামঃ গুলঞ্চ, গুভুচী, পদ্মগুলঞ্চ
ইউনানী নামঃ গেলূ
আয়ুর্বেদিক নামঃ গুডুচা, গুলঞ্চ
ইংরেজি নামঃ Moon Creeper/Bile Killer.
বৈজ্ঞানিক নামঃ Tinospora cordifolia (Willd.) Hook. f.
পরিবারঃ Menispermaceae

গুলঞ্চ লতা আম,  জাম,  নিম  গাছের ওপরে বেয়ে ওঠা লতানো গাছ। কান্ডের উপরিভাগ খসখসে ফাটল যুক্ত। বিস্কুট রং এর চামড়া। পাতা পানপাতার মত হৃদয় আকৃতির এবং লম্বা বোটা যুক্ত। লম্বা সুতার মত অসংখ্য বায়ুবীয় মূল যা ঝুলন্ত কান্ড থেকে মাটি পর্যন্ত বিস্তৃত। এই গাছে গ্রীষ্মকালে ফুল ফোটে এবং শীতকালে ফল পাকে। পূংকেশর এবং স্ত্রীকেশর ভিন্ন ফুলে থাকে। শ্রীলংকা, চীন, ভারত, বাংলাদেশ, মায়ানমার এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশে পাওয়া যায়।শীতকালে পাতা ঝরে যায়, বসন্তে নতুন পাতার সমাগম হয়।
পরিচিতিঃ এটি একটি দীর্ঘ লতানো উদ্ভিদ। সাধারনত অন্য গাছকে অবলম্বন করে বেড়ে ওঠে। পরিনত বয়সে লতাগুলো আঙুলের ন্যায় মোটা হয়। লতার গায়ের ছালগুলা কাগজের মত পাতলা। নিচে সবুজ এবং ভিতরে সাদা। স্বাদ তিক্ত ও পিচ্ছিল। পাতা সরল, একান্তর, অনেকটা পান আকৃতির, শীতকালে পাতা পড়ে, বসন্তে আবার নতুন পাতা বের হয়। ছোট হরিদ্রাভ সাদা ফুল ও মটরের মত বীজ হয়। ফল পাকলে লাল বর্ণের দেখায়।

রোপনের সময় ও পদ্ধতিঃ বীজ থেকে বর্ষার শেষে চারা গজায়। চারা লাগিয়ে চাষ করা যায়। আবার ডাল থেকেও নতুন গাছ জন্মানো যায়। মে-জুন মাসে গুলঞ্চ লতার কাটিং লাগাতে হয়।

রাসায়নিক উপাদানঃ লতায় একটি অ্যালকালয়েড, কিছু গ্লাইকোসাইড, স্টেরল ও বিভিন্ন তিক্ত রাসায়নিক দ্রব্য বিদ্যমান।
ব্যবহার্য অংশঃ পাতা ও লতা।

গুনের কথা: সকল প্রকার চর্মরোগ, পুরাতন বা জীর্ণ জ্বর, অরুচি, বাতের যন্ত্রনা, রক্তঅর্শ, ডায়াবেটিস, অগ্নিমান্দ্য, জন্ডিস, সোরিয়াসিস ও কৃমিতে উপকারী।
বিশেষ কার্যকারিতাঃ সকল প্রকার চর্মরোগ।

পটাশিয়াম  স্নায়ুবিক শক্তিবৃদ্ধি করে। 
ক্রমিয়াম শর্করা ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। 
আয়রন হেমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে ও ক্যালশিয়াম  স্নায়ু, হৃদযন্ত্র এবং পেশি শক্তি বৃদ্ধি করে।

এ গাছের রস বেশ তিতা তবে এর মধ্যে আছে এন্টি অকসিডেন্ট, এন্টিহাইপার গ্লাইসেমিক, এন্টি- নিওপ্লাসটিক, এন্টিডোট, এন্টি-প্লাসমোডিক, এন্টি-হাইপারটিক, এন্টি-এলার্জিক, এন্টি-ইনফ্লামেটরি, এন্টিহাইপার লাই পেডেমিয়া, এন্টি-এষ্ট্রেস  গুনাবলী।

আরো আছে এলকালয়েড, ডিটারপিনয়ড, ল্যাকটোনস, ষ্টেরয়েডস, গ্লাইকোসাইডস, এলিফ্যাটিক যৌগ এবং পলিসাকারাইড। 

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে জন্ডিস, ডায়াবেটিস, আর্থ-রাইটিস, ক্যান্সার, ডেঙ্গুজ্বর, আমাশয়, হেপাটাইটিস, চর্মরোগ, রক্তশূন্যতা, ব্রনকাইটিস, এজমা, পাইল্স, কিডনি রোগ, ও সাপের বিষের এন্টিডোট হিশাবে ব্যবহার হয়।

রোগ অনুযায়ী ব্যবহার পদ্ধতিঃ
রোগেরনামঃ সকল প্রকার চর্মরোগ
ব্যবহার্য অংশঃ কান্ড (কাঁচা)
মাত্রাঃ ৮-১০ গ্রাম
ব্যবহার পদ্ধতিঃ থেতো করে ১ কাপ জলে ভিজিয়ে রেখে পরবর্তীতে ভালো করে হাতে চিপে ছেঁকে নিয়ে জলটুকু সেবন করতে হবে, প্রত্যহ ২-৩ বার।

রোগেরনামঃ পুরাতন বা জীর্ণ জ্বরে
ব্যবহার্য অংশঃ পাতা/কান্ড (কাঁচা)
মাত্রাঃ ১০-২০ গ্রাম
ব্যবহার পদ্ধতিঃ থেতো করে ১ কাপ গরম জলে ৩/৪ ঘন্টা ভিজিয়ে রেখে পরবর্তীতে হাতে চিপে ছেঁকে নিয়ে জলটুকু সেবন করুন, প্রত্যহ ২-৩ বার।

রোগেরনামঃ কৃমি বিনাশে
ব্যবহার্য অংশঃ কান্ডের রস
মাত্রাঃ ১০-১৫ মিলি (২-৩ চা চামচ)
ব্যবহার পদ্ধতিঃ প্রত্যহ ২-৩ বার চিনিসহ সেব্য। (৫-৭ দিন)
পুস্টিকথা:
এ লতায় আছে আশঁ  প্রোটিন  এবং প্রতি ১০০ গ্রামে ২৯২.৫৪ ক্যালরির পুষ্টি শক্তি। এ লতায় আছে  নানা রকম রাসায়নিক যোগ যেমন জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ, ফ্লোরিন, ক্যালশিয়াম, টাইটানিয়াম, ক্রমিয়াম, আয়রন, কোবাল্ট, নিকেল, কপার, ব্রমিন, ষ্ট্রোনশিয়াম এবং পটাশিয়াম।

সেবন কথা:
১.সব ধরনের চর্মরোগে ৮ থেকে ১০ গ্রাম কাঁচা কাণ্ড থেঁতো করে ১ কাপ জলে ভিজিয়ে রেখে পরে হাতে চিপে ছেঁকে জলটুকু দিনে ২ থেকে ৩ বার পান করতে হবে। নিয়মিত এক মাস পান করলে চর্মরোগ সেরে যাবে।

২.কৃমি দূর করতে ২ থেকে ৩ চা চামচ গুলঞ্চের কাণ্ডের রস দিনে ২ থেকে ৩ বার চিনি মিশিয়ে খেলে কৃমি থাকবে না। কমপক্ষে ৫ থেকে ৭ দিন পান করতে হবে।

৩.শারীরিক দুর্বলতা দূর করতে গুলঞ্চের কাঁচা পাতার রস উপকারী।

৪.বহুদিনের বাতজ্বর বা থেমে থেমে জ্বরের চিকিৎসায় গুলঞ্চের কাণ্ড ব্যবহার হয়।

৫.জন্ডিস, হাত-পায়ে জ্বালাপোড়া, বহুমূত্র  গুলঞ্চের কাঁচা পাতা ও কাণ্ড দুটোই ব্যবহার হয়।

৬.চর্মরোগ, শ্বাসনালির অনিয়ম রোগে ব্যবহৃত হয়।

৭.বোধশক্তি উন্নত করতে গুলঞ্চের কাঁচা পাতা রস ব্যবহার হয়।

৮.কাঁচা কাণ্ডের রস মূত্র বৃদ্ধিকারক। 

পান করার পরিমাণঃ
পাতার রস ২ থেকে ৩ চামচ এবং কাঁচা পাতা বা কাণ্ড ৮ থেকে ১২ গ্রাম পান করতে হবে। তাজা গুলঞ্চ ব্যবহার করা ভালো।
জ্বর হলে পাতা ভাজি করে খাওয়ানো হয়।  লতা ছেঁচে রস করে খাওয়ানো হয়।নির্দিষ্ট মাত্রার বেশি পান করা উচিত ময়।

গুলঞ্চ লতা সমগ্র বিশ্বের মানব জাতির জন্যে রোগ নিরাময়ের এক আশীর্বাদ স্বরূপ কাজ করে।

নানা ধরনের ক্রোটন চাষ, কীভাবে পরিচর্যা করবেন - অঙ্গন আমার প্রকৃতি

নানা ধরনের ক্রোটন (Croton) – পরিচিতি, লাগানোর পদ্ধতি ও ব্যবহার ক্রোটন (Codiaeum variegatum) একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় শোভাবর্ধক পাতা...